মোহনবাগান: ৩ (দ্রাজিচ ২, আরউইন)
ওড়িশা: ২ (ইদ, এভার্টন)
RK NEWZ আইএসএলে এই নিয়ে টানা চতুর্থ জয় মোহনবাগানের। লিগ টেবিলের শীর্ষে এখনও তাঁরা। কিন্তু বাকি তিন ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও সমর্থকদের মনজয় করতে পারল কি প্যানোসের দল? বিশেষ করে যেভাবে অন্তত গোটা ১৫ সুযোগ মাঠে ফেলে এলেন ফরোয়ার্ডরা, তা শুধরোতে না পারলে আগামী দিনে ভোগাবে সবুজ-মেরুনকে। মোহনবাগানের ভাগ্য সুপ্রসন্ন। যেমন সুপ্রসন্ন কোচ প্যানোসের ভাগ্য। এ মরশুমে আগের ৩ ম্যাচে যেমন কোনওক্রমে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল মোহনবাগান, বৃহস্পতিবারের যুবভারতীতেও তেমনটাই হল। খেলা শুরুর ২ মিনিট। সুযোগ নষ্টের ধারা শুরু। একেবারে ২ গজ দূর থেকে বারপোস্টে বল মারলেন লিস্টন। পরের মিনিটে ফের প্রায় একই ধরনের সুযোগ আবারও নষ্ট। সেই যে ধারা শুরু হল, সেটা চলতেই থাকল। কখনও লিস্টন কোলাসো বল পায়ে নিয়ে অতিরিক্ত কেরামতি দেখাতে গিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন, কখনও একের বিরুদ্ধে এক সহজ সুযোগ পেয়েও গোলের পাঁচ গজ দূরে বল ঠেলে দেন মনবীর সিং। লি এরউইন আবার আরও এক কাঠি উপরে। সতীর্থরা ভালো জায়গায় থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজে গোলে শট নেবেন। এবং সেই শট হবে নিষ্প্রভ। ফলে যেটা হওয়ার, সেটাই হল। যে প্রথমার্ধে অন্তত ৩ গোলে এগিয়ে থাকা উচিত ছিল মোহনবাগানের, সেটাই শেষ হল গোলশূন্যভাবে।
কোচ প্যানোস তখন হাত কামড়াচ্ছেন। কোথা থেকে গোল আসবে, সেই উত্তর খুঁজে চলেছেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য তাঁর অপেক্ষা শেষ হল। ৪৭ মিনিটেই দুর্দান্ত গোল করে সবুজ-মেরুনকে এগিয়ে দিলেন দ্রাজিচ। এই মরশুমে মোহনবাগানের যে গুটিকয়েক ভালো দিক খুঁজে পাওয়া গিয়েছে দ্রাজিচ সেগুলির মধ্যে অন্যতম। কিন্তু মোহনবাগান একা গোল করবে আর ওড়িশা বসে থাকবে, সেটা তো হয় না। গোটা ম্যাচে সেভাবে সংগঠিত আক্রমণে যেতে না পারলেও, মাঝেমাঝে প্রতি আক্রমণে বিপদ সংকেত দিচ্ছিল তাঁরা। ৫২ মিনিটে মহমুদ ইদের গোলে সমতা ফিরিয়ে দিল ওড়িশা। সেটাও খেলার গতির বিপরীতে গিয়ে। আবারও গোলের সন্ধান শুরু মোহনবাগানের। আবারও গোল মিসের বন্যা। এবার প্যানোস লিস্টনকে তুলে নামালেন ছাংতে-কে। সেই পরিবর্তন কাজে দিল। ৭৪ মিনিটে ছাংতের বাড়ানো পাস থেকেই ফের গোল করলেন দ্রাজিচ। মোহনবাগান সমর্থক হয়তো এই গোলকেই জয়সূচক গোল ভেবে স্বস্তিতে ছিলেন। কিন্তু নাটক আরও বাকি ছিল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই রক্ষণের ভুলে ফের গোল শোধ করল ওড়িশা। এই মরশুমে আক্রমণের পাশাপাশি মোহনবাগানকে সমানে ভোগাচ্ছে রক্ষণও। ওই গোল শোধের পর মনে হচ্ছিল মোহনবাগান হয়তো নিশ্চিত জেতা ম্যাচটা মাঠে ফেলে আসবে। কিন্তু তেমনটা হল না শেষমেশ এরউইনের সুবাদেই। ৮৭ মিনিটে বক্সের ভিতরে বল ধরে দুর্দান্ত ফিনিশ করলেন তিনি। শেষমেশ সেটিই জয়সূচক গোল।





