RK NEWZ বুধবার বিধানসভায় শোভনদেবের হাতে বিজয়ার মিষ্টিমুখ, বৃহস্পতি সকালেই কাজল শেখের নিরাপত্তা প্রত্যাহার। এদিন সন্ধেতেই কাজল শেখের নানুরের বাড়ি ঘিরে ফেলল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কাজলের দুই ভাইপো শেখ হুমায়ুন হোসেন ওরফে ফিলিপ এবং শেখ জাহাঙ্গির ওরফে লয়েডের বিরুদ্ধে একুশের ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। সূত্রের খবর, সেই মামলাতেই এদিন অভিযানে নামে নানুর থানার পুলিশ। প্রথমে বোলপুরের আরতি সংলগ্ন এলাকায় ফিলিপের বাড়িতে বেশ কিছুক্ষণ তল্লাশি চালানো হয়। পরে পাপুড়ি গ্রামে কাজলের বাড়িতে চলে অভিযান। সূত্রের খবর, তাঁর বাড়ি থেকে ৭ এমএম আগ্নেয়াস্ত্র, ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে নানুর থানার পুলিশ। বর্তমানে হাসনের বিধায়ক কাজল শেখ কলকাতায় রয়েছেন। মিষ্টিমুখ বিতর্কে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে বর্তমানে রয়েছেন ডেমোক্রেটিক তৃণমূলের বিধায়ক। এই আবহেই কাজল শেখের বাড়ি ও গ্রামে ছেয়ে গেল পুলিশ। বুধবার বিধানসভায় কালীঘাট শিবিরের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিধানসভায় বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন কাজল শেখ। হয় ‘মিষ্টি সৌজন্য’। এরপরেই ঋতব্রতপন্থী হাসনের বিধায়কের কালীঘাট তৃণমূলে ফেরা নিয়ে তৈরি হয় জোর জল্পনা। এই জল্পনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে নিরাপত্তা প্রত্যাহার হয় কাজল শেখের। জানা যায়, সভাধিপতি থাকাকালীন ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরি নিরাপত্তা পেতেন তিনি। সরকার বদলের পর দু’জন সশস্ত্র পুলিশ কর্মীকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এদিন সকাল থেকেই সেই নিরাপত্তাও তুলে নেওয়া হয়েছে। জল্পনা তীব্র হয় শোভনদেবের বক্তব্যেও। তিনি জানান, হাসনের বিধায়ক দিদির কাছে ফিরতে চাইলে স্বাগত। তবে পুরো বিষয়টি ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলেই উড়িয়ে দেন কাজল শেখ। সূত্রের খবর, নিরাপত্তা চেয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষের দ্বারস্থও হন বিধায়ক। কাজলের ‘মিষ্টিমুখ’-এর সূত্র ধরে ঋতশিবির থেকে মমতা তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহে নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পরই বিধায়কের বাড়িতে পুলিশি অভিযান। এই তিনটি বিষয়কে একসূত্রে বাঁধতে চান বিধায়ক? কালীঘাট তৃণমূলে যোগদানের প্রসঙ্গ উড়িয়ে তিনি বলেন, “শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিজয়ার মিষ্টি দিয়েছিল, এটা নিছকই সৌজন্য। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। এটাই বাংলার সংস্কৃতি। পুলিশ কী কারণে বাড়িতে গেছে জানি না। কিছুই পাবে না। আমি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাতে চাই যেন আমার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিবেচনা করা হয়।” সূত্রের খবর, বিধায়কের ভাইপোদের বিরুদ্ধে ওঠা ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন কাজল শেখের বাড়িতে অভিযানে যায় পুলিশ। তাঁর বাড়ি থেকে ৭ এমএম পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। তাঁরা সকলেই একই বাড়িতে থাকেন বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপোড়েনের পারদ ক্রমশ উর্ধ্বমুখী। একে একে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে গত কয়েকদিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন। বস্তুত, সেই কারণে দল ও প্রতীক নিয়ে লড়াই ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনে চূড়ান্ত শুনানির দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই দু’পক্ষের চাপানউতোরের জেরে কালীঘাটপন্থী একাধিক বিধায়কদের উপর পুলিশের চাপ ক্রমশ বাড়ছে বলে অভিযোগ। কালীঘাট শিবিরের তরফে বিধানসভার দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, ‘‘ভয়ংকর অত্যাচার শুরু হয়েছ মমতাকে সমর্থন করা বিধায়কদের উপর। দু’জন মহিলা বিধায়ক এসে অভিযোগ করেছেন, তাঁদের ছেলেদের পুলিশ থানায় আটকে রেখে বলেছে, আগে গিয়ে ঋতব্রতদের লিস্টে সই করে এসো তা না হলে ছাড়া হবে না। ছেলেদের মামলা দিয়ে দেবে, অন্তত ছয়মাস জেলে থাকবে। ওঁদের (ঋতব্রত) সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন বিধায়ক পুজোর মধ্যে ও পরে যোগাযোগ করেছেন, সবাই চলে আসবেন বলেছেন।’’ এরপরই শোভনদেব দাবি করেন, ‘‘অনেকে চলে আসায় অংকের হিসাবে আমাদের শিবিরে এখন বিধায়ক সংখ্যা ২৭ জন, অর্থাৎ তৃণমূলের জয়ীদের হিসাবে এক তৃতীয়াংশের বেশি হয়ে গিয়েছে।’’ যদিও ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম নেতা তথা বিধানসভার ডেপুটি লিডার এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা পাল্টা বলেন, ‘‘এই সংখ্যার দাবি ঠিক নয়, দু’একজন বাড়তে পারে, কিছুতেই ওটা ২৭ হবে না।’’ বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সময় কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে ছিল মাত্র ১৮জন। একে একে শিবির বদল করার জেরে সেটাই বেড়ে হল ২৭ হয়েছে বলে দাবি শোভনদেবের। হাসনের বিধায়ক কাজল শেখ, শোভনদেবের হাত থেকে বিজয়ার মিষ্টি-মুখ নিয়ে এত বির্তক যাঁকে ঘিরে, তিনিও এদিন বিধানসভায় ছিলেন। বলেন, ‘‘আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলগতভাবে আমি মমতাদির সঙ্গে, তবে বিরোধী দলনেতা হিসাবে এখনও আমি ঋতব্রতকে মানছি।’’ বৃহস্পতিবারই তাঁর দুই নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার হয়েছে, বাড়িতে পুলিশি অভিযান হয়েছে বলে দাবি শোভনদেবের। প্রথম থেকে ঋতব্রত শিবিরে থাকা উত্তরবঙ্গের চাকুলিয়ার বিধায়ক মিনহাজুল আফরিন আজাদ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর রায়গঞ্জের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেননি। বিধানসভায় এদিন মিনহাজুলের বক্তব্য, ‘‘আমি বিরোধী দলনেতার জন্য একসময় ঋতব্রতর সমর্থনে সই করেছিলাম। কিন্তু আমি মমতাদির সঙ্গে আছি, হলফনামায় দিদির পক্ষে সই করেছি। লোকেদেরও সই করাচ্ছি।’’ তবে ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে থাকা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ ও বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দার প্রকাশ্যেই মমতার পক্ষে সওয়াল করলেও দু’জনের নিরাপত্তারক্ষী অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও মহালয়ার দিন নিজের কেন্দ্রে ঢোসা থেকে ফেরার পথে বিভাসের উপর বিজেপির হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা বিভাসের গাড়ি ভাঙচুর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। তারপর মামলাও হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিছুদিন আগেই ঋতব্রত শিবিরের আরেক নেত্রী প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন ডেপুটি লিডার ও গণতান্ত্রিক তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রীর পদে ইস্তফা দিয়েছেন।





