Saturday, July 4, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

লজ্জা! ‌জগন্নাথদেবের নিমকাঠ চুরি মুখ্যমন্ত্রীর নামে? পুরীর দয়িতাপতিকে শোকজ! দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের ইংরেজি হরফে ‘জগন্নাথ ধাম’ লেখা নীল রঙের বড় কাঠামো এখন উধাও!

একে তো চাকরি চুরি, বালি চুরি, কয়লা চুরি সহ নানা ক্ষেত্রে বদনামের দায় রাজ্যকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে, এবার আবার নিমকাঠ! প্রতিবেশী দুই রাজ্য বাংলা ও ওড়িশা। দিঘার জগন্নাথধাম তৈরির পরেই সেই সম্পর্কে ক্রমশ চিড়। ওড়িশা সরকার সম্প্রতি দিঘার জগন্নাথধামের মূর্তিতে নিমকাঠ ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন। তদন্তের নির্দেশও। ওড়িশার সন্দেহ পুরীর মন্দিরের নবকলেবরের পরে বাড়তি পবিত্র নিমকাঠ কোনওভাবে দিঘার মূর্তি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জি কালিঘাটের স্কাইওয়াক করলে কোয়েশ্চেন হয় না। মমতা ব্যানার্জি দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক করলে কোয়েশ্চেন হয় না। মমতা ব্যানার্জি দুর্গাপুজো করলে তখন কোয়েশ্চেন হয় না।। মমতা ব্যানার্জি কালীপুজো করলে কোয়েশ্চেন হয় না। জগন্নাথধাম টা খুব গায়ে লেগেছে না! বলা হচ্ছে আমি নাকি নিমগাছও চুরি করেছি। আরে আমার বাড়িতেই তো চারটে নিমগাছ আছে। কটা দরকার জিজ্ঞাসা করুন। আমাদের চুরি করতে হয় না। চুরি বিদ্যা ভয়ঙ্করী যদি সে পড়ে ধরা। যারা চোর…চোরের মায়ের বড় গলা। তুমি যদি হিন্দু ধর্মের সমর্থক হও, মমতা ব্যানার্জি নিমকাঠ চুরি করে জগন্নাথধাম করেছে মমতা ব্যানার্জির এই অবস্থা হয়নি। আমাদের মূর্তি তো মার্বেলের ছিল। আমাদের বাড়িতেই তো আছে। আপনাদের অনেকের বাড়িতেই আছে। ওটা নিয়ে এসেছেন দ্বৈতপতি। যে জায়গা থেকে বলা হচ্ছে সেই জায়গা থেকে নয়। তাকে ডাকা হয়েছিল শুনেছি। তিনি স্ট্রেট বলে দিয়েছেন, তোমরা যেটা বলেছ সেটা নয়। আমি আমার অন্য জায়গা থেকে করেছি। তাকে আবার কোয়েশ্চেন করা হয়েছিল তুমি কেন পুজো করতে গিয়েছিলে? নোটিফিকেশন দিয়েছে কেউ যাবে না জগন্নাথধামে। কোনও পুরোহিত। আবার তাকে বলা হচ্ছে, কী একটা যেন বলা হচ্ছে। তিনটে পয়েন্ট বলেছে। কোনও একটা মিডিয়াতে। এত গায়ে লাগছে কেন? আমরা তো সবাই পুরীতে যাই। আমরা তো এই প্রশ্ন করি না। আমি তো পুরীতে গেলে আরএসএস বিক্ষোভ দেখায়, বিজেপি বিক্ষোভ দেখায়। ভুলে গেছেন। লজ্জা করে না।’

পুরীর দ্বৈতাপতির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যে নিমকাঠের কথা বলা হচ্ছে সেটা ‘ওই জায়গা’ থেকে নয়। বাস্তবিকই যদি পুরীর বাড়তি নিমকাঠ দিঘার মূর্তিতে কাজে লেগে থাকে ও তা যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় তবে ফের বড় অস্বস্তি অপেক্ষা করছে বাংলার জন্য। একের পর এক দিঘা মন্দির কাণ্ড সামনে আসছে। রাজ্যে চাকরি চুরির পরে এবার জগন্নাথদেবের নিমকাঠও চুরির দায় বর্তাল রাজ্যের উপর? তুমুল বিতর্ক। দিঘার জগন্নাথ মূর্তিতে ব্যবহৃত নিমকাঠ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ ওড়িশা সরকারের।

‘‌চুরি বিদ্যা ভয়ঙ্করী যদি সে পড়ে ধরা। যারা চোর…চোরের মায়ের বড় গলা। তুমি যদি হিন্দু ধর্মের সমর্থক হও, মমতা ব্যানার্জি নিমকাঠ চুরি করে জগন্নাথধাম করেছে মমতা ব্যানার্জির এই অবস্থা হয়নি।’‌ বললেন মুখ্যমন্ত্রী। একের পর এক দিঘা মন্দির কাণ্ড সামনে আসছে। রাজ্যে চাকরি চুরির পরে এবার জগন্নাথদেবের নিমকাঠও চুরির দায় বর্তাল রাজ্যের উপর? তুমুল বিতর্ক। দিঘার জগন্নাথ মূর্তিতে ব্যবহৃত নিমকাঠ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ ওড়িশা সরকারের। সূত্রের খবর, পুরীর জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন দিঘার মন্দিরে মূর্তি তৈরির জন্য পুরীর মন্দিরের উদ্বৃত্ত পবিত্র কাঠ ব্যবহারের অভিযোগ। পুরীর মন্দিরের প্রবীণ সেবায়েতকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ জারি। এমনকি শোকজ ওই সেবাতেয়তকে। প্রশাসনের তরফে জারি বিবৃতিতে স্পষ্ট, পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে ভগবান জগন্নাথের ‘অগণিত ভক্ত ও উপাসকদের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করা’ এবং মন্দিরের ‘মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার’ অভিযোগে দয়িতাপতি নিজোগের সচিব এবং প্রবীণ সেবায়েত রামকৃষ্ণ দাসমহাপাত্রকে নোটিশ জারি।

‘‌দয়িতাপতি’‌ জগন্নাথদেবের দেহরক্ষী হিসাবে বিবেচিত সেবায়েতদের দল। ৪ মে থেকে সাত দিনের মধ্যে দশমহাপাত্রকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে ১৯৫৫ সালের শ্রী জগন্নাথ মন্দির আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। ৩০ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে দিঘা মন্দিরে অভিষেক অনুষ্ঠানে দাসমহাপাত্র সহ পুরীর আরও ৫৫ জন সেবায়েত উপস্থিত ছিলেন। দাসমহাপাত্র দিঘা মন্দিরের জন্য ভগবান বলভদ্র, দেবী সুভদ্রা এবং ভগবান জগন্নাথের মূর্তি তৈরি করতে ‘দারু গৃহে’ সংরক্ষিত পুরী মন্দিরের পবিত্র কাঠ ব্যবহার করেছিলেন এবং সেগুলি স্থাপনের জন্য দীঘা মন্দিরে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

নোটিশে আরও উল্লেখ, দাসমহাপাত্র স্বীকার করেছেন যে তিনি দিঘা মন্দিরের মূর্তি তৈরির জন্য পুরী মন্দিরের পবিত্র কাঠ ব্যবহার করেছিলেন। আবার পর মূহুর্তেই ওড়িশা মিডিয়ায় অস্বীকার করেছিলেন। দয়িতাপতির দাবি, তিনি অন্য একটি নিম গাছ ব্যবহার করে কাঠের দেবদেবী তৈরি করেছেন। দয়িতাপতি নিযোগের সচিবের দায়িত্বে থাকা প্রবীণ সেবায়েতের কাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এসজেটিএ। পুরীর মন্দিরের ঐতিহ্য অনুসারে, ‘‌নবকলেবর’‌ উৎসবের পরে উদ্বৃত্ত কাঠ একটি ঘরে সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনে মূর্তি মেরামতের জন্য ব্যবহৃত হয়। ‘‌বনজোগা’‌ অনুষ্ঠানের সময় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাঠ সংগ্রহ করা হয়। ‘‌নবকলেবরের’‌র সময় যে কাঠ সংগ্রহ করা হয়, তা পবিত্র ও বিরল বলে মনে করা হয় বলে জানিয়েছেন এক পুরোহিত। দশমহাপাত্রের পরস্পরবিরোধী মন্তব্য ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ। কারণ, তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার দিঘা মন্দিরকে ‘‌জগন্নাথ ধাম’‌ হিসাবে চিত্রিত করা এবং সেখানে মূর্তি নির্মাণে পুরী মন্দিরের উদ্বৃত্ত কাঠ ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ওড়িশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন ২ মে এসজেটিএকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলেন। এসজেটিএর প্রধান প্রশাসক অরবিন্দ পাধি দশমহাপাত্রকে ডেকে প্রায় ৯০ মিনিট জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দয়িতাপতি নিযোগের সম্পাদক হিসেবে পুরী মন্দির থেকে পবিত্র কাঠ নিয়ে গিয়ে দিঘা মন্দিরের মূর্তি তৈরিতে তা ব্যবহার করেছিলেন কি না, তা জানতে চায় প্রশাসন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘‌আমাদের চুরি করতে হয় না। চুরি বিদ্যা ভয়ঙ্করী যদি সে পড়ে ধরা। যারা চোর…চোরের মায়ের বড় গলা। তুমি যদি হিন্দু ধর্মের সমর্থক হও, মমতা ব্যানার্জি নিমকাঠ চুরি করে জগন্নাথধাম করেছে মমতা ব্যানার্জির এই অবস্থা হয়নি। আমাদের মূর্তি তো মার্বেলের ছিল। আমাদের বাড়িতেই তো আছে। আপনাদের অনেকের বাড়িতেই আছে। ওটা নিয়ে এসেছেন দ্বৈতপতি। যে জায়গা থেকে বলা হচ্ছে সেই জায়গা থেকে নয়। তাকে ডাকা হয়েছিল শুনেছি। তোমরা যেটা বলেছ সেটা নয়। আমি আমার অন্য জায়গা থেকে করেছি।’‌ প্রশ্ন, মমতা অন্য জায়গা থেকে কী করেছেন?‌

‘জগন্নাথ ধাম’ লেখা নীল রঙের সেই বড় কাঠামো। দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের দিনও ছিল। মন্দিরের ঠিক পাশে ডান দিতে জাতীয় সড়কের উপর ইংরেজি হরফে ‘জগন্নাথ ধাম’ লেখা নীল রঙের সেই বড় কাঠামো এখন উধাও! যা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে দিঘায়। প্রশ্ন, জগন্নাথ মন্দিরের পাশ থেকে ‘সুদৃশ্য’ কাঠামো সরিয়ে নেওয়া হল কেন? দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ‘ধাম’ বলা নিয়ে বিতর্ক। অভিধান অনুসারে, ধামের অর্থ হল তীর্থস্থান বা আবাস। আবাস সাধারণ মানুষেরও হতে পারে। যেমন, মাতৃধাম। আবার দেবতার নামেও হতে পারে। যেমন, গোলোকধাম। তীর্থস্থান হতে গেলে দেবতা বা মহাপুরুষের লীলা বা অধিষ্ঠানক্ষেত্র হতে হবে। ধাম কথার অর্থ তেজ, জ্যোতিও হয়। জয়তি কনক:‌ধামা কৃষ্ণ চৈতন্য নামে। অনেকের ব্যাখ্যা, তেজোদ্দীপ্ত কেউ জন্ম গ্রহণ করলে কিংবা প্রতিষ্ঠা করলে সেটা ধাম হতে পারে। নবদ্বীপে চৈতন্যদেবের জন্ম হওয়ার কারণে, সেটি ধাম। অতএব, দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ধাম বলা যায় না।

ইসকন, কলকাতার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস দিঘার জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্টেরও অন্যতম সদস্য। দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনে পুরীর জগন্নাথধামের অন্যতম পুরোহিত রাজেশ দ্বৈতাপতির সঙ্গে কাজ করা রাধারমণ দাসের ব্যাখ্যা, ”সনাতন হিন্দু শাস্ত্রমতে, মূলত চারটি ধাম আছে আমাদের দেশে বদ্রীনাথ, পুরীর জগন্নাথধাম, রামেশ্বরম, দ্বারকা। এর বাইরেও ধাম বলে পরিচিত আরও অনেক তীর্থক্ষেত্র। যেমন, বাংলার নবদ্বীপধাম, উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনধাম। আসলে যেখানেই ভগবানের প্রতিষ্ঠা, সেই জায়গা ধাম বলে পরিচিত হয়। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে তো দেবতার অধিষ্ঠান, সেই জায়গা কীভাবে সাধারণ হয়ে থাকবে? তা অবশ্যই পবিত্র স্থান। তাই দিঘার মন্দিরকে যে জগন্নাথধাম বলা হচ্ছে, তাতে কোনও অসুবিধা নেই। সম্পূর্ণ শাস্ত্র মেনেই এই মন্দিরকে জগন্নাথধাম বলা হচ্ছে। হাতজোড় করে বলছি, যাঁরা এটা নিয়ে বিতর্ক করছেন, তা পুরোপুরি অযথা। কোনও বিতর্ক করবেন না। এসবের অর্থ ভগবানের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেওয়া।”

মমতা বলেন, ‘ এত হিংসা? যখন আপনাদের আলুর টান পড়ে বাংলা জোগায়। আমি ওড়িশাকে ভালোবাসি। যখন আপনাদের সাইক্লোনে ইলেকট্রিসিটি সব ভেঙে যায় সমস্ত রাস্তার পাইপগুলো..নষ্ট হয়ে যায় তখন আপনারা আমাদের ইঞ্জিনিয়ার চান। আমাদেরও সাইক্লোন হয় তা সত্ত্বেও আমরা পাঠাই। আমাদের বাংলার পুলিশরা সবথেকে বেশি যায় ওড়িশায়। জগন্নাথদেবের উল্টোরথে বলুন, সোজা রথে বলুন সারা বছর ধরে। আমরা যদি একটু জগন্নাথধাম করি তবে আপনাদের আপত্তির কি আছে? আপনারাও ভালো থাকুন, বাংলাও ভালো থাকুক। আপনারা কেন আমাদের লোকেদের ধরে মারছেন। আমাদের কাছে খবর এসেছে ওড়িশায় বাংলায় কথা বললেই তাকে মারা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রেও হয়েছে। উত্তরপ্রদেশেও হয়েছে। বিহারেও হয়েছে। আমি শুধু একটা কথা বলব আপনারা আমাদের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর বাংলায় কথা বলছে বলে অত্যাচার করছেন। আমরা কিন্তু করব না। এটাই আপনাদের সঙ্গে আমাদের তফাৎ। আমার এখানেও দেড় কোটি বাইরের লোক আছে কাজ করে। সব ধর্মের সব বর্ণের, সব রাজ্যের। …আমি না করলেও হিংসুটে লোকের তো অভাব নেই। হিংসার কোনও ওষুধ আছে। এরাই কোনও সংগঠনের নামে কাউকে কাউকে থ্রেট করে চলে আসবে। আমি চাই না কারোর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হোক। আমি তাই ওড়িশা সরকারকে, বিহার সরকারকে রাজস্থান সরকারকে চিফ সেক্রেটারি চিঠি পাঠাচ্ছেন, ডিজি সম্ভবত কথা বলেছেন, আপনাদের সুমতি হোক। শুভ বুদ্ধি হোক। শকুনি মামা দয়া করে হবেন না। লাল শাক, আর লাউ শাক এক নয়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles