RK NEWZ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সমস্ত মতপার্থক্য ভুলে বিনোদন জগতের ব্যক্তিত্বদের এক ছাতার তলায় আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, দক্ষিণ ভারত কিংবা বলিউডের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগৎকে ফের দেশের শীর্ষে নিয়ে যাওয়াই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত চলচ্চিত্র উৎসবের শুভ সূচনায় বাংলা সিনেমার সোনালী দিন ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সমস্ত মতপার্থক্য ভুলে বিনোদন জগতের ব্যক্তিত্বদের এক ছাতার তলায় আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, দক্ষিণ ভারত কিংবা বলিউডের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগৎকে ফের দেশের শীর্ষে নিয়ে যাওয়াই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আর এই পুনরুত্থানের জন্য বাজেট বরাদ্দ থেকে শুরু করে প্রয়োজনে বিধানসভায় আইন পরিবর্তন—সব ধরণের সহায়তা করতে প্রস্তুত রাজ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত তারকাখচিত উপস্থিতিকে ‘নক্ষত্র সমাবেশ’ বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করেন, কীভাবে উৎসবটির পরিকল্পনা দানা বেঁধেছিল। তিনি জানান, কিছুদিন আগে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সচিবালয়ে এসে নিজের জন্য কিছুই না চেয়ে মহানায়কের শতবর্ষ উদ্যাপনে সরকারের সক্রিয় ভূমিকার আর্জি জানান। পরবর্তীতে মিঠুন চক্রবর্তী, সন্দীপ রায়, জিৎ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষেরা এই উদ্যোগে যুক্ত হন। মহানায়কের পরিবারের তরফে মহুয়া দেবীর আশীর্বাদ ও সম্মতি এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা ও প্রধান সচিব সৌমিত্র মোহনের নিরলস প্রচেষ্টায় উৎসব পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রঞ্জিত মল্লিক ও ‘শিল্পী সংসদ’-এর তরফে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত হন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ আমাদের মধ্যে কোনও বিভেদ বা সংকীর্ণতা নেই। গতকাল কে কাকে কী বলেছিলাম সব ভুলে গেছি। আজকের দিনটা শুধুই উত্তম কুমারের।” অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩০ অগস্ট ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের ভাষণে মহানায়ক উত্তমকুমার ও সত্যজিৎ রায়ের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভেরিফায়েড ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট করায় মহানায়কের আন্তর্জাতিক খ্যাতি এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। উদ্বোধনী শোভাযাত্রা শেষে প্রদর্শনী কক্ষের ফিতে কাটার মুহূর্তে প্রশাসনিক প্রথা ভেঙে নজিরবিহীন সৌজন্যের দৃশ্য দেখা যায়। মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে কাঁচি না নিয়ে তা তারকা অভিনেতা জিতের হাতে তুলে দেন। রসিকতা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারের লোকেরা মুখ্যমন্ত্রীর দিকেই ফিতে কাটার জন্য কাঁচি বাড়িয়েছিল। কিন্তু আমি বললাম না, এ কাজটা জিৎ ভাই করবে।”
উৎসবের মঞ্চ থেকেই টলিউডকে বিশ্বের দরবারে ফের প্রতিষ্ঠার রূপরেখা পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুম্বই ও দক্ষিণ ভারতীয় ইন্ডাস্ট্রির অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এক সময় তো আমরাই ভারতবর্ষকে লিড করতাম! বলিউডকে টেক্কা দিত টলিউড। সেই ঐতিহ্য আমাদের ফেরাতে হবে। পরিকাঠামো, বাজেট, ছাড়পত্র কিংবা আইন পরিবর্তন—যা লাগবে সরকার করে দেবে।” একই সঙ্গে কয়েকটি বড় প্রকল্পের ঘোষণাও করেন তিনি। নিউ টাউনে ২৫ কোটি টাকা প্রাথমিক বরাদ্দে তৈরি হতে চলেছে ‘উত্তম কুমার ফিল্ম ইনস্টিটিউট’, যার ভূমিপূজন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি রবীন্দ্রসদন ও নন্দনের চেয়েও বিশ্বমানের একটি সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে চার দিনব্যাপী এই শতবর্ষ উদ্যাপন, যার অধীনে সাধারণ মানুষের জন্য প্রেক্ষাগৃহে মহানায়কের কালজয়ী সিনেমাগুলি প্রদর্শন করা হবে।



