Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দুর্গাপুজোয় ‘প্রতিমার পাশে আমিষ বিক্রি’ বন্ধের নিদান!‌ কে এই ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী? যাঁকে ‘ছোট ভাই’ বলেছিলেন মোদী

RK NEWZ পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে প্রথম দুর্গাপুজো। তবে দেবীর আগমনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই চর্চা বাড়ছে আমিষ-নিরামিষ খাবার নিয়ে। তৈরি হয়েছে বিতর্কও। মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী রাজ্যে এসে দুর্গাপুজোয় ‘প্রতিমার পাশে আমিষ বিক্রি’ বন্ধের দাবি তুলেছেন। ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের ধর্মীয় কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য পর্যন্ত। হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসরে এসেছিলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ। সেখানে তিনি বলেন, “এখানে নবরাত্রির সময়ে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের পিছনে আমিষ খাওয়া হয়। খারাপ খারাপ খাবার বানানো হয়। এটা আমার অপছন্দ। এই বারে নবরাত্রির সময়ে কলকাতার হিন্দুরা জেগে উঠে এই ধরনের লোকজনকে বহিষ্কার করুন!” তাঁর সংযোজন, “পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের কাছে প্রার্থনা, নবরাত্রিতে দেবীর প্রতিমা থাকুক বা না-থাকুক, কিন্তু প্রতিমার পাশে আমিষ বিক্রি চলবে না।” ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের সম্মানে রাজ্য অতিথি নিবাস ‘সৌজন্য’য় মন্ত্রিসভার সদস্যেরা মাটিতে বসে পাত পেড়ে নিরামিষ খাবারও খেয়েছেন। তবে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের আমিষ মন্তব্যের পর তাঁকে নিয়ে আলোচনার শেষ হচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে কে তিনি? বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর ধাম সরকার ওরফে বাগেশ্বর বাবা দেশের এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বিগত কয়েক বছরে। কারণ, তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব এখন নিজের রাজ্য মধ্যপ্রদেশের বাইরেও বিস্তৃত। মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের ছতরপুরে অবস্থিত বাগেশ্বর ধামে প্রতি বছর সমাগম হয় লক্ষ লক্ষ ভক্তের। ভক্তদের দাবি, বাগেশ্বর বাবা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। ভক্তদের মন পড়ে নাকি তাঁদের সমস্যার সমাধান করেন তিনি! ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ বাগেশ্বর ধামের প্রধান। ৩০ বছর বয়সি স্বঘোষিত গুরুর জন্ম ১৯৯৬ সালের ৪ জুলাই। জন্মের সময় তাঁর নাম ছিল ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ গর্গ। পরে তিনি ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী নাম গ্রহণ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের মায়ের নাম সরোজ গর্গ, বাবা রামকৃপাল গর্গ। রামকৃপাল পেশায় পুরোহিত ছিলেন। দাদু ভগবানদাস গর্গ ছিলেন সাধু। নির্মোহী আখড়ায় হনুমান মন্দিরের কাছে ভক্তদের নিয়ে সভা বসাতেন ভগবানদাস। ধীরেন্দ্রকৃষ্ণও সেখানে যেতেন। পরে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ সেখানেই ‘দৈব দরবার’ শুরু করেন, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ভক্তদের দাবি, আধ্যাত্মিক পথে মানুষের সমস্যা সমাধান করেন বাগেশ্বর ধাম সরকার। মানুষের মনের কথা ‘পড়ে’ ফেলেন অনায়াসে। ভক্তেরা মনে করেন, ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। কারও সম্পর্কে না জেনেই নাকি তিনি কাগজে গড়গড় করে তাঁদের সম্পর্কে লিখে ফেলেন। এক ব্যক্তির শরীর থেকে ‘ভূত’ তাড়িয়েও হইহই ফেলে দিয়েছিলেন বাগেশ্বর ধামের প্রধান। ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ তাঁর আশ্রমে ‘অন্নপূর্ণা কিচেন’ চালু করেছেন। সেখানে তাঁর অনুরাগীদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া দরিদ্র ও অসহায় মেয়েদের বিয়ের জন্য একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তিনি। প্রাচীন বৈদিক শিক্ষা এবং সংস্কৃত ভাষার প্রসারের লক্ষ্যে তিনি একটি বৈদিক গুরুকুলও প্রতিষ্ঠা করছেন। বলা হয়, ২০২১ সালে আয়োজিত ‘ঘর ওয়াপসি’ কর্মসূচির মাধ্যমে খ্রিস্ট ধর্মে ধর্মান্তরিত ৩০০ মানুষকে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে এনেছিলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ। প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশ সরকার শাস্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। সমাজমাধ্যমেও ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের উপস্থিতি উজ্জ্বল। গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা। বিভিন্ন সমাজমাধ্যম মিলিয়ে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের মোট অনুসারীর সংখ্যা ৭৫ লক্ষ। ফেসবুকে ৩৪ লক্ষ, ইনস্টাগ্রামে ৩ লক্ষ, টুইটারে ৭২ হাজার অনুসারী রয়েছে তাঁর। ইউটিউবে রয়েছে ৩৯ লক্ষ সাবস্ক্রাইবার। তাঁর বহুল প্রচারিত বেশ কিছু ভিডিয়ো ৩০ লক্ষ থেকে ১ কোটি পর্যন্ত ভিউ পেয়েছে। বিগত কয়েক বছরে শাস্ত্রীর রাজনৈতিক অবস্থানও উল্লেখযোগ্য ভাবে বিকশিত হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে তাঁর বক্তৃতায় রাজনীতির ছাপ থাকত না। হনুমানজি এবং ধর্ম নিয়েই কথা বলতেন তিনি। তবে গত দু’বছরে হিন্দুত্ববাদী অবস্থান গ্রহণ করেছেন তিনি। নিজেকে ‘হিন্দুরাষ্ট্র যোদ্ধা’ হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন। হিন্দুদের ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। বর্তমানে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের প্রভাব শুধুমাত্র মধ্যপ্রদেশে সীমাবদ্ধ নেই। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যগুলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাগেশ্বর বাবার সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানোর জন্য কংগ্রেস এবং বিজেপি— উভয় পক্ষই নাকি তাঁর সঙ্গে ভাব জমানোর চেষ্টা করেছে অতীতে। মধ্যপ্রদেশের জনগণ, বিশেষ করে যুবসমাজের কাছে বাগেশ্বর বাবার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। আর সে কারণেই ওই চেষ্টা। তবে বাগেশ্বর ধামের প্রধানের সঙ্গে নৈকট্যের নিরিখে এগিয়ে বিজেপিই। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাগেশ্বর ধামে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাগেশ্বর ধামে এসে ‘বাগেশ্বর ধাম মেডিক্যাল অ্যান্ড সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এমনকি, ধীরেন্দ্রকৃষ্ণকে তাঁর ‘ছোট ভাই’ হিসেবেও সম্বোধন করেন মোদী। অতীতে তাঁর করা মন্তব্যের জন্য বিতর্কেও জড়িয়েছেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ। এক বার এনসিইআরটি-র তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের একটি অধ্যায় ‘লভ জিহাদ’ প্রচার করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে সরাসরি বিতর্কসভায় যোগ দেওয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ করেন ভারতীয় যুক্তিবাদী শ্যাম মানব। বাগেশ্বর বাবা কুসংস্কার প্রচার করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ‘অখিল ভারতীয় অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি’ (সর্বভারতীয় কুসংস্কার নির্মূল কমিটি) কুসংস্কার বিরোধী আইনে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের বিরুদ্ধে নাগপুর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। যদিও সেই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হননি বাগেশ্বর ধামের প্রধান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles