Sunday, July 12, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ানদের বিরুদ্ধে ইডেনে টেস্ট ম্যাচ, নেপথ্যে সিএবি প্রেসিডেন্ট!‌ বেঙ্গল প্রো টোয়েন্টি সেমিফাইনাল ও ফাইনালে চমক!‌ ইডেনে টসে থাকছেন সারা আলি খান ও আদিত্য রায় কাপুর?‌

ফের বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল দিতে চলেছে আরও এক চমক। ২৬ জুন বেঙ্গল টি-টোয়েন্টি লিগের সেমিফাইনালে উপস্থিত থাকতে চলেছেন বলিউডের তারকা জুটি সারা আলি খান ও আদিত্য রায় কাপুর। ম্যাচের টস ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দুই তারকা। ২৩ তারিখ ইডেনে ম্যাচ দেখতে আসবেন ভারতীয় টেনিস কিংবদন্তী মহেশ ভূপতি। ২৮ তারিখ ফাইনালে সূর্য কুমার যাদব কিংবা যুবরাজ সিং-এর মত ক্রিকেটার কে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সিএবি। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনে পারফর্ম করেছিলেন সুনিধি চৌহান। ২০২৪ সাল থেকে সিএবি-র পরিচালনায় শুরু হয় এই মেগা টি-২০ ক্রিকেট লিগের আসর। বাংলার ক্রিকেটের উন্নতি তথা নতুন এবং তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অন্যতম একটি সেরা মঞ্চ। চলতি বছর বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের দ্বিতীয় এডিশন। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে জমকালো এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই বছরের বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগ। মঞ্চ মাতাতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী সুনীধি চৌহান। মোট আটটি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। সবকটি দলেরই পুরুষ এবং মহিলা, উভয় স্কোয়াডই মাঠে নামছে। এই টুর্নামেন্টে পুরুষদের ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে ইডেনে এবং মহিলা দলের খেলাগুলি হবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে। টুর্নামেন্টের ফাইনালটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ জুন, শনিবার।

টেস্ট অদলবদল। সিএবির বড় সাফল্য। ১৪ নভেম্বর ভারতের আইকনিক ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হতে চলা প্রথম টেস্টে ভারতের মুখোমুখি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গাঙ্গুলি নিজে উদ্যোগ নিয়ে বিসিসিআইয়ের সাথে কথা বলে নভেম্বরে ইডেন গার্ডেনে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার জন্য রাজি করান। ইডেন প্রথমে পেয়েছিল ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট। যেটি হওয়ার কথা ছিল অক্টোবরে। এর মধ্যেই জানা যায় পরিবেশগত কারণে দিল্লি থেকে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সরতে পারে। এরপরেই তৎপরতা দেখান সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। ঘুরতে থাকে খেলা। ভারতের প্রতিপক্ষ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা যে অনেক বেশি শক্তিশালী, অনেক বেশি উপভোগ্য ম্যাচ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ, বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়াদের সঙ্গে ক্রমাগত কথা চালিয়ে যেতে থাকেন স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। অবশেষে সূচির অদলবদল। ইডেন পেল ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট। তেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা প্রোটিয়ারা চলতি মাসেই টেস্ট সিরিজ খেলতে যাবে জিম্বাবোয়েতে। এরপর টানা সাদা বলের সিরিজ খেলে লাল বলের ম্যাচে নামবে ইডেনে। দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাসন কাটিয়ে ফেরার সঙ্গে যেমন জড়িয়ে ইডেন, তেমনভাবেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম ভারত সফরে এসে প্রথম ম্যাচটাই খেলবে ক্রিকেটের নন্দনকাননে। যা নিশ্চিত হলো সিএবি সভাপতির দূরদর্শিতায়। উৎসবের আবহে ইডেনে হবে ক্রিকেটের মহোৎসব। এদিকে, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাকে বয়স ভাঁড়ানো রুখতে বড় পদক্ষেপের পথে বিসিসিআই। জুনিয়র পর্যায়ে অতিরিক্ত ‘বোন টেস্ট’ বা হাড় পরীক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের। এই পদক্ষেপের ফলে উঠতি ক্রিকেটাররা বাড়তি সুবিধা পাবে। পুরনো পদ্ধতিতে যে ‘+১ ফ্যাক্টর’ রয়েছে, সেটাতে বদল আসতে পারে। বর্তমানে কোনও ক্রিকেটারের বয়স নির্ণয় করার ক্ষেত্রে TW3 পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। পাশাপাশি পরের মরশুমে ওই একই বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য একটি ‘+১’ পরীক্ষায় বসতে হয় তরুণ ক্রিকেটারদের। নতুন নিয়মে অনূর্ধ্ব-১৬ ছেলেদের বিভাগে আরও একটি হাড়ের পরীক্ষা দিতে হবে। সেটা এতটাই উন্নতমানের যে পুরনো যে ‘+১’ নিয়ম রয়েছে, সেটির আর সে অর্থে গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। বোর্ডের এক সূত্র বলছে, “এই নতুন পদ্ধতিতে একেবারে সঠিক বয়স নির্ধারণ করা যাবে। তাতে কোনও প্লেয়ারের গাণিতিক হিসেবের কারণে বছর নষ্ট না হয়। বরং নতুন নিয়ম অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক।” এই ‘গাণিতিক অঙ্কের’ বিষয়টা কী? বর্তমানে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগের ক্ষেত্রে হাড়ের বয়স ধরা হয় ১৬.৫। অন্যদিকে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে হাড়ের বয়স ১৫ বছর। তার অর্থ, পরের মরশুমে ছেলেদের বিভাগে ১৬.৪ ও মেয়েদের বিভাগে ১৪.৯ বয়স থাকতে হবে। নতুন পরীক্ষায় যদি ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে কোনও ক্রিকেটারের বয়স ২০২৫-২৬ মরশুমে ১৫.৪ হয়, তাহলে তাঁকে পরের মরশুমে আর কোনও পরীক্ষা দিতে হবে না। কারণ হিসেব মতো তাঁর বয়স দাঁড়াবে ১৬.৪। অর্থাৎ ওই বিভাগে সে খেলার জন্য যোগ্য। কিন্তু যদি কোনও ক্রিকেটারের হাড়ের বয়স এই মরশুমে ১৫.৫ হয়, তাহলে পরের মরশুমে তার বয়স হবে ১৬.৫। অর্থাৎ সে আর ওই বিভাগে খেলার যোগ্য নয়। একই নিয়ম মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগেও প্রযোজ্য।

বেঙ্গল প্রো টি ২০ ক্রিকেটের উদ্বোধনির দিনই নিজের জন্মদিনে ইডেনকে দারুন উপহার দিয়েছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গাঙ্গুলি। হাজির করিয়েছিলেন বলিউডের শাকিরাকে। ইডেনে ধামাকা। বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের জাঁকজমক উদ্বোধনের সাক্ষী ছিল কলকাতার ক্রিকেটভক্তরা। প্রথম বর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোনও চাকচিক্য না থাকলেও সেদিন সন্ধেয় ক্রিকেটের নন্দনকানন মাতিয়েছিলেন সুনিদি চৌহান।‌ টানা এক ঘন্টা দশ মিনিট ননস্টপ পারফরমেন্স বলিউডের শাকিরার। একাই একশো। অনেক আগে থেকেই শুধু ‘‌গায়িকা’‌ ট্র্যাগ গা থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন। এখন তিনি একজন কমপ্লিট পারফর্মার। ধুম মাচালে দিয়ে শুরু। বিড়ি জ্বালাইলেতে শেষ। মাঝে একের পর এক হিট গান। মুগ্ধ ইডেনে উপস্থিত হাজার পাঁচেক দর্শক। সুনিধিকে ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত ছিলেন ভক্তরা। ক্রেজি কিয়া রে, দেশি গার্ল, ইশক সুফিয়ানা, বে ইন্তেহান, বলম সামি, শিলা কি জওয়ানি..তাঁর গানের তালে তালে নাচল ইডেন। শুধু মাত্র আইটেম নম্বর নয়, সুরেলা গানও উপহার দেন সুনিধি। মস্ত থেকে ধুম, মিশন কাশ্মিরের জনপ্রিয় গানের নন স্টপ ঝড়ো পারফরম্যান্স সুনিধির। শুধুমাত্র লেটেস্ট গান নয়, নয়ের দশকের গানও গান। মঞ্চের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত। লাফিয়ে, ছুটে বেড়িয়েছিলেন বলিউডের শাকিরা। যখন মঞ্চে ওঠার সময় পড়ন্ত বিকেল। সূর্যাস্তের সময় মায়াবী পরিবেশে সন্ধে ৬.৫০ পর্যন্ত টানা পারফর্ম ছিল বলিউডের শাকিরার।

১১ জুন থেকে ২৮ জুন কলকাতার ঘরোয়া ক্রিকেটের টি-২০ যুদ্ধ। ছেলে এবং মেয়েদের আট দলের বাইশ গজের লড়াইয়ের শুরুতে মাঠে ট্রফি নিয়ে প্রবেশ করেচিলেন ঝুলন গোস্বামী এবং ঋদ্ধিমান সাহা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি ক্রিকেটের সৌরভ গাঙ্গুলী। ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। ছিলেন সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গাঙ্গুলি এবং সচিব নরেশ ওঝাও। ছেলে এবং মেয়েদের আট দলের অধিনায়কদের মঞ্চে ডাকা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আমন্ত্রিত থাকলেও আসতে পারেননি। ক্রিকেটীয় যুদ্ধের আগে যে আঁচ সুনীধি চৌহান ছড়ালেন মোহময়ী পারফরমেন্স। গতবারের দুই যৌথ বিজয়ী সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদা এবং মুর্শিদাবাদ কিংস ম্যাচ দিয়ে বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের ঢাকে কাঠি পড়ে গেল। সুনিধির অনুষ্ঠানের পর ইডেনের অন্দরমহলে কেক কেটে স্নেহাশিস গাঙ্গুলির জন্মদিন উদযাপন করেন সিএবি আধিকারীকরা। বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের দ্বিতীয় সংস্করণের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি গতবারের দুই যৌথ বিজয়ী সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদা এবং মুর্শিদাবাদ কিংস। বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগের প্রথম দিনই মাঠে মুকেশ কুমার, ঋত্বিক চ্যাটার্জি, সুদীপ কুমার ঘরামী, অঙ্কিত চ্যাটার্জিরা।‌ জেতে মুর্শিদাবাদ। পরদিনই যাদবপুর ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে মেয়েদের প্রথমদিন দুটো ম্যাচ। মুর্শিদাবাদ কুইন্স জেতে হারবার ডায়মন্ডসের বিরুদ্ধে। দুপুর দেড়টায় দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্স এবং সার্ভোটেক শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্স। দ্বিতীয় মরশুমেও ডিআরএসের ব্যাবহার। ছেলেদের লিগে ২৪ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন দুটো করে ম্যাচ। ২৫ জুন লিগের শেষ ম্যাচ। ২৬ জুন ছেলেদের দুটো সেমিফাইনাল। ২৮ জুন ফাইনাল। ২৭ জুন যাদবপুর ক্যাম্পাসে মেয়েদের দুটো সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ জুন দুপুর দেড়টায় ইডেনেই দু’‌টি ফাইনাল। ‌ বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগে খেলেছেন না মহম্মদ সামি। ইংল্যান্ড সফরে না থাকা সামিকে ধাক্কা দিয়েছে। কারণ তিনি নিজে ওই টেস্ট সিরিজের জন্য মানসিক প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছিলেন। চোট সারিয়ে ফেরার পর ভারতীয় দলের হয়ে বেশ ভালোই পারফর্ম করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভালো বোলিং করেছেন। আইপিএলটা অবশ্য খুব ভালো যায়নি সামির। ভারতীয় ক্রিকেট মহলের একটা বড় অংশ মনে করেছিল, ইংল্যান্ডে সামিকে খুব প্রয়োজন টিমের। ভারতীয় টিম ম্যানজেমেন্টের সিদ্ধান্ত অবাক করার মতোই। এই পরিস্থিতি সামি নিজেও বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন না বলেই শোনা গেল। রাঢ় টাইগার্সকে এখন সামির বিকল্প খুঁজতে হচ্ছে। বেঙ্গল প্রো টি ২০ লিগ বাংলার বুকে সাড়া জাগানো টুর্নামেন্ট। ক্রিকেট প্রতিভা তুলে আনার অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের প্রেসিডেন্ট স্নেহাশীষ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় গত বছর থেকে শুভ সূচনা বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের। বাংলার এই সর্ববৃহৎ আইপিএল ধাঁচের লিগ। গত বারের মতোই পুরুষ ও মহিলাদের প্রতিযোগিতা আইপিএলের ধাঁচে এই টি ২০ লিগ। বাংলার ২০ ওভারের লিগকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল সিএবি। দ্বিতীয় বছরের প্রতিযোগিতার ড্রাফটে ৮০২ জন ক্রিকেটারের মধ্যে থেকে পছন্দের ক্রিকেটারদের বেছে নিয়েছে দলগুলি। শহরের এক হোটেলে এক জমকালো অনুষ্ঠানে বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের দ্বিতীয় সংস্করণে পুরুষদের ৮০২ জন ক্রিকেটারের থেকে বেছে ড্রাফট করা হয়। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গাঙ্গুলির উপস্থিতিতে হয় ড্র। সহ-সভাপতি অমলেন্দু বিশ্বাস, সচিব নরেশ ওঝা, কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তী, যুগ্ম সম্পাদক দেবব্রত দাস, সিএবি ট্যুর, ফিক্সচার এবং টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় দাস সহ বিভিন্ন সিএবি কমিটির চেয়ারপার্সন, প্রাক্তন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় এবং সিএবির বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি সৌরভ গাঙ্গুলি, মহিলা ক্রিকেট আইকন ঝুলন গোস্বামী সহ বিভিন্ন সিএবি কমিটির চেয়ারপারসন, প্রাক্তন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় এবং অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ কমিটির সদস্য দীপ চ্যাটার্জি, শুভ্রদীপ গাঙ্গুলি, লোপামুদ্রা ব্যানার্জী, কেয়া রায়, সুরজিৎ লাহিড়ী, অম্বরীশ মিত্র, সৌমেন্দু চ্যাটার্জি, জয়দীপ মুখার্জি সহ অন্যান্যরা। দীপ প্রকাশনের কর্ণধার শঙ্কর মণ্ডল, দীপ্তাংশু মণ্ডল প্রমুখ।

আইপিএলে ইডেনে লখনউ সুপার জায়ান্টসের ২৩৮ রান তাড়া করে কলকাতা নাইট রাইডার্স করে ২৩৪ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে উঠেছিল ৪৭২ রান! সেই ইডেনেই বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগে ১৩০-১৪০ রান করতেই পারছেন না আট ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটের গুণগত মানে তফাতই আসল কারণ। মুখ খুললেন ঋদ্ধিমান সাহা। বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগে গতবার ছিলেন ক্রিকেটার। এবার সার্ভোটেক শিলিগুড়ি স্ট্রাইকারের মেন্টর বলেন, ‘‌আইপিএলে যারা খেলে, তারা হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, অথবা ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলে সুযোগ পেয়েছে। বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগে স্থানীয় ক্রিকেট থেকে ক্রিকেটার বেছে খেলা হচ্ছে। দক্ষতার তফাত তো আছেই। আত্মবিশ্বাস একটু কম ছেলেদের। ইডেনের পিচও সামান্য বদলেছে। গতবারের চেয়ে এবারের উইকেট তবু ভাল। তবে আইপিএলে পাটা উইকেটে খেলা হয়। ইডেনের পিচে কোনও কোনও বল নামছে, কোনও বল বাউন্স করছে। গতি ও বাউন্সের সামান্য তারতম্য হচ্ছে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হলে মানিয়ে নিতে পারত। সকলের পক্ষে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। কোন বল খেলব, কীভাবে খেলব, সেই ধারণা কম আছে ছেলেদের। যত খেলবে, তত সেই অভিজ্ঞতা বাড়বে। সব দলই চায় জিততে। আমিও চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। তবে চাওয়া ও করার মধ্যে অনেক তফাত। আইপিএলে নিলাম হয়। বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগে তো তা হয় না। লটারির মাধ্যমে ক্রিকেটার বাছাই করা হয়। লাকি ড্রয়ে যে দলের নাম আগে আসে, তারা ভাল ক্রিকেটার নিতে পারে। কারও পালা ৬ নম্বরে এলে ততক্ষণে কয়েকজন ভাল ক্রিকেটার হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। সেগুলোয় তফাত হয়ে যাচ্ছে। শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্সের মার্কি প্লেয়ার ছিলেন আকাশ দীপ ভারতীয় দলের হয়ে ইংল্যান্ড সফর করছেন। টুর্নামেন্টে আকাশকে না পাওয়াটা বড় ধাক্কা। ভারতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারকে না পেলে তফাত তো হয়ই। শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিং, ফিল্ডিংয়েও ও দলের ভরসা। তবে ড্রাফটিং থেকে ওর যোগ্য বিকল্প তো পাইনি। ফের ড্রাফটিংয়ের নিয়মের কথাই বলব। হাতে যা আছে, তা দিয়েই চেষ্টা করছি। ড্রাফটিংয়ে সব দলের সমান সুযোগ হয় না। কখনও চার নম্বরে সুযোগ পাওয়া যায়, কখনও ছয় নম্বরে। অনুষ্টুপকে মজুমদারকে আমরা পেয়েছি টস করে। এই নিয়মটা একটু বদলালে ভাল হয়। ড্রাফটিংটা সিএবি প্রত্যেকবার এভাবেই করবে কি না জানি না। তবে নিলাম করা যেতেই পারে। যেমন হয়তো কোনও ক্রিকেটারের জন্য সর্বোচ্চ মূল্য বেঁধে দেওয়া হল, যে এর জন্য ১ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করা যাবে না। এভাবে নিলাম হলে সবাই হয়তো ভাল দল বানাতে পারবে। ড্রাফটিংয়ে সবাই ভাল ক্রিকেটার চাইবে। সমতা বজায় থাকছে না। কেউ আট নম্বরে প্লেয়ার বাছাইয়ের সুযোগ পেলে হাত থেকে ভাল ক্রিকেটারেরা বেরিয়ে যাবেই। আমাদের বোলিং ভাল হচ্ছে। তবে ব্যাটিংয়ে কম রান উঠছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে, যেখানে ৭-৮টা করে গ্রুপের ম্যাচ থাকে, সেখানে সব সময়ই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায়। এমন নয় যে, টুর্নামেন্টের অর্ধেক খেলা হয়ে গিয়েছে। সবে শুরু হয়েছে। তার ওপর বর্ষা শুরু হয়ে যাচ্ছে। যখন-তখন যে কোনও দলের ম্যাচ বাতিল হতে পারে। পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়ে যেতে পারে। তাতে বদলে যেতে পারে পয়েন্ট টেবিলের অঙ্কও। আমরা প্রথম দুই ম্যাচ হেরেছি। দলটা নতুন। অনেক নতুন ক্রিকেটার এসেছে। আমরা ডট বল বেশি খেলছি। টি-২০ ক্রিকেটের জন্য যা একেবারে ঠিক নয়। সেই কারণে প্রথম দুই ম্যাচেই ২০-২৫ রান করে কম উঠেছে। যদি ডট বল কমানো যায় এবং বাউন্ডারি মারা যায়, তাহলে ছবিটা বদলে যাবে। এখনও পর্যন্ত ছেলেরা দক্ষতা অনুযায়ী খেলতে পারেনি। প্রতিপক্ষের উইকেট পড়ছে বলে শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ যাচ্ছে। এখন যারা খেলছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগে আগে খেলেছে। আর কয়েকজন নৈশালোকে কখনও ম্যাচই খেলেনি। সুপার লিগ, এ, বি ও সি গ্রুপের ক্রিকেটারদের নিয়ে দল তৈরি করা হয়েছে। ওদের সময় দিতে হবে। যত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারবে, তত ভাল। বলা সহজ, মাঠে গিয়ে করে দেখানোটা অত সহজ নয়। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত মানিয়ে নেওয়া যায়। ১৬০ রানের বেশি তুলতে পারলে খেলা ঘুরবে। ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে হবে। অন্য দলের ফলাফলের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবে আগে নিজেদের ম্যাচ জিততে হবে। দলের বাঁহাতি স্পিনার রাজু হালদার যেভাবে পিতৃবিয়োগের পর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আগেই মাঠে নেমে পড়েছেন। রাজু সকলের কাছেই উদাহরণ। দারুণ বল করছে। যখন থেকে খেলছে, তখন থেকে ভাল বোলিং করছে। উইকেট নিয়েছে। এত উইকেট নেওয়া সহজ নয়। পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসাবে নির্বাচকরা ওকে বাংলা দলে নিলে ভাল হয়। তাতে বোলারদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বাড়বে। মেন্টরের ভূমিকায় অভিজ্ঞতা দারুণ। গতবার ক্রিকেটার হিসাবে খেলেছি। এবার মেন্টর। তবে দল না জিতলে কেউই বুঝতে পারবে না। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। তবে মেন্টর সব সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আগে কোচ, অধিনায়কের সিদ্ধান্ত। তারপর মেন্টর মতামত দেয়। ত্রিপুরাতেও এরকম দায়িত্ব সামলেছি। উপভোগ করছি নতুন দায়িত্ব। কোচ হিসাবে ক্রিকেটারদের মাঠের পারফরম্যান্সই মূল কথা। সবাই সমান হয় না। সবাইকে একভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আমি চাই মাঠে নেমে শরীরী ভাষা, পরিশ্রম যেন ঠিক জায়গায় থাকে। মাঠের বাইরে তার ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলাতে চাই না। তবে মাথায় রাখতে হবে, যেন দলের ওপর কোনও প্রভাব না পড়ে।’‌ শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্স প্রথম দুই ম্যাচে হেরেছে। লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্সের সঙ্গে তৃতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি।

ইডেনে বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল শিলিগুড়ি বনাম কলকাতা ম্যাচ। কলকাতা টাইগার্স চার উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শিলিগুড়ির রান ৩৫ কোনও উইকেট না হারিয়ে। ৩ ওভার খেলার পরেই বৃষ্টি। কলকাতার ব্যাটার করণলাল ৫১, অভিষেক পোড়েল ৫০ এবং রনিত ঘোষ ৪৪ রান করেন। শিলিগুড়ির অনুষ্টুপ মজুমদার ২২ রান ও অঙ্কুর পাল ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন। তার পরই বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে যায় ও পয়েন্ট ভাগাভাগি। যাদবপুর ক্যাম্পাস মাঠেও শ্রাচী রাঢ় টাইগার্স বনাম মুর্শিদাবাদ কুইন্স ম্যাচ ভেস্তে যায় বৃষ্টির কারণে। যাদবপুর ক্যাম্পাসের মাঠে মেয়েদের অন্য ম্যাচে কলকাতা জেতে মালদার বিরুদ্ধে। ইডেনে মেদিনীপুরকে হারাল হাওড়া। বৃষ্টির কারণে খেলা দেরীতে শুরু হওয়ায় মেদিনীপুর ১৭ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে করে ১৭৪ রান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হাওড়া ১৬.‌১ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে জয় ছিইয়ে নেয়। হাওড়ার শাকিব হাবিব গান্ধীর ৩৮ বলে ৭৩ রানের ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও চারটি ছক্কা। প্রমোদ চান্ডিলা করেন ৩২ বলে ৪৩ রান। রনজোৎ সিং ৫৯, সুদীপ চ্যাটার্জ্জী ৩৩, বিবেক সিং ৩০। কনিষ্ক সেট, সক্ষম শর্মা, আমীর গনি, অগস্থ্য শুক্লা একটি করে উইকেট নেন।

বাংলার ক্রিকেট সংস্থার এ বারের বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ পুরুষ ও মহিলাদের প্রতিযোগিতা। গত বার পুরুষদের সব ম্যাচ হয়েছিল ইডেন গার্ডেন্সে। মহিলাদের প্রতিযোগিতা হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে। মহিলাদের ফাইনাল হয়েছিল ইডেনে। গত বার পুরুষদের প্রতিযোগিতায় যুগ্ম বিজয়ী হয়েছিল সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদা ও মুর্শিদাবাদ কিংস। ইডেনে বৃষ্টির কারণে ফাইনাল খেলার ফয়সালা হয়নি। মহিলাদের খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্স। রানার্স হয়েছিল মুর্শিদাবাদ কুইন্স। গত বারের মতো এ বারও আটটি দল বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগে খেলছে। লাক্স শ্যাম স্টিল কলকাতা টাইগার্স, হারবার ডায়মন্ডস, রেশমি মেদিনীপুর উইজার্ডস, সার্ভোটেক শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্স, শ্রাচী রাঢ় টাইগার্স বর্ধমান, অ্যাডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্স, মুর্শিদাবাদ কিংস অ্যান্ড কুইন্স এবং সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদা। প্রতিটি দলের পুরুষ ও মহিলাদের দল অংশ নেবে প্রতিযোগিতায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles