RK NEWZ ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে (ভারতীয় সময়) আমেরিকায় পৌঁছোন অভিষেক। জন্স হপকিন্স হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। এর আগে ওই হাসপাতালেই তাঁর চোখের অস্ত্রোপচার হয়েছিল।সুপ্রিম কোর্টের অনুমতিতে চোখের চিকিৎসা করতে আমেরিকায় গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপ্যাধ্যায়। ১০ দিনের বেশি তিনি আমেরিকায় রয়েছেন। এখন তাঁর চোখের কী অবস্থা, সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তারই আভাস দিলেন তৃণমূল সাংসদ। অনেকে মনে করছেন, চোখের চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশযাত্রায় ‘বাধা’ দেওয়ার জবাবও প্রচ্ছন্ন ভাবে লুকিয়ে রয়েছে অভিষেকের বার্তায়। ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে (ভারতীয় সময়) আমেরিকায় পৌঁছোন অভিষেক। জন্স হপকিন্স হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। এর আগে ওই হাসপাতালেই তাঁর চোখের অস্ত্রোপচার হয়েছিল। এখন তাঁর চোখের পরিস্থিতি কেমন, তা বোঝাতে একটি ছবি ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে পোস্ট করেন অভিষেক। সঙ্গে দু’লাইনের বার্তা। প্রথমেই তিনি লেখেন, ‘‘এই ক্ষতচিহ্নই বলে দিচ্ছে আমি কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।’’ তার পরেই তৃণমূল সাংসদের জবাব, ‘‘সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার ধারেকাছেও যে নেই, তা এই চোখই বলে দিচ্ছে।’’
বিদেশে যেতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে যে মামলা করেছিলেন অভিষেক, তা খারিজ হয়ে যায়। শুনানিতে রাজ্যের তরফে অভিষেকের বিদেশযাত্রায় আপত্তি তোলা হয়। অভিষেকের বিরুদ্ধে যে একাধিক মামলা চলছে, আদালতের শুনানিতেও সে কথা তুলে ধরেন রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার। এ অবস্থায় তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিলে তদন্তে সমস্যা হবে বলে হাই কোর্টে সওয়াল করেন রাজ্যের আইনজীবী।
হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ জানায়, চিকিৎসা সংক্রান্ত মতামত নেওয়ার জন্য অভিষেককে এসএসকেএম হাসপাতালে যেতে হবে। সেখানকার চক্ষু বিভাগের প্রধান একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে অভিষেকের বিদেশযাত্রার প্রয়োজনীয়তার দিকটি খতিয়ে দেখবেন। কিন্তু অভিষেকের আইনজীবী আদালতে জানিয়ে দেন যে, তাঁর মক্কেল এসএসকেএম-এ যাবেন না। তার পর নির্দেশ দিতে গিয়ে পুরো মামলাই খারিজ করে দেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। হাই কোর্টে মামলা খারিজের পর ৭ অগস্ট গভীর রাতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতেও রাজ্যের তরফে অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির প্রসঙ্গ তোলা হয়। যদিও শীর্ষ আদালত জানায়, শুধুমাত্র অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলেই তাঁকে বিদেশে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে বাধা দেওয়া যায় না। একজন ব্যক্তির বিদেশে যাওয়ার এবং নিজের পছন্দমতো চিকিৎসা করানোর অধিকার রয়েছে। গত ১০ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট জানায়, তিন সপ্তাহের জন্য অভিষেকের বিদেশযাত্রায় কোনও বাধা দেওয়া যাবে না। আদালতের সময়সীমা অনুযায়ী, ২২-২৩ তারিখ কলকাতায় ফেরার কথা।
ক্যামাক স্ট্রিটের তরফে দাবি করা হয়েছিল, নভেম্বর থেকেই চোখের সমস্যা বাড়ছিল অভিষেকের। তবে বিধানসভা ভোটের জন্য যেতে পারেননি। ভোট মেটার পরই তাই আমেরিকায় গিয়ে চোখের চিকিৎসা করাতে চান অভিষেক। কিন্তু রাজ্য সরকারের আপত্তি, হাই কোর্টের অনুমতি না-দেওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতিতে আমেরিকায় যান অভিষেক। সূত্রের খবর, একটা দীর্ঘ প্রতিবেদন বা লেখা পড়তে সমস্যা হচ্ছিল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের। একটা প্যারা পড়ার পর পরের প্যারা বাদ দিয়ে তার পরের প্যারায় চোখ চলে যাচ্ছিল তাঁর। দুই প্যারার মাঝের প্যারা এড়িয়ে যাচ্ছিল অভিষেকের চোখ। এখনও পর্যন্ত দুই চোখ মিলিয়ে বার দশেক অস্ত্রোপচার হয়েছে অভিষেকের। ২০১৬ সালের ১৯ অক্টোবর মুর্শিদাবাদে দলীয় কর্মসূচি সেরে ফেরার সময় সিঙ্গুরের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের উপর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেকের গাড়ি দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল। তাঁর চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। সেই থেকে আমেরিকার জন্স হপকিন্স হাসপাতালে একাধিক বার তাঁর বাঁ চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে। পরে ডান চোখেও অস্ত্রোপচার হয় অভিষেকের।




