RK NEWZ ইতিহাস গড়লেন মণীষা ভানবালা। ভারতের প্রথম মহিলা কুস্তিগির হিসাবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতলেন তিনি। শুক্রবার ফাইনালে তিনি পিছিয়ে পড়েও হারিয়েছেন আমেরিকার আবিগেইল নেটেকে। অতীতে ভারতের কোনও মহিলা কুস্তিগির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা পাননি। অলিম্পিক্স বা এশিয়ান গেমসে ভারত কুস্তি থেকে পদক জিতেছে ধারাবাহিক ভাবে। কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা এত দিন ছিল না। ২০২১-এ প্রথম মহিলা কুস্তিগির হিসাবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছিলেন অংশু মালিক। তিনি জিততে পারেননি। এ বার নীলম সিরোহি (৫০ কেজি) এবং কাজল ধোচাক (৭৬ কেজি) ফাইনালে উঠলেও হেরে গিয়েছে। কিন্তু মণীষার ভুল হল না। তিনি চতুর্থ মহিলা কুস্তিগির হিসাবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠে সোনা জিতে নিলেন। পুরুষ বিভাগে একমাত্র ভারতীয় কুস্তিগির হিসাবে সুশীল কুমারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা রয়েছে। ২৯ বছরের মণীষা হরিয়ানার রোহতকের মেয়ে। এ দিন ফাইনালে তিনি প্রথম রাউন্ডের শেষে ১-৫ পিছিয়ে ছিলেন। আমেরিকার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একেবারেই সুবিধা করতে পারছিলেন না। কিন্তু শেষ রাউন্ডে সব বদলে যায়। তিন মিনিটে সাত পয়েন্ট জিতে নিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন মণীষা। কিছু দিন আগে এশিয়ান গেমসে খেলে এসেছিলেন মণীষা। পদকের প্রত্যাশা থাকলেও জাপানের কুস্তিগির আকারি ফুজিনামির কাছে হেরে যান তিনি। তবে দুঃখ পাননি। দেশে ফিরেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি শুরু করে দেন। রোহতকের ছোটু রাম আখড়াতে মনদীপ সিংহের অধীনে অনুশীলন করেন মণীষা। ফাইনালের আগে তাঁর কোচ বলেছিলেন, “এই ফলাফল মণীষার কঠোর পরিশ্রমের ফসল। ওর কাছে সোনা-সহ চারটে এশীয় পদক রয়েছে। ভেবেছিলাম এশিয়াডে সোনা জিতবে। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম করলে কোথাও না কোথাও ঠিক সাফল্য মেলে।” পিছিয়ে পড়েও মণীষার জয়ের রহস্য ফাঁস করেছেন ভারতের কোচ বীরেন্দ্র দাহিয়া। তিনি পিটিআই-কে বলেছেন, “আমরা ওর কুস্তির ধরন নিয়ে ভাল করে পড়াশোনা করেছি। আমরা জানতাম পাঁচ মিনিটের পর ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সেটা হলে মণীষারই সুবিধা। এ রকম কুস্তি আমাদের দেশের ভাল কুস্তিগিরেরাই করতে পেরেছে। অর্থাৎ কঠিন সময়ে সেরাটা বার করে আনা। বজরং পুনিয়া, রবি দাহিয়া, আমন সেহরাবত আগে এই কাজ করে দেখিয়েছে।”





