RK NEWZ ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদার জানান, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জেরা করেই ওই টাকার সন্ধান মিলেছে। তবে তাঁকে নিশানা করতেই পুলিশ পরিকল্পিত ভাবে এমন ঘটনা সাজিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। একই সঙ্গে তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে এনকাউন্টার করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। বুধবার রাতে কালীঘাটের বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে এমনই অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এ দিন অভিষেক বলেন, ‘‘গতকাল থেকে একটা খবর চলছে। বিজেপি এবং রাজ্য সরকারের তরফে, বিশেষত যিনি রক্তক্ষরণের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তিনিও গতকাল এ বিষয়ে বাইট দিয়েছেন। বলা হচ্ছে, ডায়মন্ড হারবারে একটি পার্টি অফিস থেকে এক কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম, বিশেষত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস যে পথে হেঁটেছে, সেই পথে গোদি মিডিয়া হাঁটে না। খবর যাচাই না করেই খবর পরিবেশন করে দেয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এক কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু সেই খবরের সত্যতা কতটা? আদৌ তা সঠিক, নাকি সাজানো ঘটনা, তা তদন্ত করে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা আজকাল মূলধারার সংবাদমাধ্যম অনুভব করে না।’’ এর পর ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘গতকাল থেকে যে খবর চলছে, তাতে বলা হচ্ছে, সরিষায় ডায়মন্ড হারবারের একটি তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস থেকে আমার আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে নিয়ে গিয়ে এক কোটি টাকা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গত ৩১ তারিখ কালীতলা-আশুতি থানার একটি মামলায় তাঁকে উস্তি থানার পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। আমি প্রথমেই আপনাদের দেখাতে চাই, পুলিশ কতটা অপদার্থ হলে এমন দুর্বল চিত্রনাট্য রচনা করতে পারে।’’ এর পরই নিজের আপ্তসহায়ককে পুলিশ এনকাউন্টারের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল সাংসদ। অভিষেক বলেন, ‘‘আমরা গতকালই আমাদের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ইতিমধ্যেই সুমিত রায়ের স্ত্রী পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশ যদি কোনও ব্যবস্থা না নেয়, তা হলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। শুধু তাই নয়, সুমিত রায়কে যখন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখনকার গোটা ঘটনাই ভিডিয়োতে রয়েছে। তাঁকে বলা হয়েছে, ‘আপনি স্বীকার করুন যে এগুলি আপনি জানেন এবং সিজার লিস্টে সই করুন। নইলে গাইঘাটার মতো এনকাউন্টার করে দেব।’’’
অভিষেক জানিয়েছেন, ৪ মে বিজেপি রাজ্য ক্ষমতায় আসার পর ২৭ মে ডায়মান্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন। যেখানে তিনি সুমিতের এনকাউন্টারের পক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন। সঙ্গে সাংসদের আরও দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে এই তদন্ত হচ্ছে বিজেপি নেতা অভিজিতের অভিযোগের ভিত্তিতেই। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় তৃণমূলের একটি পার্টি অফিসে অভিযান চালায় ডায়মন্ড হারবার পুলিশ। সেই অভিযানে উদ্ধার হয় ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদার জানিয়েছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জেরা করেই ওই টাকার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এবার পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।





