Sunday, July 12, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

পুরানো সেই দিনের কথা!‌ জিন প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় বিজ্ঞানীদের আবিস্কার

ছারপোকা মানুষ ভালবাসে! মানুষের সঙ্গে ছারপোকাদের প্রাচীন সম্পর্কের ইতিহাস। আড়াই লক্ষ বছরের ইতিহাস। বিস্তর গবেষণা।জিন প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, প্রায় ২,৪৫,০০০ বছর আগে মানুষ গুহাবাসী। তখন থেকেই মানুষের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করত ছারপোকারা। গুহামানবের কাল থেকেই। সবই কি বদলে যায়? প্রেম পাল্টায়। শরীরও পাল্টায়। তবে ছারপোকাদের জন্য নয়। সাম্প্রতিকতম গবেষণা বলছে, শুধু মানুষের প্রতিই ছারপোকাদের একনিষ্ঠ প্রেম টিকে রয়েছে প্রায় আড়াই লক্ষ বছর ধরে। আদিম প্রস্তর যুগের গুহামানবদের রক্ত-গন্ধ ‘নেশা’ ধরিয়েছিল। তার রেশ ছারপোকার দল বয়ে চলেছে আজও। মানুষের সঙ্গে ছারপোকাদের প্রাচীন সম্পর্কের এই ইতিহাস নিয়ে আগেও বিস্তর গবেষণা হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, সেই সম্পর্ক আড়াই লক্ষ বছরের পুরনো। জিন প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা জেনেছেন, প্রায় ২,৪৫,০০০ বছর আগে মানুষ যখন গুহাবাসী ছিল, তখন থেকেই মানুষের পিছু নিয়েছিল ছারপোকারা। তার আগে ছারপোকারা গুহায় থাকা বাদুড়দের রক্ত খেত। বাদুড়রাই ছিল তাদের খাদ্যের একমাত্র উৎস। তার পর এক দিন ছারপোকারা বাদুড়ের গুহাতেই থাকা নিয়ান্ডারথাল মানুষদের রক্তের স্বাদ পেয়ে যায়! ক্রমে ছারপোকারা দু’টি স্বতন্ত্র প্রজাতিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক প্রজাতি শুধু বাদুড়ের রক্ত ​​খেয়ে বেঁচে থাকে। অন্যরা শুধুই মানুষের রক্ত খায়। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রকাশিত, গুহাবাসী মানুষ যখন যাযাবরের জীবন যাপন করতে শুরু করেছিল, তখন থেকে ছারপোকারাও সংখ্যায় কমতে শুরু করে। তার পর এক সময় যাযাবর মানুষ বসতি স্থাপনের দিকে ঝোঁকে। তখনই ফের হুহু করে বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করে ছারপোকারা। সেও আজ থেকে প্রায় ১৩,০০০ বছর আগের কথা! পরবর্তীতে ক্রমে ক্রমে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে একে একে সভ্যতা গড়ে তোলে মানুষ। শুরু হয় নগরায়ন। ব্যাস, সংখ্যায় আরও বাড়তে থাকে ছারপোকারা। ভার্জিনিয়া টেকের আর্বান এন্টোমোলজি বিভাগের অধ্যাপক ওয়ারেন বুথের কথায়, ‘‘বাগানে কিন্তু ছারপোকাদের দেখা মেলে না। কারণ, এরা বংশবিস্তারের জন্য সম্পূর্ণরূপে মানুষের উপর নির্ভরশীল।’’ এন্টোমোলজি জীববিদ্যার একটি শাখা, যেখানে কীটপতঙ্গ নিয়ে গবেষণা হয়। গবেষক লিন্ডসে মাইল্‌স বলেন, ‘‘অতীতে মানুষ যখনই বসতি গড়ে থিতু হয়েছে, তখনই উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে গিয়েছে ছারপোকাদের সংখ্যা। ছারপোকাদের জন্য এ যেন এক চুক্তির মতো!’’ ছারপোকার বিবর্তনের ইতিহাস ডিএনএ-র জিনোম বিশ্লেষণ। এই গবেষণা শুধু মানুষ এবং ছারপোকাদের সম্পর্কই নয়, সামগ্রিক ভাবে কীটপতঙ্গদের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের উপরেই আলোকপাত করতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন ভার্জিনিয়া টেকের বিজ্ঞানীরা। কারণ, সেই আদিমকাল থেকেই মানবসভ্যতার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে থেকেছে এরাও। কখনও কখনও তার মাসুলও গুনতে হয়েছে মানুষকে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল বিউবোনিক প্লেগের সময়, যখন ইঁদুরের ত্বকে থাকা সংক্রামিত খুদে পোকা থেকে মানুষের মধ্যেও এই রোগ ছড়িয়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ গিয়েছিল সেই মারণরোগে। গবেষণাপত্রটির লেখক ব্রায়ান ভেরেলির কথায়, নতুন গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, জার্মান তেলাপোকা কিংবা কালো ইঁদুরদের থেকেও হাজার হাজার বছর আগে মানুষের সঙ্গে ছারপোকাদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পার্থক্য, ছারপোকারা কোনও রোগ ছড়ায়নি, মানুষের তেমন কোনও ক্ষতিও করেনি। ভেরেলি ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান সংক্রান্ত পরিসংখ্যানবিদ বলেন, ‘‘এই গবেষণা থেকে প্রমাণ হয়, ছারপোকাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কতটা দীর্ঘ এবং দৃঢ় ছিল! এরা কিন্তু যে কোনও সময় মানুষকে ছেড়ে লাফিয়ে অন্য কোনও প্রাণীর শরীরে আশ্রয় নিতে পারত, কিন্তু তেমনটা তারা করেনি।’’

জার্মানির টিউবিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্লাউস রেনহার্ড-ও জানান, প্রায় ৪০,০০০ বছর আগে যখন আদিম মানুষ গুহাজীবন ছেড়ে যাযাবরের জীবন বেছে নেয়, সে সময় সত্যিই ভয়ানক এক জিনগত বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল ছারপোকাদের। সে সময় ছারপোকাদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছিল। এর অবশ্যম্ভাবী ফল ছিল আন্তঃপ্রজনন, অর্থাৎ জিনগত ভাবে সম্পর্কিত দুই প্রাণীর প্রজনন। তাতে ছারপোকাদের জিনগত বৈচিত্র্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদতে দেখা যায়, এতে ছারপোকাদের বিশেষ ক্ষতি হয়নি! শুধু তা-ই নয়, ছারপোকাদের আরও নানা ভাল দিক উল্লেখ করেছেন রেনহার্ড। তিনি বলেন, ‘‘ছারপোকারা খাবার না খেয়ে এক বছরেরও বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে। একটি গর্ভবতী স্ত্রী ছারপোকাকে বাক্সবন্দি করে রাখলেও সে মাত্র ছ’মাসে ৩০,০০০-এরও বেশি সন্তান উৎপাদন করতে পারে, যার প্রত্যেকটিই জিনগতভাবে সম্পর্কিত! এমনকি, এরা এতই ভাল যে, রক্ত খাওয়ার আগে তারা মানুষের ত্বককে অসাড় করার জন্য এক প্রকার তঞ্চনরোধক প্রবেশ করিয়ে দেয়, যাতে ব্যথা না লাগে!’’ ভারত, পাকিস্তান থেকে আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইজ়রায়েল, ইরান ছারপোকাদের বাস সর্বত্র। আমেরিকায় ছারপোকা নিয়ে বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত চলে। ছারপোকা সংক্রান্ত আইনও রয়েছে নিউ ইয়র্কে। তবে যত যা-ই হোক, ছারপোকাদের মতো নাছোড়বান্দা প্রেমিকের হাত থেকে মানুষের মুক্তি নেই। আড়াই লক্ষ বছরের সম্পর্ক বলে কথা!

মানুষের মুখের আদলে পাথর, মধ্যিখানে কার আঙুলের ছাপ! ৪৩ হাজার বছরের পুরনো শিলা ঘেঁটে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা স্পেনের এরেসমা নদীর ধারে পাললিক শিলাস্তর থেকে ২০ সেন্টিমিটারের একটি লম্বাটে পাথরের টুকরো উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে পাওয়া গিয়েছে ৪৩ হাজার বছরের পুরনো আঙুলের ছাপ! লম্বায় খুব বেশি হলে ২০ সেন্টিমিটার হবে। খানিকটা লম্বাটে ডিম্বাকৃতি পাথরের টুকরো। উপরের দিকে দু’টি এবং নীচের দিকে ঠিক মাঝ বরাবর একটি হালকা ভাঁজ। যেন মাটি দিয়ে কাঠামো তৈরির সময়ে যত্ন করে সমান মাপে দু’টি চোখ আর একটি ঠোঁট এঁকে দিয়েছেন শিল্পী। সেই চোখ আর ঠোঁটের মাঝের অংশে রয়েছে ছোট্ট একটা লাল রঙের ফোঁটা। যেন কেউ নাকের অংশে লাল টিপ পরিয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি এই পাথরের টুকরো সাড়া ফেলে দিয়েছে ইতিহাসের মহলে। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা জানাচ্ছেন, এ যে সে পাথর নয়। এর বয়স ৪৩ হাজার বছর! পাথরের ‘নাকে’ সেই লাল ফোঁটাটিও সাধারণ কোনও রঙের দাগ নয়। তা প্রাচীন মানব নিয়ান্ডারথালের আঙুলের ছাপ! স্পেনের এরেসমা নদীর ধারে স্যান লাজারো রক শেল্টার থেকে ২০২২ সালে এই বিশেষ ধরনের পাথরটি উদ্ধার করা হয়েছিল। তার পর তা নিয়ে বিস্তর পরীক্ষানিরীক্ষা এবং গবেষণা হয়েছে। এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ‘আর্কিওলজিক্যাল অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সায়েন্সেস’ নামক জার্নালে। বিজ্ঞানীরা রেডিয়োকার্বন বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন, এই পাথর ৪২ থেকে ৪৩ হাজার বছরের পুরনো। প্রায় ওই সময়েই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল নিয়ান্ডারথালেরা। মাদ্রিদের কমপ্লুটেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ ডেভিড আলভারেজ় আলোনসো এই পাথর উদ্ধার এবং এই সংক্রান্ত গবেষকদলের অন্যতম সদস্য। তিনি জানান, নদীর ধারে পাললিক শিলার যে স্তরে পাথরটি পাওয়া গিয়েছে, সেখানে আরও কিছু পাথর ছিল। প্রত্যেকটিই হাতুড়ি জাতীয় যন্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হত, সেই প্রমাণ মিলেছে। পাথর ঠুকে ঠুকে কাজ করা হত। অন্যান্য পাথরের চেয়ে এই পাথরটি আকারে একটু বড় ছিল। তাই সহজেই তা খননকারীদের চোখে পড়ে। মাংসাশী ছিল না লম্বা গলার ডাইনোসরেরা! জীবাশ্ম পরীক্ষা করে এই প্রথম মিলল প্রমাণ গবেষকদের মতে, প্রাকৃতিক কোনও রঞ্জকের সঙ্গে জলের মিশ্রণে আঙুলের মাথা ডুবিয়ে পাথরটিতে লাল ছাপটি দেওয়া হয়েছে। সেটি নিয়ান্ডারথালের আঙুল, এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা প্রায় নিশ্চিত। তবে হাতের বা পায়ের ঠিক কোন আঙুলের ছাপ, কেনই বা তা দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা আরও একটি বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত হয়েছেন। প্রাথমিক ভাবে গবেষণা বলছে, এই ছাপ কোনও প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ান্ডারথাল পুরুষের আঙুল থেকে এসেছে। মহিলা বা শিশুর আঙুলের ছাপ এমন হওয়া সম্ভব নয়। যদিও এর আগে নিয়ান্ডারথালের কোনও আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি। ফলে তার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার উপায় নেই। পাথরের উপরে আঙুলের ছাপ এঁকে দিয়েছেন যিনি, তাঁর উদ্দেশ্য এখন বলা প্রায় অসম্ভব। তবে যে সময়ে পাথরকে মানুষ হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করত, সেই সময়ের পাথরে এমন একটা দাগ সাধারণ ভাবে থাকার কথা নয়। এর থেকে বোঝা যায়, পাথরটিকে ভিন্ন কোনও মাত্রা দিতে চেয়েছিলেন কেউ। একে এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত মানুষের আঙুলের ছাপের মধ্যে প্রাচীনতম বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

মানুষের মুখের আদল-যুক্ত ওই পাথরে আঙুলের লাল ছাপটি প্রত্নতাত্ত্বিকদের ভাবাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, নিয়ান্ডারথালদের বিমূর্ত চেতনার প্রতিফলন ওই আঙুলের ছাপ। কোনও বস্তু বা বিষয়কে যে তারা বাস্তবের মাটিতে বসেই অন্য ভাবে ভাবতে পারতেন, তাতে কল্পনার ছোঁয়া থাকত, এই পাথর থেকে তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে অনেকের মত। তাঁদের মতে, নিয়ান্ডারথালদের উন্নত চেতনার প্রতিফলন এই পাথরে ঘটেছে। এমনকি, কেউ কেউ দাবি করছেন, নিয়ান্ডারথালদের শিল্পকর্ম তৈরির ক্ষমতা ছিল। তাঁরা ছবি আঁকতে পারতেন। আলভারেজ়ের মতে, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, কোনও নিয়ান্ডারথাল এই পাথরটিকে খুঁজে পেয়েছিলেন। অদ্ভুত আদলের জন্য পাথরটি আলাদা করে তাঁর চোখে পড়েছিল। ইচ্ছা করেই এতে তিনি লাল বিন্দু এঁকে দেন। অসাবধানতাবশত ওই দাগ পড়েছে বলে গবেষকেরা মনে করছেন না। কারণ যে শিলাস্তরে ওই পাথর পাওয়া গিয়েছে, সেখানে তেমন কোনও রঞ্জক আগে থেকে ছিল না। বাইরে থেকে ইচ্ছাকৃত তা আনা হয়েছে, এ বিষয়ে গবেষকেরা নিশ্চিত। বছর পাঁচেক আগে নদীর ধারের শিলাস্তরে খননকার্য শুরু হয়েছিল। ২০২২ সালে প্রায় পাঁচ ফুট গভীর শিলাস্তর থেকে ওই পাথরটি উদ্ধার করা হয়। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথমে তো আমরা বিশ্বাসই করতে পারিনি কী দেখছি! অন্য পাথরের চেয়ে অনেক বড় একটা পাথরের টুকরো, মাঝে একটি লাল দাগ! দেখে মনে হচ্ছিল, একটা মানুষের মুখ।’’ স্পেনের প্রত্নতাত্ত্বিক গনজ়ালো স্যানটোনজা জানিয়েছেন, এই পাথরের টুকরোটি নিয়ান্ডারথালের আঁকা একমাত্র বহনযোগ্য শিল্পকর্ম। ইউরোপীয় মহাদেশে আঁকা প্রাচীনতম বহনযোগ্য শিল্পকর্মও এটিই। মাংসাশী ছিল না লম্বা গলার ডাইনোসরেরা! জীবাশ্ম পরীক্ষা করে এই প্রথম মিলল প্রমাণ। লম্বা গলার ‘সরোপড’ ডাইনোসরেরা তৃণভোজী এ কথা বিজ্ঞানীরা কয়েক দশক আগে খাতায়কলমে ঘোষণা করে দিলেও এ পর্যন্ত তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি। মেলেনি জীবাশ্মও। এত দিনে সেই প্রমাণ মিলল অস্ট্রেলিয়ার কুইন্‌সল্যান্ডে। ‘ল্যান্ড বিফোর টাইম’ কার্টুনে এক চরিত্র ছিল, নাম তার ‘লিটলফুট’। লম্বা গলার এই ডাইনোসর খেত শুধু ঘাস, পাতা। তৃণভোজী ডাইনোসর দেখা গিয়েছে ‘জুরাসিক পার্ক’ ছবিতেও। কিন্তু এ সবই ছিল জল্পনাকল্পনা। কারণ, লম্বা গলার ‘সরোপড’ ডাইনোসরেরা তৃণভোজী এ কথা বিজ্ঞানীরা কয়েক দশক আগে খাতায়কলমে ঘোষণা করে দিলেও এ পর্যন্ত তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি। মেলেনি জীবাশ্মও। এত দিনে সেই প্রমাণ মিলল অস্ট্রেলিয়ার কুইন্‌সল্যান্ডে।

সোমবার ‘কারেন্ট বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই যুক্তির সমর্থনে প্রথম সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। কুইন্‌সল্যান্ডে এক সরোপডের পেটে মিলেছে উদ্ভিদের আকারের জীবাশ্ম, যা থেকেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন গবেষকেরা। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৩ কোটি বছর ধরে পৃথিবী জুড়ে দাপিয়ে বে়ড়ানো সরোপডের জীবাশ্ম এর আগেও বহু বার পাওয়া গিয়েছে। এদের মধ্যে মাংসাশীদের তুলনায় তৃণভোজীদের সংখ্যাই বেশি। সরোপডেরা ছিল মূলত চারপেয়ে বিশালাকার ডাইনোসর, যাদের দেহের চেয়ে গলা আর লেজ ছিল বেশি লম্বা। পার্থের কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান অর্গ্যানিক অ্যান্ড আইসোটোপ জিওকেমিস্ট্রি সেন্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর তথা জীবাশ্মবিদ স্টিফেন পোরোপাট সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইম্স’কে বলছেন, ‘‘এদের ছোট ছোট ভোঁতা দাঁত এবং বিশাল বপু শিকার তাড়া করার জন্য জুতসই ছিল না। অগত্যা উদ্ভিদই ছিল এক মাত্র বিকল্প।’’

প্রতি ৪৪ মিনিটে পৃথিবীতে সঙ্কেত পাঠাচ্ছে কারা? রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তুর খোঁজ পেলেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা স্টিফেনের কথায়, এটিই কোনও সরোপড ডাইনোসরের পেটে পাওয়া প্রথম প্রত্যক্ষ প্রমাণ, যা এর আগে কখনও পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালে কুইন্‌সল্যান্ডে খননকার্য চালিয়ে ওই জীবাশ্মটি পাওয়া যায়। কোরফিল্ডের ‘অস্ট্রেলিয়ান এজ অফ ডাইনোসর্‌স মিউজিয়াম’-এর বিজ্ঞানীদের একটি দলের সঙ্গে সেই খননকার্যে গিয়েছিলেন স্টিফেনও। সেখানেই প্রায় ৩৬ ফুট লম্বা একটি কিশোর ডায়ম্যান্টিনাসরাস ম্যাটিল্ডাই-এর জীবাশ্ম মেলে, যা সরোপড গোষ্ঠীভুক্ত। ওই জাদুঘরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জুডি এলিয়টের নামে তার ডাকনাম দেওয়া হয় ‘জুডি’। এ পর্যন্ত সব রুটিনমাফিকই চলছিল। আচমকা অদ্ভুত এক জিনিস দেখে থমকে যান বিজ্ঞানীরা। দেখা যায়, সরোপডের অন্ত্রের সঙ্গে লেপ্টে রয়েছে উদ্ভিদের জীবাশ্মের একটি স্তর! আমরা জানতাম আমরা ব্যতিক্রমী কিছু খুঁজে পেয়েছি, কিন্তু আমরা তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে চাইছিলাম না।’’ অন্ত্রের ভিতরের উপাদান জীবাশ্মে পরিণত হওয়ার ঘটনা এমনিতেই বিরল, একে ‘কোলোলাইট’ বলা হয়। বিশেষত তৃণভোজী ডাইনোসরদের ক্ষেত্রে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা আরওই ক্ষীণ। কারণ, মাংসাশী প্রাণীদের পাকস্থলীতে হাড় যে ভাবে যুগ যুগ ধরে সংরক্ষিত হয়, তৃণভোজীদের ক্ষেত্রে উদ্ভিদজাত খাদ্য সে ভাবে হয় না। ওই ঘাসপাতাগুলি যে পরে ‘জুডি’র অন্ত্রের পাশে জীবাশ্মে পরিণত হয়ে থাকতে পারে, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। তবে ওই গোটা এলাকায় আর কোথাও সে রকম গাছপালা দেখা যায়নি। তা ছাড়া, পাতাগুলির কয়েকটি ‘জুডি’র জীবাশ্মীভূত ত্বকের স্তরের সঙ্গে এমন ভাবে মিলেমিশে গিয়েছিল যে শেষমেশ বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতে বাধ্য হন, ঘাসপাতাগুলি আসলে ছিল ‘জুডি’র পাকস্থলীতেই। গবেষকেরা জীবাশ্ম হয়ে যাওয়া ঘাসপাতার ভর বিশ্লেষণ করে দেখেন, ওগুলি মূলত ‘আণবিক জীবাশ্ম’। জীবাশ্মে একই সঙ্গে নানা যৌগের উপস্থিতি এও ইঙ্গিত দেয় যে, ‘জুডি’র অন্ত্রে থাকা পাতাগুলি আলাদা আলাদা উদ্ভিদ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে যেমন লম্বা পাইনজাতীয় (কনিফেরাস) গাছের পাতা ছিল, তেমনই ছিল মাটির কাছাকাছি বেড়ে ওঠা গুল্মজাতীয় ফুলগাছও। ফলে ‘জুডি’র কোলোলাইট থেকে কেবলমাত্র লম্বা গলার ডাইনোসরেরা কী খেত তা-ই নয়, বরং কী ভাবে খেত, সে সম্পর্কেও সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ঘাসপাতাই মিলেছে প্রায় অবিকৃত অবস্থায়। এর থেকে প্রমাণ হয়, সরোপডেরা তেমন ভাবে চিবিয়ে খাবার খেত না। বরং সামনে উদ্ভিদজাতীয় যা পেত, তা-ই গিলে ফেলত তারা! তার পর সপ্তাহ দুয়েক ধরে বাকি কাজ করত তাদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াগুলি। পাচনের পর খাদ্যের অবশিষ্টাংশ স্বাভাবিক নিয়মেই মল হয়ে বেরিয়ে যেত শরীর থেকে।

তবে দুনিয়া-কাঁপানো অসংখ্য লম্বা গলার ডাইনোসরদের মধ্যে ‘জুডি’ একা একজন! ফলে এই একটিমাত্র জীবাশ্মের ভিত্তিতে সামগ্রিক ভাবে সরোপোড ডাইনোসরদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে ধারণা করে ফেলা যুক্তিযুক্ত নয়। সে কথা মানছেন বিজ্ঞানীরাও। তাই প্রাগৈতিহাসিক ওই প্রাণীদের জীবনচরিত নিয়ে এখনও চলছে বিস্তর গবেষণা। তবে আপাতত ভরসা ‘জুডি’ই। আর তাতে এত বছর পরে যদি প্রমাণ হয়, ভয়ানক চেহারার বিশালদেহী সরোপডেরা আসলে ছিল গোবেচারা তৃণভোজী, সেই বা কম কী? প্রজাপতি পাখা মেলত ২৩ কোটি বছর আগেও! প্রত্নতাত্ত্বিক বিষ্ঠা পরীক্ষা করতে করতেই আবিষ্কার সদ্য আবিষ্কৃত প্রাচীনতম প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘আম্পাটিরি এলোইসা’। গবেষকদের দাবি, সময়কালের নিরিখে মনে করা হচ্ছে, এই প্রজাতিটি সম্ভবত ‘গ্লসাটা’ উপগোষ্ঠীর অন্তর্গত ছিল। সাড়ে ২৩ কোটি বছরের পুরনো বিষ্ঠা থেকে মিলল লেপিডপ্টেরা প্রজাপতি বা মথ জাতীয় পতঙ্গ এর আঁশ। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার তালাম্পায়া জাতীয় উদ্যানে খননকার্য চালিয়ে কোটি কোটি বছর পুরনো বিষ্ঠার নমুনায় লেপিডপ্টেরার আঁশ খুঁজে পেয়েছেন জীবাশ্মবিদেরা, যা থেকে প্রমাণ হয়, সাড়ে ২৩ কোটি বছর আগেও পৃথিবীতে ছিল প্রজাপতি, মথ!

বিজ্ঞানীরা খাতায়কলমে প্রমাণ করেছিলেন, লেপিডপ্টেরার উৎপত্তি হয়েছিল আনুমানিক ২৪ কোটি বছর আগে। কিন্তু এত দিন পর্যন্ত লেপিডপ্টেরার অস্তিত্বের যে সব প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল, তার কোনওটিই এত পুরনো নয়। এ পর্যন্ত আবিষ্কার হওয়া লেপিডপ্টেরার প্রাচীনতম জীবাশ্মটি ছিল ২০ কোটি বছর আগের। ফলে এত দিন গবেষণা ও বাস্তব প্রমাণের মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ৪ কোটি বছরের। এ বার আর্জেন্টিনায় ২৩ কোটি ৬০ লক্ষ বছর পুরনো লেপিডোপ্টেরার আঁশ মেলায় সেই শূন্যস্থান পূরণ হল বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের জীবাশ্মবিদদের যৌথ দলের উদ্যোগে তালাম্পায়ায় খননকার্য চালিয়ে ওই লেপিডপ্টেরানের আঁশ পাওয়া গিয়েছে। এ বিষয়ে তাঁদের গবেষণা বিস্তারিত আকারে জার্নাল অফ সাউথ আমেরিকান আর্থ সায়েন্সেসে প্রকাশিত হয়েছে। বিষ্ঠার নমুনায় কী ভাবে লেপিডোপ্টেরানের ডানার আঁশ খুঁজে পাওয়া গেল, গবেষণাপত্রে সেই বিবরণও দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা! ২০১১ সালে তালাম্পায়া জাতীয় উদ্যানের একটি স্থানে খননকার্য শুরু হয়। কাজ শুরু হওয়ার পর বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, কোটি কোটি বছর আগে ওই স্থানটি শৌচকর্মের জন্য ব্যবহার করত জীবজন্তুরা! বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ওই এলাকায় প্রস্রাব বা মলত্যাগ করত। সঙ্গে সঙ্গে ওই স্থান থেকে বিষ্ঠার প্রাচীন নমুনাগুলি সংগ্রহ করে গবেষণার জন্য আর্জেন্টিনার লা রিওজার গবেষণাগারে পাঠানো হয়।পরীক্ষানিরীক্ষার পর প্রায় ২৩ কোটি ৬০ লক্ষ বছরের পুরনো সেই বিষ্ঠার নমুনাতেই মেলে লেপিডোপ্টেরানের আঁশ! আকারে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ওই আঁশের দৈর্ঘ্য মাত্র ২০০ মাইক্রন, যা লেপিডোপ্টেরা অর্থাৎ মথ বা প্রজাপতি জাতীয় পতঙ্গের আঁশ বলে শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

সাড়ে ২৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে ট্রায়াসিক যুগ চলছিল। এর মাত্র ১ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগেই শেষ হয়েছে পার্মিয়ান যুগ, যার সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে মুছে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ প্রাণী প্রজাতি! এ বার সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগের বিষ্ঠার নমুনার খোঁজ মেলায় ওই যুগের প্রাণীজগৎ সম্পর্কে আরও বিশদে জানা যাবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। লেপিডোপ্টেরার ওই সদ্য আবিষ্কৃত প্রাচীনতম প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘আম্পাটিরি এলোইসা’। গবেষকদের দাবি, সময়কালের নিরিখে মনে করা হচ্ছে, এই প্রজাতিটি সম্ভবত ‘গ্লসাটা’ উপগোষ্ঠীর অন্তর্গত ছিল। তবে আধুনিক মথ বা প্রজাপতির সঙ্গে এদের মূল পার্থক্য হল, ট্রায়াসিক যুগে ফুলের অস্তিত্ব ছিল না। ফলে সে সময় সাইকাস জাতীয় গাছর বীজ (কোন) থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করতে হত এদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles