RK NEWZ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে জারি রইল স্থগিতাদেশ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ও এফআইআর দায়ের নিয়ে এ বার কড়া অবস্থান কলকাতা হাইকোর্টের। নতুন মামলার শুনানিতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘এ বার যথেষ্ট হয়েছে। আমি ক্লান্ত।’ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হলে ভবিষ্যতে অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রেও আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে স্পষ্ট করেছে আদালত। তদন্তে পুলিশের কোনও বাধা নেই। তদন্ত চলবে, প্রয়োজন হলে চার্জশিটও দিতে পারবে পুলিশ। কিন্তু আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। তাঁকে নোটিস দেওয়া যেতে পারে এবং তদন্তে সহযোগিতার জন্য হাজির হতে হবে। অভিষেক বর্তমানে বিদেশে থাকলেও দেশে ফেরার পর পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে বলে জানিয়েছে আদালত। শুনানির শুরুতেই বিচারপতি বলেন, ‘৪ মে থেকে শুনে আসছি। এ বার আমি নির্দেশ দিতে চলেছি।’ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগত ভাবে তিনটি অভিযোগ খতিয়ে দেখেও এমন কিছু পাওয়া যায়নি, যাতে অভিষেকের সরাসরি যোগের প্রাথমিক প্রমাণ মেলে। একই ব্যক্তির বারবার অভিযোগ করা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। ওই অভিযোগকারী অভিষেকের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং তাঁর কাছে দু’বার নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন বলেও শুনানিতে উঠে আসে। মামলায় নকল ওষুধ সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে বলে জানায় রাজ্য। তখন আদালতের প্রশ্ন, অভিষেক কি ওই ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছিলেন? অভিযোগকারী নিজেকে ‘হুইসেলব্লোয়ার’ দাবি করলে বিচারপতির পাল্টা প্রশ্ন, এক বছর আগে কেন অভিযোগ করা হয়নি।
আদালতের মতে, অভিযোগে চিকিৎসাগত গাফিলতির বিষয় থাকতে পারে। কিন্তু সেই গাফিলতির সঙ্গে অভিষেকের সরাসরি যোগের প্রাথমিক ভিত্তি এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত যখন প্রাথমিক পর্যায়ে, তখন তদন্তের আগেই তাঁকে অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। অভিষেকের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণনের দাবি, আগেও আদালত মে ও জুন মাসে অভিষেককে সুরক্ষা দিয়েছিল। সেই সুরক্ষা এড়াতেই পর পর নতুন এফআইআর করা হচ্ছে। ১৬টি অভিযোগের মধ্যে সাতটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের করা বলেও আদালতে দাবি করেন। মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় জানান, আরও মামলা রয়েছে, যার জন্য তাঁকে বারবার আদালতে আসতে হতে পারে। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদারের বক্তব্য, অভিযোগ সরাসরি অভিষেকের বিরুদ্ধে না হলেও তাঁর অধীনস্থদের মাধ্যমে যোগসূত্র তদন্তে উঠে আসতে পারে।
এর পরেই আদালতের কড়া বার্তা, ‘এ ভাবে চলতে থাকলে পরবর্তী সময়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন কোনও এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রেও আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করে ‘ব্ল্যাঙ্কেট ইনজাংশন’ দিতে পারি।’ আপাতত তদন্তে ছাড় থাকলেও অভিষেকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল হাইকোর্ট।




