সোম দুপুরে মোহনবাগান ক্লাবে কর্মসমিতির সভায় উপস্থিত সৃঞ্জয় বোস মোহনবাগান সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন দেবাশিস দত্তর নাম। সৃঞ্জয়ের নেতৃত্বে মান্যতা দিয়েছেন বাকি সদস্য। এই পদ্ধতিতেই মনোনীত সহ-সভাপতিদের। সহ-সভাপতি সৌমিক বোস, মানস ভট্টাচার্য, উত্তম কুমার সাহা, কুণাল ঘোষ, দেবাশিস মিত্রক। মোহনবাগান মাঠ যেন ছাদনাতলা। সবুজ মেরুন তাঁবুর লনে মালা বদল হল সৃঞ্জয় বসু এবং দেবাশিস দত্তের। একে অপরকে মালা পরিয়ে দেন মোহনবাগানের নতুন সভাপতি এবং সচিব। সোমবার ক্লাবের নতুন কার্যকরী কমিটির প্রথম বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব নেন দেবাশিস দত্ত। সাংবাদিক সম্মেলনে নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করেন মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বসু। পাঁচজন সহ সভাপতি। এই তালিকায় রয়েছেন সৌমিক বসু, মানস ভট্টাচার্য, উত্তম সাহা, কুণাল ঘোষ এবং দেবাশিস মিত্র। তিনজনকে কো অপ্ট করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সঞ্জয় ঘোষ, দেবাশিস রায় এবং অরিজিৎ ব্যানার্জি। চারজন আমন্ত্রিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সম্রাট চক্রবর্তী, দীপিকা দাস, দেবাশিস চ্যাটার্জি এবং তন্ময় চ্যাটার্জি। আগামী দিনে আরও আমন্ত্রিত সদস্য নেওয়ার কথা জানান সৃঞ্জয় বসু। কোনও পদে নেই টুটু বসু। তবে ভবিষ্যতে কোনও বিশেষ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতিকে। সৃঞ্জয় বসু বলেন, ‘উনি কোনও পদে নেই। তবে সব সময় ক্লাবের অঙ্গ হয়ে থাকবেন। আগামী দিনে ঠিক করব। পরবর্তী বৈঠকে সদস্যদের কাছে অনুমোদন করব।’

সচিব হয়েই মোহনবাগান সুপার জায়ান্টসের কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে মোহনবাগানের সিনিয়র ফুটবল দল নিয়ে আলোচনার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন সৃঞ্জয় বসু। সদস্যদের জন্য টিকিটের সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ করবেন। একইসঙ্গে ক্লাবে ট্রফি রাখার বিষয়টি নিয়েও কথা বলতে চান। বাগানের নতুন সচিব জানান, ক্লাবের নিয়মকানুনে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। সেটা বদলাতে চান। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলবেন। সৃঞ্জয় বসু বলেন, ‘মোহনবাগান ক্লাবের নিয়মে কিছু অস্পষ্টতা আছে। আগে অ্যাসোসিয়েশন অফ পার্সন হিসেবে চলত, পরে সোসাইটি হয়েছে। জাস্টিস অসীম রায়কে দায়িত্ব দেব এই বিষয়টি দেখার। নিয়মকানুন ঠিক করার জন্য যা প্রয়োজন করতে হবে।’ আইএসএলের ম্যাচে যুবভারতীতে জলের সমস্যা হয়। ঠিকমতো পরিষেবা পায় না সদস্য, সমর্থকরা। সচিব হয়েই সেই সমস্যা মেটাতে চান সৃঞ্জয় বসু। এছাড়াও মেয়েদের ফুটবল দলে ফোকাস করতে চান। ২৯ জুলাই নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনা আছে। ঐতিহাসিক দিনে আরও সদস্য, সমর্থকদের যোগদান চান বাগানের নতুন সচিব। সৃঞ্জয় বোস বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায় সমস্ত নিয়মাবলি সূত্রবদ্ধ করার দায়িত্বে। এক্ষেত্রে তাঁর পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। আমাদের লক্ষ্য ছিল, কমিটিতে মহিলাদের অন্তর্ভুক্তি। সেই লক্ষ্যেই আমরা সোহিনী মিত্র চৌবে এবং দীপিকা দাসকে রেখেছি। কার্যকরী কমিটিতে অনেক খেলোয়াড়ই রয়েছেন। আগামী দিনে ক্লাবের স্বার্থে আরও অনেককেই নেওয়া হতে পারে। তাছাড়াও অন্যান্য ক্রীড়াক্ষেত্র-সহ সামাজিক মাধ্যমের দিকটাও আরও ভালোভাবে পরিচালনা করতে হবে।” স্বপন সাধন (টুটু) বোসকে নিয়ে জানান, “তিনি কোনও পদে না থেকেও সব সময় আমাদের সঙ্গে থাকবেন।”

মোহনবাগানের সচিব পদে ফিরলেন সৃঞ্জয় বোস। মোহনবাগানের নব্য সচিবের নাম আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেন মোহনবাগান নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়। মোহনবাগানের নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ। চড়েছিল পারদ। উন্মাদনা ফিরে এসেছিল সদস্যদের মধ্যে। বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনী প্রচার। যুযুধান দুই গোষ্ঠী। অবশেষে সমঝোতা। সৃঞ্জয় বোস ও দেবাশিস দত্ত। ৯ জুন সচিব পদে মনোনয়ন জমা দেন সৃঞ্জয়। মনোনয়ন প্রত্যাহার করার শেষ দিন অতিক্রান্ত। সৃঞ্জয় বোস বিনা বাধায় মোহনবাগান সচিব পদে। দেওয়াললিখন স্পষ্টই ছিল। ক্লাব তাঁবুতে আনুষ্ঠানিক ভাবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায় সৃঞ্জয় বোসের নাম সচিব হিসেবে ঘোষণা করেন। শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের সচিব সৃঞ্জয় বোস। সভাপতি হবেন দেবাশিস দত্ত। সচিব হিসেবে সৃঞ্জয়বাবু দায়িত্ব গ্রহণের পরেই দেবাশিস দত্তকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হবে। মোহনবাগানের সচিবপদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন সৃঞ্জয় বোস। ঘোষণার পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ক্লাবে উপস্থিত মোহনবাগান সমর্থকরা। সচিবপদে দায়িত্ব নিয়ে মহিলা দল গঠন থেকে কলকাতা লিগ-সহ নানান প্রসঙ্গে কথা বলেন। মোহনবাগান নিয়ে আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, “লক্ষ্য থাকবে, মহিলা ফুটবল দল যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব গঠন করা। এটা নিয়ে মানুষের মনে আগ্রহ তুঙ্গে। আশা করি, আগামী দিনে খুব তাড়াতাড়ি এই দল গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। কলকাতা লিগের ব্যাপারে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ বিষয়টা আলোচনা সাপেক্ষ। তবে আমার মনে হয়, কলকাতা লিগকে ফুটবলার তুলে আনার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। কলকাতা লিগ থেকে তো আমাদের বহু ফুটবলার উঠেছে। তারা আইএসএলেও খেলেছে। আমরা চাই কলকাতা লিগে আমাদের ম্যাচ মোহনবাগান মাঠেই হোক। তবে সেটা কতটা সম্ভব তা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। আইএফএ’র সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে হবে। তবে আইএফএ কবে কলকাতা লিগ শুরু করতে পারবে, সেই খবর নেই। তাই কবে আমাদের মাঠ কবে তৈরি হবে, তা না ভেবে কবে থেকে কলকাতা লিগ শুরু এবং শেষ হবে, সেই দিনক্ষণ আগে ঠিক করুক আইএফএ। আমরা মোহনবাগানের সেরা একাদশ হয়ে সমর্থকদের চাহিদা পূরণ করব। এই দুটো কমিটি আগেও একসঙ্গে কাজ করেছে। এটা আমাদের কাছেও চ্যালেঞ্জ। আমাদের লক্ষ্য মোহনবাগান ক্লাবের ভালো। সেই জন্য আমরা একত্রিত হয়েছি। আমাদের নতুন যে কমিটি হবে, তা শ্রেষ্ঠ মোহনবাগান একাদশ হবে।”

মোহনবাগানের নতুন সভাপতি দেবাশিস দত্ত। সৃঞ্জয় বোস সচিব হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বে কার্যকরী কমিটির সভাপতি হিসাবে মনোনীত দেবাশিস দত্ত। প্রতিপক্ষ না থাকায় তাঁদের পুরো প্যানেলই জয়ী হিসাবে ক্ষমতায়। মোহনবাগান তাঁবুতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায় মোট ১১ জন কর্মকর্তা ও ১১ জন কার্যকরী সমিতির সদস্যের নাম ঘোষণা করেন।

নির্বাচন কমিটির আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত মোহনবাগানের কমিটির ২১ সদস্যের নাম।
একনজরে মোহনবাগানের কমিটি
সচিব – সৃঞ্জয় বোস
সহ সচিব – সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়
কোষাধ্যক্ষ – সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়
অর্থ সচিব – সুরজিৎ বসু
মাঠ সচিব – শাশ্বত বসু
ফুটবল সচিব – স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়
ক্রিকেট সচিব – সম্রাট ভৌমিক
হকি সচিব-শ্যামল মিত্র
অ্যাথলেটিক্স সচিব – পিন্টু বিশ্বাস
টেনিস সচিব – সিদ্ধার্থ রায়
যুব ফুটবল সচিব – শিল্টন পাল
সহ-সভাপতি সৌমিক বোস, মানস ভট্টাচার্য, উত্তম কুমার সাহা, কুণাল ঘোষ, দেবাশিস মিত্র।
কার্যকরী কমিটির সদস্য
মুকুল সিনহা, সোহিনী মিত্র চৌবে, সোমেশ্বর বাগুই, কাশীনাথ দাস, দেবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সুদীপ্ত ঘোষ, দেবজ্যোতি বসু, রঞ্জন বসু, পার্থজিৎ দাস, সঞ্জয় মজুমদার, অনুপম সাহু।




