RK NEWZ গত ২৫ বছরে রাজনৈতিক হিংসায় যাঁদের প্রাণ গিয়েছে, নির্বাচনের সময় বা নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের। নিহতদের পরিবার পিছু একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেবে নবান্ন। সূত্রের খবর, রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রস্তাবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আইনি তরফেও মিলেছে অনুমোদন। সব দিক ঠিক থাকলে, দ্রুতই এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে। নবান্ন সূত্রের খবর, গত ২৫ বছরের রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন যারা, এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে সকলকেই। তৃণমূল আমলে নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় যাঁদের প্রাণ গিয়েছে, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যেমন এই সুবিধা পাবেন, শুধু তাই নয়, ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার আগে বাম আমলের ১০ বছরও এই প্রকল্পের আওতায় থাকবে। লোকসভা, বিধানসভা ও ত্রিস্তর পঞ্চায়েত—সব ভোটের হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকেই এই প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের মতে, স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য শীঘ্রই সরকারি ভাবে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, তার বিস্তারিত বিবরণ ও প্রমাণ সহ নথিপত্র আবেদনপত্রের সঙ্গে পেশ করতে হবে। জেলা প্রশাসনের তরফে এই আবেদন জমা পড়বে। জেলাশাসকের দপ্তরেই সেই আবেদনের সমস্ত তথ্য ও নথি যাচাই হবে। পুলিশি রিপোর্ট এবং প্রশাসনিক যাচাই প্রক্রিয়ার পরেই চূড়ান্ত তালিকায় সিলমোহর পড়বে। এরপরই আবেদন করা নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন সরকারের ইতিবাচক দিকটি প্রকাশ পাচ্ছে, তেমনই অন্য দিকে দীর্ঘদিন ধরে নিহতদের পরিবারগুলির ক্ষোভ প্রশমনেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বারুইপুরে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ জনসভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঞ্চে দেখা গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার একাধিক বিজেপি বিধায়ক, শীর্ষ নেতাদের। মুখ্যমন্ত্রী সভায় ছিলেন মথুরাপুর, যাদবপুর, ডায়মন্ড হারবার এবং জয়নগর বিজেপির সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব ও কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। এই জনসভা থেকে তৃণমূল ও সিপিএমের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সিপিএমের অত্যাচার থেকে বাংলাকে বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়েই একসময় তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হয়েছিল। সেটা জানতেন অটলজিও (প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী)। সেই তৃণমূলই এখন সিপিএমের সঙ্গে দোস্তি করছে। বেবি আর আন্টি এখন একসঙ্গে চা খাচ্ছেন। আসলে বাংলায় কোথাও আপনার জায়গা নেই। আপনি ওই দিল্লিতে রামলীলা ময়দানেই যান।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি মমতা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নাম না করে তাঁকে ‘এঁচোড়ের পাকা ভাইপো’ বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। ফলতার নির্বাচনী প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে ইলেকট্রিক চুল্লি নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করার অভিযোগও তোলেন। পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে তাঁর দাবি, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিরোধীদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন তোলেন, সাংসদ কোথায়? পুজোর সময় রাজনৈতিক আমন্ত্রণ না পাওয়া নিয়েও ব্যঙ্গ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘‘আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে, বড় চোরটা কবে যাবে। সময়টা একটু দেখে সব ঠিকঠাক করে করতে হয়। বড় চোর যাবে, চিন্তার কোনও কারণ নেই।’’





