শুভমন গিল ১৬১। ৬ উইকেটে ৪২৭ রানে ইনিংস ডিক্লেয়ার। ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ৬০৮। শুভমান গিলের ব্যাটে ফের শতরান। একাধিক রেকর্ড শুভমান গিলের। ১২৯ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন। এই শতরানে অনন্য নজির স্পর্শ করলেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলমান টেস্ট সিরিজে ৫০০ রান করে বিরাট কোহলির সঙ্গে সম আসনে ভারতের টেস্ট অধিনায়ক শুভমান গিল। দ্বিতীয় ভারতীয় টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ব্যক্তিগত ৭৬ রান করে গিলের মাইলফলক স্পর্শ। সাজঘরে ফিরলেন ১৬১ রানে। গিলের সেঞ্চুরির পর বিশাল লিড। ২০১৮ সালে ইংল্যান্ড সফরে কোহলি করেছিলেন ৫৯৩ রান। এখনও পর্যন্ত ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনও ভারতীয় অধিনায়কের সর্বোচ্চ রান। প্রথম ইনিংসে গিল ২৬৯ রান ও দ্বিতিয় ইনিংসে ১৬১ রানে ফের সেঞ্চুরি করে এলিট ক্লাসে গিল। চতুর্থ দিনের শুরুতে ২৬ রানে সাজঘরে ফেরেন করুণ নায়ার। অন্যদিকে, হাফসেঞ্চুরি করলেও বড় ইনিংস গড়ার আগেই আউট হয়ে যান কেএল রাহুল (৫৫)। ঋষভ পন্থ ৬৫ কে নিয়ে ১১০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন গিল। দ্বিতীয় ইনিংসেও দুর্দান্ত খেলেন রবীন্দ্র জাদেজা ৬৯ অপরাজিত, অন্য রেকর্ডের মালিক। এক টেস্টে ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেছেন। গিলের আগে কোনও এক টেস্টে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন সুনীল গাভাসকর। ১৯৭১ সালে পোর্ট অফ স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একটি টেস্টে ৩৪৪ রান করেছিলেন সানি। এরপর তালিকায় ভিভিএস লক্ষ্মণ এবং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০০১ সালে কলকাতায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে লক্ষ্মণ করেন ৩৪০ রান। ২০০৭ সালে বেঙ্গালুরুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সৌরভ করেন ৩৩০ রান। সব রান টপকে এজবাস্টন টেস্টে গিল একাই করলেন ৪৩০ রান। ভারতের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক সিরিজে সর্বাধিক রান করে পিছনে ফেলেছেন বিরাট কোহলিকে।
এই টেস্টে ৪৩০ রান করেছেন ভারত অধিনায়ক। বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। শুভমনই বিশ্বের একমাত্র ব্যাটার যিনি এক টেস্টের দুই ইনিংসে দ্বিশতরান ও ১৫০-এর বেশি রানের ইনিংস খেললেন। এর আগে এক টেস্টের দুই ইনিংসে ১৫০-এর বেশি রানের ইনিংস খেলেছিলেন একমাত্র অ্যালান বর্ডার। ১৯৮০ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে করেছিলেন বর্ডার। শুভমনের কীর্তি এখনও পর্যন্ত কেউ করতে পারেননি। এশীয় ব্যাটারদের মধ্যে এশিয়ার বাইরে এক টেস্টে সর্বাধিক রান করেছেন শুভমন। ছাপিয়ে গিয়েছেন সুনীল গাওস্করকে। ১৯৭১ সালে পোর্ট অফ স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে এক টেস্টে ৩৪৪ রান করেছিলেন তিনি। শুভমন ছাড়া এশিয়ার আর এক জনেরই এক টেস্টে ৩৫০ রানের বেশি রয়েছে। ১৯৫৮ সালে ব্রিজটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে এক টেস্টে ৩৫৪ রান করেছিলেন পাকিস্তানের হানিফ মহম্মদ। তাঁকে ছাপিয়ে গিয়েছেন শুভমন। অধিনায়ক হিসাবে প্রথম বার খেলতে নেমে মাত্র দুটো টেস্টেই ৪৩০ রান করেছেন শুভমন। ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে এই তালিকায় এত দিন শীর্ষে ছিলেন কোহলি। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অধিনায়ক হিসাবে ৪৪৯ রান করেছিলেন। সেই সিরিজের মাঝপথে অধিনায়ক হয়েছিলেন কোহলি। চারটে ইনিংসে এই রান করেছিলেন। তৃতীয় ভারতীয় ব্যাটার হিসাবে এক টেস্টের দুই ইনিংসেই ১০০-এর বেশি রানের ইনিংস খেলেছেন শুভমন। এর আগে ১৯৭৮ সালে কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে গাওস্কর ও ২০১৪ সালে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কোহলি এক টেস্টের দুই ইনিংসেই ১০০-এর বেশি রানের ইনিংস খেলেছিলেন। বিশ্বের দ্বিতীয় অধিনায়ক শুভমন যিনি প্রথম দুই টেস্টের তিনটে ইনিংসে ১০০-এর বেশি রান করেছেন। এর আগে একমাত্র কোহলি এই কীর্তি করেছিলেন। আরও সাত অধিনায়ক রয়েছেন যাঁরা নিজেদের প্রথম দুই টেস্টের দুই ইনিংসে ১০০-এর বেশি রান করেছিলেন। বিজয় হজারে, জ্যাকি ম্যাকগ্লু, গ্রেগ চ্যাপেল, গাওস্কর, অ্যালিস্টার কুক, স্টিভ স্মিথ ও ধনঞ্জয় ডি’সিলভা। শুভমন বিশ্বের নবম ব্যাটার হিসাবে এক টেস্টে দ্বিশতরান ও শতরান করেছেন। ভারতের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসাবে এই কীর্তি করেছেন ১৯৭১ সালে গাওস্কর ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে এক টেস্টে দ্বিশতরান ও শতরান করেছিলেন।শুভমন বিশ্বের দ্বিতীয় অধিনায়ক যিনি ইংল্যান্ডের মাটিতে এক টেস্টে দ্বিশতরান ও শতরানের ইনিংস খেলেছেন। এক আগে গ্রাম গুচ ১৯৯০ সালে লর্ডসে ভারতের বিরুদ্ধে এই কীর্তি করেছিলেন। ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে শুভমনই প্রথম এই নজির গড়েছেন।
এজবাস্টন টেস্টে শুভমন গিলের রেকর্ড
১) ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একই টেস্টে দ্বিশতরান এবং ১৫০ রানের বেশি ইনিংস খেলার নজির গড়লেন গিল।
২) প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটল। একই ম্যাচে কেউ একটি ইনিংসে ২৫০ রানের বেশি এবং ১৫০ রানের বেশি করলেন। গিলের আগে ২০২৩ সালে অসমের ধ্রুব শোরে দিল্লির বিরুদ্ধে সেই নজির গড়েছিলেন।
৩) দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে একই টেস্টের দুটি ইনিংসেই ১৫০ রানের বেশি করলেন গিল। প্রথমবার সেই নজির গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বর্ডার (পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, ১৯৮০ সাল)।
৪) একই টেস্টে সর্বোচ্চ রানের স্কোরের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেন গিল। শীর্ষে আছেন গ্রাহাম গুচ (৪৫৪ রান)। গিল করেছেন ৪৩০ রান।
৫) অধিনায়ক হিসেবে প্রথম দুটি টেস্টে তিনটি শতরান: দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে সেই নজির গড়লেন গিল। প্রথম সেই কাজটা করেছিলেন বিরাট কোহলি (অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে)।
৬) নবম খেলোয়াড় হিসেবে একই টেস্টে দ্বিশতরান এবং শতরান করলেন গিল।
৭) দ্বিতীয় ভারতীয় খেলোয়াড় হিসেবে একই টেস্টে ডবল সেঞ্চুরি এবং সেঞ্চুরি হাঁকালেন গিল। ১৯৭১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথমবার সেই কাজটা করেছিলেন সুনীল গাভাসকর।
৮) দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে ইংল্যান্ডে কোনও টেস্টে শতরান এবং দ্বিশতরান করার নজির গড়লেন গিল। প্রথম যিনি সেই নজির গড়েছিলেন, তিনি হলেন গ্রাহাম গুচ। ভারতের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে লর্ডসে সেই নজির গড়েছিলেন। দু’জনেই অধিনায়ক।
৯) দ্বিতীয় এশিয়ান ব্যাটার হিসেবে উপমহাদেশের বাইরে একই টেস্টে ৩৫০ রানের বেশি রান করলেন গিল। প্রথমবার সেই কাজটা করেছিলেন পাকিস্তানের হানিফ মহম্মদ। ১৯৫৮ সালে ব্রিজটাউনে সেই নজির গড়েছিলেন।
১০) ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে একই টেস্টে সর্বোচ্চ রান করে ফেললেন গিল। মোট ৪৩০ রান করেছেন। এতদিন সেই তালিকার শীর্ষে ছিলেন বিরাট কোহলি। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২৯৩ রান করেছিলেন।
১১) তৃতীয় ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে একই টেস্টের দুই ইনিংসে শতরানের নজির গড়লেন গিল। সুনীল গাভাসকর, বিরাট কোহলির তালিকায় গিলের নাম জুড়ে গেল।
১২) ইংল্যান্ডে একটি টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় তিনে উঠে এলেন গিল। এখনও পর্যন্ত ৫৮৫ রান করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে আছেন বিরাট কোহলি (৫৯৩ রান)। শীর্ষে আছেন রাহুল দ্রাবিড় (৬০২ রান)।
১৩) রাহুল দ্রাবিড় (৩০৫ রান) এবং সচিন তেন্ডুলকরের (৩০১ রান) পরে তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে ‘সেনা’ দেশে একই টেস্টে ৩০০-র বেশি রান করলেন গিল।
১৪) প্রথম এশিয়ান অধিনায়ক হিসেবে ইংল্যান্ডে তিনটি শতরান করলেন গিল।
১৫) অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক সিরিজে সর্বোচ্চ রানের নিরিখে বিরাটকে ছাপিয়ে গেলেন গিল। ২০১৪-১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চারটি ইনিংসে ৪৪৯ রান করেছিলেন বিরাট। এবার চারটি ইনিংসে ৫৮৫ রান করে ফেলেছেন গিল।
১৬) দেশের বাইরে টেস্টে সিরিজে সর্বোচ্চ শতরান: বিরাটকে ছুঁয়ে ফেললেন গিল। ২০১৪-১৫ সালে অজিদের বিরুদ্ধে তিনটি শতরান হাঁকিয়েছিলেন। গিলও এই সিরিজে তিনটি শতরান করে ফেলেছেন।
১৭) এশিয়ান ব্যাটার হিসেবে একই টেস্টে সর্বোচ্চ রানের নজির গড়লেন গিল।
১৮) প্রথম ভারতীয় হিসেবে একই টেস্টে ৪০০ রানের বেশি করলেন গিল। সার্বিকভাবে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে সেই নজির গড়লেন – গুচ, গিল, মার্ক টেলর, কুমার সাঙ্গাকারা এবং ব্রায়ান লারা।
১৯) একই টেস্টে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ছক্কা: শীর্ষে আছেন রোহিত শর্মা (১৩টি ছক্কা, বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, বিশাখাপত্তনম, ২০১৯ সাল)। তারপর আছেন যশস্বী জয়সওয়াল (১২টি ছক্কা, বনাম ইংল্যান্ড, রাজকোট. ২০২৪ সাল)। তিনে আছেন গিল (১১টি ছক্কা, বনাম ইংল্যান্ড, এজবাস্টন, ২০২৫ সাল)।
একটি টেস্টে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড
১) ৪৩০ রান: শুভমন গিল, বনাম ইংল্যান্ড, এজবাস্টন, ২০২৫ সাল।
২) ৩৪৪ রান: সুনীল গাভাসকর, বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পোর্ট অফ স্পেন, ১৯৭১ সাল।
৩) ৩৪০ রান: ভিভিএস লক্ষ্মণ, বনাম অস্ট্রেলিয়া, কলকাতা, ২০০১ সাল।
৪) ৩৩০ রান: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, বনাম পাকিস্তান, বেঙ্গালুরু, ২০০৭ সাল।
৫) ৩১৯ রান: বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, চেন্নাই, ২০০৮ সাল।
বৈভব সূর্যবংশীরও বিশ্ব রেকর্ড। এ যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আইপিএলে হোক বা ভারতের জার্সিতে। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটেও ‘বিস্ময় প্রতিভার’ দাপট অব্যাহত। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ৫২ বলে সেঞ্চুরি হাঁকাল। তৈরি করল বিশ্বরেকর্ডও। ছক্কার বিরল রেকর্ড পন্থের, টপকে গেলেন ইংরেজ অধিনায়ককে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ ওয়ানডেতে আয়ুষ মাত্রের সঙ্গে ওপেন করেছিল বৈভব। মাত্রে ৫ রানে আউট। বৈভবের বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট। ৫২ বলে সেঞ্চুরি হাঁকায় বৈভব। তরুণদের ওয়ানডে ক্রিকেটে রেকর্ড। পাকিস্তানের কামরান গুলাম ৫৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে দিল ভারতের ১৪ বছরের ক্রিকেটার। সেঞ্চুরি করেই থামেনি। শেষ পর্যন্ত ৭৮ বলে ১৪৩ রান করে বৈভব। ১৩টি চারের পাশাপাশি হাঁকায় ১০টা ছক্কা। শুরুর ধাক্কা সামলে বৈভব যখন আউট হয়, তখন ভারতের রান ২৩৪। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেয় ভিহান মালহোত্রাও। ১২১ বলে ১২৯ রান করে সে। ভারত তোলে ৩৬৩ রান। ইংল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ভালো ফর্মে আছে বৈভব। এর আগের তিন ম্যাচে করেছে ১৭৯ রান। তার রান যথাক্রমে ৪৮, ৪৫ ও ৮৬। তৃতীয় ওয়ানডেতে বৈভব একাধিক রেকর্ড গড়েছে। সেই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছিল মাত্র ২০ বলে। যা অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম। সেঞ্চুরিও হয়ে গেল। আইপিএলে সাত ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিল বৈভব। সব মিলিয়ে তার নামের পাশে ছিল ২৫২ রান। গড় ৩৬। তার মধ্যে একটা সেঞ্চুরি এসেছিল ৩৫ বলে। ২০৬.৫৬ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছিল ১৪ বছরের এই তারকা। আইপিএলে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক করে নজির গড়ে বৈভব।
এজবাস্টনে ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট দেখতে এসেছিল বৈভব সূর্যবংশী। চোখের সামনে দেখেছিল শুভমন গিলের দ্বিশতরান এবং ধ্রুপদী টেস্ট ইনিংস। পরে ভারতীয় বোর্ডের এক ভিডিয়োয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হৃষীকেশ কানিতকরও বলেছিলেন, কী ভাবে সব বলে না চালিয়েও খেলা যায় তা ছেলেদের শেখাবেন। সে কথা তিনি বৈভবদের বলেছেন কি না জানা নেই। তবে শনিবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় এক দিনের ম্যাচে দাপুটে শতরান করতে দেখা গেল বৈভবকে। ধরে খেলার কোনও চেষ্টাই করেনি সে। জোড়া নজির গড়ে ফেলেছে বৈভব। ৭৮ বলে ১৪৩ রান করে আউট হয়েছে সে।
১৪ বছরের বৈভব শতরান করেছে ৫২ বলে। প্রায় দুশোর কাছাকাছি স্ট্রাইক রেট। উরস্টারে এই ইনিংসে জোড়া নজির ভেঙে দিয়েছে বৈভব। যুব এক দিনের ক্রিকেটে দ্রুততম ব্যাটার হিসাবে শতরান করেছে। ভেঙে দিয়েছে পাকিস্তানের কাসিম আক্রমের নজির। ২০২২-এ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৬৩ বলে শতরান করেছিলেন কাসিম। বৈভব তাঁর থেকে ১১ বল কম খেলেছে। যুব এক দিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে শতরান করল বৈভব। ১৪ বছর ১০০ দিন বয়সে শতরান করেছে সে। আগের নজির ছিল বাংলাদেশের নাজমুল হোসেন শান্তর। তিনি ২০১৩-য় ১৪ বছর ২৪১ দিন বয়সে শতরান করেছিলেন। ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে শতরানের নজির ছিল সরফরাজ খানের। ২০১৩-য় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৫ বছর ৩৩৮ দিন বয়সে শতরান করেছিলেন। ভারতের ইনিংসের ১৯তম ওভারে রালফি অ্যালবার্টের বলে এক রান নিয়ে শতরান পূরণ করে বৈভব। শতরানের আগে কিছুটা ধীরে খেলেছে সে। না হলে আরও আগে শতরান করে ফেলতে পারত। শতরানের পথে ১০টি চার এবং সাতটি ছয় মেরেছে বৈভব। একশো পেরোনোর পরেই লাফ মারে বৈভব। হেলমেট খুলে দর্শকদের উদ্দেশে চুমু ছুড়ে দেয়। দর্শকেরাও হাততালি দিয়ে অভিবাদনে ভরিয়ে দেন তাকে। রোজ রোজ এ রকম ইনিংস চোখের সামনে দেখা যায় না। বৈভবের ইনিংসের শুরুটা হয়েছিল বেশ ধীর গতিতেই। উরস্টারের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় নেয়। তার পরেই শুরু করে আক্রমণ। বৈভবের শট মাঠের চার ধারে উড়ে যেতে থাকে। স্পিনার হোন বা পেসার, ইংল্যান্ডের কেউই বৈভবের আক্রমণ থেকে বাঁচেননি। তাকে কী ভাবে আটকানো যাবে তার উত্তরই খুঁজে পাননি কেউ। শুরুতে ওপেনার আয়ুষ মাত্রে ফিরে গেলেও বিহান মলহোত্রের সঙ্গে জুটি বেধে শতরান সম্পূর্ণ করে বৈভব। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিটি যুব এক দিনের ম্যাচেই রান পেয়েছে বৈভব। প্রথম দু’টি ম্যাচে অল্পের জন্য অর্ধশতরান পায়নি। যথাক্রমে ৪৮ এবং ৪৫ রান করে। তৃতীয় ম্যাচে শতরানের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েও তিন অঙ্কে পৌঁছতে পারেনি। ৮৬ রানে আউট হয়ে যায়। চতুর্থ ম্যাচে স্বপ্নপূরণ হল বৈভবের।
এজবাস্টনে প্রথম ইনিংসে রান না পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে নজির গড়লেন ঋষভ পন্থ। ভেঙে দিলেন বেন স্টোকসের রেকর্ড। কেএল রাহুল আউট হওয়ার পর খেলতে নামেন পন্থ। ক্রিজ়ে যোগ দেন শুভমন গিলের সঙ্গে। প্রথম বল থেকেই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে থাকেন তিনি। তৃতীয় বলেই চার মারেন জশ টংকে। পরের বলটাই বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দেন। এই ছয়ের সঙ্গেই নজির গড়ে ফেলেন পন্থ। টেস্টে কোনও একটি দেশের বিরুদ্ধে সেই দেশের মাঠে সর্বাধিক ছয় মারার নজির গড়লেন পন্থ। ইংল্যান্ডে ২৩টি ছয় হয়ে গেল তাঁর। কোনও একটি বিদেশের মাটিতে ছয় মারার নিরিখে নজির গড়লেন পন্থ। স্টোকস দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ২১টি ছয় মেরেছেন। ভারতের মাটিতে ১৯টি ছয় রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার ম্যাথু হেডেনের। ভিভ রিচার্ডসের ইংল্যান্ডে ১৬টি ছয় রয়েছে। হ্যারি ব্রুক নিউ জ়িল্যান্ডে গিয়ে ১৬টি ছয় মেরেছেন। স্টোকসের রেকর্ড ভেঙেছেন পন্থ। এজবাস্টন টেস্টের আগে প্রশংসা করে স্টোকস বলেছিলেন, ‘‘ঋষভ আমার প্রতিপক্ষ হলেও ওর ব্যাটিং খুবই পছন্দ করি। যে কোনও ফর্ম্যাটেই অসাধারণ ক্রিকেট খেলে। ও নিজের খেলার ধরনের বাইরে বেরোয় না। এই ধরনের ক্রিকেটারকে স্বাধীনতা দেওয়া হলে ওরা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। গত সপ্তাহে ও মনের মতো ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছে। ও যে কোনও মুহূর্তে আউট হতে পারে। কিন্তু ওর দিনে যে কোনও প্রতিপক্ষকে ধ্বংসও করে দিতে পারে। ওর মতো ভয়ঙ্কর ক্রিকেটার খুব একটা দেখা যায় না।’’
চতুর্থ দিনের শেষে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান করে। ভারতের হাতে এক দিন অর্থাৎ ৯০ ওভার। তুলে নিতে হবে সাতটি উইকেট। অপরপক্ষে ইংল্যান্ডকে করতে হবে ৫৩৬ রান।




