Sunday, July 12, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বয়স ধরে রাখতে খুবই প্রয়োজন!‌ বার্ধক্য বা বয়স বৃদ্ধি আসলে ধাপে ধাপে ঘটে

বয়স বাড়ে ধীরে ধীরে এমনটাই এতদিন ধরে ধারণা ছিল বিজ্ঞানীদের। কিন্তু সম্প্রতি ‘নেচার মেডিসিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক বিপ্লবী গবেষণা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ল। জানানো হয়েছে, বার্ধক্য বা বয়স বৃদ্ধি আসলে ধাপে ধাপে ঘটে তিনটি নির্দিষ্ট বয়সে শরীরে ঘটে যায় বড়সড় জৈবিক পরিবর্তন। প্রায় ৪ হাজার ২৬৩ জন ১৮ থেকে ৯৫ বছর বয়সি মানুষের রক্তের প্লাজমা পরীক্ষা করে গবেষকরা দেখেছেন, শরীরের প্রোটিন স্তরের হঠাৎ পরিবর্তন ঘটে তিনটি নির্দিষ্ট বয়সে ৩৪, ৬০ এবং ৭৮ বছর বয়সে। এই সময়গুলোতে শরীরে এক ধরনের ‘জৈবিক ঢেউ’ ওঠে, যা প্রভাব ফেলে মেটাবলিজম, হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, এমনকি মস্তিষ্কের কার্যকারিতার উপরও। গবেষণার সহলেখক এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী টনি উইশ-কোরে জানিয়েছেন, “আমরা এতদিন ভেবেছিলাম বয়স বাড়ে একটানা ভাবে, আসলে তা নয়। একেকটি ধাপে শরীর যেন এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে।” এই আবিষ্কারে নতুন আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, এই বয়স-নির্দিষ্ট ‘টার্নিং পয়েন্ট’ চিহ্নিত করা গেলে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা, জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়ে দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ বার্ধক্য অর্জন করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বার্ধক্য আসলে এক টানা পতন নয়, বরং একের পর এক রূপান্তরের গল্প। আর সেই প্রতিটি রূপান্তরই হতে পারে রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য রক্ষার নতুন সুযোগ। এই চমকপ্রদ আবিষ্কার ভবিষ্যতের চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বার্ধক্য বিষয়ক গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই মনে করছেন গবেষকরা।

অতিরিক্ত কোলেস্টেরল দেহের রক্তনালীতে জমা হয় প্লাক তৈরি করে। এই প্লাক রক্তসঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটায়, যা ডেকে আনে হৃদরোগ। এতদিন এই ধরনের রক্তনালির ব্লকেজ দূর করতে অস্ত্রোপচার করাই ছিল বিধেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী ভবিষ্যতে অতিক্ষুদ্র এক ধরনের যন্ত্র দিয়েই গলিয়ে দেওয়া যাবে এই ব্লকেজ। শরীরে ঢুকবে এক ক্ষুদ্র যন্ত্র, তারপর ব্যালিস্টিক মিসাইলের মতো পৌঁছে যাবে জমে থাকা কোলেস্টেরলের দলা তথা প্লাকের কাছে। আর তারপর? ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে সেই মৃত্যুফাঁদ! সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড এবং মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা যৌথভাবে এমনই এক ন্যানো-থেরাপির সাফল্যের কথা ঘোষণা করেছেন। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে আশা তাঁদের। ক্ষেপণাস্ত্রটি আসলে মাইক্রস্কোপিক মেডিক্যাল ডিভাইস। আকারে একবিন্দু ধূলিকণার মতো হলেও এর ক্ষমতা কিন্তু কম নয়। এটিকে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে রক্তনালিতে জমে থাকা ‘প্লাক’ অর্থাৎ কোলেস্টেরল ও মৃত কোষের স্তর ধ্বংস করতে। এখনও পর্যন্ত প্রথম ধাপে শূকরের উপর পরীক্ষা করা হয়েছে এই পদ্ধতি। গবেষকদলের সদস্য ডঃ জেমস লি জানিয়েছেন, “এই প্রযুক্তি রক্তনালির ভেতর থেকে সরাসরি প্ল্যাকের উপর প্রভাব ফেলে, অস্ত্রোপচার ছাড়াই ব্লকেজ ধ্বংস করতে পারে। মানুষের উপর পরীক্ষা না করা হলেও শূকর-এর উপর এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।” পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাত্র ১২ সপ্তাহে এই ন্যানোথেরাপি শূকরের রক্তনালিতে জমা ব্লকেজ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছে। প্ল্যাক ছোট হয়েছে, প্রদাহ কমেছে, এমনকি কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য এক বড় সাফল্য। বিশ্বখ্যাত ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাটি।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ঝালের পক্ষেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ঝাল খেলে শরীর নানাভাবে উপকৃত হতে পারে। এর নেপথ্যে রয়েছে লঙ্কাতে থাকা ‘ক্যাপসাইসিন’ নামের একটি প্রাকৃতিক যৌগ। ঝালের বিশেষ গুণের কথা জানলে হয়তো পরের বার আর কাঁচালঙ্কা পাতে নিতে দ্বিধা করবেন না। ঝাল খাবার খাওয়ার পরেই কি শরীরে একটা গরম ভাব অনুভব করেন? এর কারণ, ঝাল খেলে ‘থার্মোজেনেসিস’ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ক্যাপসাইসিন শরীরে এই প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে, যা দেহের বিপাক হার বা মেটাবলিজম বাড়িয়ে দেয়। সহজ কথায়, শরীর আরও বেশি ক্যালোরি পোড়াতে শুরু করে। পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে ঝাল খেলে তা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। ক্যাপসাইসিন রক্তনালীকে প্রসারিত করে রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থা ভাল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, রক্তে থাকা খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতেও সহায়তা করে এই যৌগ। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত ঝাল খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমতে পারে। ঝাল লাগলে জিভ জ্বালা করে বটে, কিন্তু জানেন কি ক্যাপসাইসিন ঝাল হলেও ব্যথা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। আসলে ঝালের চোটে স্নায়ুতন্ত্রের ব্যথার সঙ্কেতকে সাময়িকভাবে অবশ হয়ে যায়। এই কারণেই আর্থ্রাইটিস, স্নায়ুর ব্যথা এমনকি মাইগ্রেনের চিকিৎসাতেও ক্যাপসাইসিন ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ব্যথা কমানোর ক্রিমেও এই উপাদান ব্যবহার করা হয়। শুধু কি তাই? দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগও নিয়ন্ত্রণে থাকে নিয়মিত লঙ্কা খেলে। কারণ ক্যাপসাইসিন দেহে হ্যাপি হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝালের উপকারিতা পেতে পরিমিতিবোধ জরুরি। যাঁদের গ্যাস, অম্বল, আলসার বা ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’-এর মতো হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ঝাল এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। অতিরিক্ত ঝাল খেলে পেটে জ্বালা, ব্যথা বা ডায়েরিয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।

মানসিক চাপ কমাতে হবে? ওষুধ ছাড়াই কিন্তু তা সম্ভব। কোনও থেরাপিরও প্রয়োজন নেই। কেবলমাত্র তিনটি পাতা চিবিয়ে বা জলে ভিজিয়ে খেতে হবে। তা হলেই উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা শত যোজন দূরে পালাবে। কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ কমাতে পারে তুলসীপাতা। গবেষণা তাই বলছে। কর্টিসল হল ‘স্ট্রেস হরমোন’। এর ক্ষরণ বাড়লেই মানসিক চাপ, উদ্বেগ বাড়তে থাকে। তবে কর্টিসলের কিন্তু আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। এই হরমোন নির্গত হয় অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে। সঠিক মাত্রায় ক্ষরিত হলে শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এই হরমোন কতটা বেরোবে, সেই মাত্রা আবার নিয়ন্ত্রণ করে পিটুইটারি গ্ল্যান্ড। সেখানে থাকা এসিটিএইচ (অ্যাড্রিনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন) নিয়ন্ত্রণ করে, কর্টিসল কখন, কত পরিমাণে বেরোবে। মানুষের শরীরের রক্তচাপ, বিপাকহার, ফ্যাট বা শর্করার মাত্রা ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা স্থির করে দেয় কর্টিসলের ক্ষরণ। কিন্তু গোলমালটা বাধে, যখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত কর্টিসল বেরোতে শুরু করে। তখনই মানসিক চাপ, উত্তেজনা বাড়ে। হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে, অর্থাৎ হাইপারকর্টিসলিজ়ম হলে তাকে বলা হয় কুশিং’স সিনড্রোম। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে মানসিক স্বাস্থ্যে। রজোনিবৃত্তিও পিছিয়ে দেওয়া যায়! কর্টিসলের ক্ষরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যে এই হরমোনের প্রভাব নিয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থের একটি গবেষণাপত্র রয়েছে। সেখানে গবেষকেরা জানিয়েছেন, কর্টিসলের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ বেশি খেলে তার অন্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিন্তু সে জায়গায় তুলসীপাতা খেলে উপকার হবে বেশি। কোনও রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রিত হবে এবং অত্যধিক উত্তেজনাও কমে যাবে। অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার রয়েছে এমন মানুষজনের উপরে পরীক্ষা করেন গবেষকেরা। তাঁদের নিয়মিত তিনটি করে তুলসীপাতা খাওয়ানো হয়। দেখা যায়, প্রতি বারই তুলসীপাতা খাওয়ার ৪০ মিনিটের মাথায় তাঁদের দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা কমেছে। এমনকি ৮ সপ্তাহ টানা ট্রায়ালের পরে দেখা যায়, তাঁদের শরীরে কর্টিসল হরমোন ক্ষরণের মাত্রাও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তুলসীপাতার কয়েকটি উপাদান, যেমন ইউজেনল, ক্যাম্ফেইন, সিনেওল, ক্যাম্ফর জাতীয় উপাদান মানসিক চাপ কমাতে যেমন সাহায্য করে, তেমনই মাইগ্রেনের সমস্যাও কমাতে পারে বলে দাবি গবেষকদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles