Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

লড়ছেন তিলক! জয়ের গন্ধ পাচ্ছেন ঈশানেরা!‌ শামি, মুকেশদের দাপটে চালকের আসনে পূর্বাঞ্চল

RK NEWZ চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামের যে পিচে মহম্মদ সিরাজের মতো বোলার ওভার প্রতি প্রায় ৭ রান দিয়েছেন, সেখানেই বলকে দিয়ে কথা বলালেন মহম্মদ শামি ও মুকেশ কুমার। বাংলার দুই পেসারের দাপটে তৃতীয় দিনের শেষে দক্ষিণাঞ্চলের রান ৬ উইকেটে ২৪২। এখনও পূর্বাঞ্চলের থেকে ৪৬৬ রানে পিছিয়ে। চেন্নাইয়ের মাঠে প্রথম তিন দিনের খেলা দেখে বলা যেতে পারে, এই পিচে বোলারদের জন্য কিচ্ছু নেই। না আছে বাউন্স, না গতি, না ঘূর্ণি। চোখ বন্ধ করে শট মারছেন ব্যাটারেরা। স্পিনারদের কয়েকটা বল ঘুরছে বটে। কিন্তু তা সামলাতে বিশেষ সমস্যা হওয়ার কথা নয়। পূর্বাঞ্চলের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছিল, দক্ষিণাঞ্চলও ব্যাটটা ভাল করবে। কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা খেল তারা। মুকেশ কুমারের লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে ১ রানের মাথায় আউট হন রিকি ভুঁই। আম্পায়ার আউট দেননি। কিন্তু বৈভব সূর্যবংশী অধিনায়ক ঈশান কিশনকে বাধ্য করে রিভিউ নিতে। তা কাজে লাগে। দেবদত্ত পডিক্কল ও নারায়ণ জগদীশন জুটি বেঁধে খেলছিলেন। কিন্তু মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে শিখর মোহনের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে ফেরেন জগদীশন (৩২)। তাঁর শট দেখে স্পষ্ট বোঝা গেল, ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিলেন।

বল ৩৫ ওভার পুরনো হওয়ার পর জাদু দেখাতে শুরু করেন শামি ও মুকেশ। শুরু হয় রিভার্স সুইং। ফলে ব্যাটারদের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। রিভার্স সুইংয়ের কাছে হার মানেন সাইক রশিদ। শামির বলে ২৭ রানের মাথায় আউট হন। জগদীশনের পর পডিক্কলও উইকেট দিয়ে আসেন। অর্ধশতরান করে খেলছিলেন তিনি। মুকেশের একটি নিরীহ বলে ছক্কা মারতে গিয়ে সোজা ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৬২ রানের মাথায় আউট হয়ে মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন পডিক্কল। তাঁকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, কতটা হতাশ তিনি।

দক্ষিণাঞ্চলের রান টেনে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব গিয়ে পড়ে অধিনায়ক তিলক বর্মা ও স্মরণ রবিচন্দ্রনের উপর। স্মরণ রঞ্জির গত মরসুমে সর্বাধিক রান করেছেন। তাঁর উপর ভরসা ছিল দক্ষিণাঞ্চলের। কিন্তু শামির কাছে পরাস্ত হলেন তিনি। বার বার শামির বল মারতে যাচ্ছিলেন। ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না। এমন করতে করতেই একটি বলে খোঁচা মারেন স্মরণ। আম্পায়ার আউট দেননি। শামিকেও খুব একটা উৎসাহী দেখাচ্ছিল না। ঈশান সাজঘরে থাকায় সেই সময় অধিনায়কত্ব করছিল বৈভব। সে জোর করে রিভিউ নেয়। সেই সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণিত হয়। স্মরণ আউট হওয়ার পর বৈভবকে ঘিরে শামিদের উল্লাস বুঝিয়ে দিচ্ছিল, ১৫ বছরের ক্রিকেটারের অধিনায়কত্বে মুগ্ধ। মুকেশের বলে খোঁচা মেরেছিলেন শ্রেয়স গোপালও। কিন্তু স্লিপে সহজ ক্যাচ ছাড়ে বৈভব। নইলে আরও একটি উইকেট পেতেন মুকেশ। তবে দিনের শেষ ওভারে মহম্মদ কুরেশির বলে ২৬ রান করে আউট হন গোপাল। দিনের শেষে ৫৬ রানে অপরাজিত তিলক। একাই লড়ছেন অধিনায়ক। কিন্তু যা পরিস্থিতি, এখান থেকে এই ম্যাচে ফেরা কঠিন দক্ষিণাঞ্চলের। তৃতীয় দিনের শেষেই জয়ের গন্ধ পেতে শুরু করেছে পূর্বাঞ্চল।
তৃতীয় দিন ১১ ওভার বল করেছেন শামি। চারটি মেডেন-সহ দিয়েছেন ১৭ রান। নিয়েছেন ২ উইকেট। মুকেশ ১২ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন। দুই দলের মধ্যে তফাত গড়ে দিয়েছেন বাংলার দুই পেসার। যেখানে দক্ষিণাঞ্চলের পেসারেরা হতাশ করেছেন, সেখানে শামিরা পূর্বাঞ্চলকে জয়ের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles