RK NEWZ ‘আরও ৩০-৪০ উইকেট পেত। শামির অবসরের পর নির্বাচকদের ধুয়ে দিলেন প্রাক্তন কোচ ও ক্রিকেটার রবি শাস্ত্রী। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন মহম্মদ শামি। শুক্রবার রাতে নিজের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন ভারতের এই জোরে বোলার। শুক্রবার রাতে ইনস্টাগ্রামে শামি লিখেছেন, “আমি সাদা জার্সি থেকে বিদায় নিচ্ছি। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত স্মৃতিগুলো রয়ে যাবে। যখন আমি প্রথম ভারতের টেস্ট জার্সি পরেছিলাম, তখন আমার একটাই স্বপ্ন ছিল— দেশের জন্য কিছু করা। তারপর থেকে প্রতিটা উইকেট, প্রতিটা লড়াই, প্রতিটা চোট এবং প্রতিটা প্রত্যাবর্তন আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটা ফরম্যাট ছিল না, এটা আমার জীবনের একটা বিশেষ অংশ হয়ে উঠেছিল। আজ ভারী মন এবং অগণিত সুন্দর স্মৃতির সঙ্গে আমি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করছি। প্রত্যেক সতীর্থ, কোচ, পরিবারের সদস্য এবং লক্ষ লক্ষ ভারতীয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ। যাঁরা এই যাত্রায় আমাকে সমর্থন করেছেন এবং ভাল-মন্দ উভয় সময়েই আমার উপর আস্থা রেখেছেন।” ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং এই রাজ্যের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা সিএবি-কে ধন্যবাদ জানিয়ে শামি লেখেন, “আমার উপর বিশ্বাস রাখা, আমাকে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া এবং আমার ক্রিকেট যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য বিসিসিআই এবং সিএবি-কে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের সমর্থন এবং বিশ্বাস সব সময় আমার হৃদয়ে বিশেষ হয়ে থাকবে। মাঠে আমার টেস্ট ক্রিকেটের শেষ বলটা করা হয়ে গেলেও, ভারতের হয়ে খেলার গর্ব সব সময় আমার হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। ধন্যবাদ, টেস্ট ক্রিকেট।” ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার ২০২৩ সালে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন। সেটি ছিল সে বারের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনাল। বাংলার এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তাঁর রাজ্যের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন। যদিও জানা যাচ্ছে, শামি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে দেড় বছর আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি পাঁচ দিনের ক্রিকেটের ধকল আর নিতে পারছেন না। নির্বাচকেরাও জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁকে আর টেস্ট ক্রিকেটের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে না। চলতি রঞ্জি ট্রফিতে শামি তিন ম্যাচে ১৪টি উইকেট নিয়েছেন। এর আগে দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের হয়ে তিন ম্যাচে সাতটি উইকেট নিয়েছিলেন। ভারতের হয়ে ৬৪টি টেস্টে ২২৯টি উইকেট রয়েছে শামির। শামি আধুনিক যুগের ভারতের অন্যতম সেরা এবং সফল ফাস্ট বোলার। নিখুঁত, সোজা সিম পজ়িশনে বলের পর বল করে গিয়েছেন শামি। যে কোনও পিচ থেকে মুভমেন্ট আদায় করার ক্ষমতা ছিল তাঁর। প্রায় এক দশক ধরে ভারতের পেস আক্রমণের মূল স্তম্ভ ছিলেন। ২০১৩ সালে ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল শামির। প্রথম টেস্টেই ৯টি উইকেট নিয়েছিলেন। মোট ছ’বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। ২০১৮ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৬ রানে ৬ উইকেট তাঁর সেরা বোলিং।
সাম্প্রতিক সময়ে, তাঁকে টেস্ট দলে ফেরানোর দাবি উঠলেও বারবার বঞ্চিত থেকে গিয়েছেন। আর শামির অবসরের পর নির্বাচকদের ধুয়ে দিলেন প্রাক্তন কোচ ও ক্রিকেটার রবি শাস্ত্রী। অন্যদিকে ভারতের বর্তমান বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন শামির বিদায়ে। মর্কেল বলেন, “আমি ভাগ্যবান যে শামির মত বোলারদের নিয়ে কাজ করতে পেরেছি। ও অত্যন্ত দক্ষ খেলোয়াড়। আমি যখন ভারতীয় দলে যোগ দিই, তখন ওর কথাবার্তায় ভারতীয় ভাষার ঝলক থাকত। সবার সঙ্গে মিশে যেতে ও আমায় সাহায্য করেছে। তাই তাকে অবসর নিতে দেখা আমার জন্য খুবই দুঃখের। তবে এখনও ঘরোয়া ক্রিকেটে বল করছেন, সেটা দেখতে ভালো লাগে।” গৌতম গম্ভীর হেড কোচ হওয়ার পর মর্কেলকে নিয়ে আসেন। তাঁদের অধীনে শামি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছেন। তবে টেস্ট খেলেননি। কেন খেলেননি, তার উত্তর সম্ভবত সবচেয়ে ভালো দিতে পারবেন প্রাক্তন নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর। ফিটনেসের যুক্তিতে শামিকে আর দলেই নেওয়া হয়নি। অথচ ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করেছেন, উইকেট তুলেছেন। তবু কেন ব্রাত্য থাকলেন? সেই নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ শাস্ত্রী। তাঁর কোচিংয়েই টেস্টে দীর্ঘ সময় খেলেছেন শামি। শাস্ত্রী বলছেন, “ও এখনও টেস্টে ৩০-৪০ উইকেট তুলতে পারত। আরও একবছর খেলতে পারত। এত ভালো একজন বোলারকে সরে যেতে দেখে খারাপ লাগে। আমি শুনেছি, ওর নাকি ফিটনেস ভালো নয়। তাহলে বাংলার হয়ে কীভাবে ১৫-২০ ওভার করে? একজন প্লেয়ার আর কীভাবে নিজের ফিটনেস প্রমাণ করবে? আমি খুব হতাশ যে শামিকে আরেকবার সুযোগ দেওয়া হল না।” ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অভিষেক হয় শামির। টুপি নম্বর ছিল ২৭৯। তারপর ২০২৩-র বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল পর্যন্ত ভারতের জার্সিতে টেস্ট খেলেছেন। ৬৪ ম্যাচে ২২৯ উইকেট আছে তাঁর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জায়গা হচ্ছিল না। যদিও শামি জানিয়েছেন, সাদা বলের ক্রিকেটে খেলবেন। অর্থাৎ বাংলার জার্সিতে সাদা বলের টুর্নামেন্টে ও আইপিএলে তাঁকে দেখা যাবে। কিন্তু বাংলার হয়ে আর রনজি খেলবেন কি না নিশ্চিত নয়। এরপর রনজিতে বাংলার ম্যাচ পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে।





