Sunday, August 9, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘দেশের প্রয়োজন আপনাদের!’ জেন জি-কে বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

RK NEWZ রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব প্রত্যেক প্রজন্মের। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আস্থার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর পুঁথিগত পরীক্ষার সঙ্গে জীবনের পরীক্ষার যে বিস্তর ফারাক সেই পাঠ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘পরীক্ষার সিলেবাস আছে। কিন্তু জীবনের কোনও সিলেবাস নেই। জীবনের সব কিছুই আউট অব দ্য সিলেবাস।’’ তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কান্ডারি তাঁরাই। আর তাঁদেরকেই দেশের প্রয়োজন। দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠান থেকে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং ছাত্রদের বিক্ষোভের পর সমাজমাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন, তাঁদের সঙ্গে সংযোগস্থাপনের প্রচেষ্টা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এ বার প্রকাশ্য জনসভায় তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বার্তা দিতে দেখা গেল তাঁকে। বিকশিত ভারত গড়ে তুলতে তরুণেরাই যে ভরসা এবং তাঁদের প্রতি দেশবাসীর যে অগাধ আস্থা রয়েছে, সেই বার্তাও দিয়েছেন মোদী। তিনি বলেন, ‘‘আপনাদের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আপনাদের মতো তরুণ প্রজন্মকে এ দেশের প্রয়োজন।’’ পুঁথিগত পরীক্ষার সঙ্গে জীবনের পরীক্ষার যে বিস্তর ফারাক সেই পাঠও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষার সিলেবাস আছে। কিন্তু জীবনের কোনও সিলেবাস নেই। জীবনের সব কিছুই ‘আউট অব দ্য সিলেবাস’ বলেও মন্তব্য করেন মোদী।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘ জীবনে অনেক সমস্যা আসবে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ক্যাম্পাসের জীবন এবং ক্যাম্পাসের বাইরের জীবনে ফারাক রয়েছে। আইআইটি পরীক্ষার সিলেবাস আছে। কিন্তু জীবনের পরীক্ষার সব কিছু সিলেবাসের বাইরে। ক্যাম্পাস-জীবনে সব কিছু পরিষ্কার থাকত আপনাদের কাছে। কোনটা পড়তে হবে, কী পরীক্ষা দিতে হবে। সব আগে থেকে জানতেন। কিন্তু জীবনের কোনও প্রশ্নপত্র থাকে না।’’ প্রতি পদক্ষেপে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখার সত্তাকে জাগিয়ে রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তরুণ প্রজন্ম যাতে কোনও কিছুই না বুঝে মেনে না-নেন। প্রশ্ন তুলতে হবে। তার উত্তর খুঁজে নিতে হবে বলেও বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রত্যেক প্রজন্মের দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব হওয়া উচিত দেশের উন্নয়নের স্বার্থে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আপনারা প্রত্যেকেই জানেন, প্রতি প্রজন্মের সামনে সেই সময়ের চ্যালেঞ্জ আসে। চ্যালেঞ্জের সঙ্গে নিজেদের বদলাতে হবে। আগামী দিনে আপনারা যা করবেন, সেটাই বিকশিত ভারতের রাস্তা দেখাবে। তাই আপনারা এমন সিদ্ধান্ত নেবেন, যা দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কাজে লাগে।’’ অর্থনীতি, প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য কাজ করছে দেশ। আর এটাই বিকশিত ভারতের লক্ষ্য বলে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘বিকশিত ভারতের এই সফরে আপনাদের ভূমিকা অনেক বড়। দেশের তরুণ প্রজন্ম যত শক্তিশালী হবে, দেশও তত শক্তিশালী হবে।’’

উল্লেখ্য, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং তার জেরে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি এবং পড়ুয়াদের আন্দোলনে উত্তাল ছিল গোটা দেশ। কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেন। কিন্তু তার পরেও আন্দোলন চলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং পরীক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলে। সেই আন্দোলন ছিল মূলত তরুণ প্রজন্মের। সরকারের প্রতি তরুণ প্রজন্মের ভাবমূর্তি যাতে নষ্ট না হয়, সরকারের প্রতি তাঁদের যাতে আস্থা থাকে, তার জন্য যন্তর মন্তরের আন্দোলনের পরই তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের কাছে টানার চেষ্টা করেন তিনি। রাতে সমাজমাধ্যমে পর পর তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বার্তা দেন তিনি। এ বার প্রকাশ্য জনসভা থেকে ফের দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগস্থাপনের চেষ্টা করলেন মোদী।দিল্লি আইআইটির সমাবর্তনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন, সুপার কম্পিউটার ‘পরম প্রজ্ঞা’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের পর এই প্রথমবার জনসমক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে জেন জি-র উদ্দেশ্যে সোশাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন তিনি। তবে জনসম্পক্ষে ভাষণ শনিবার আইআইটি দিল্লির সমাবর্তনেই প্রথমবার। ওই অনুষ্ঠানে প্রায় হাজার তিনেক জেন-জি দর্শককে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, প্রশ্ন করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বও সবার। সব প্রজন্মকেই সেই দায়িত্ব নিতে হবে। দিল্লি আইআইটির সমাবর্তনের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, “ছাত্রজীবন এবং পরবর্তী জীবন আলাদা। ক্যাম্পাসের বাইরে বেরলে জীবন যে পরীক্ষা নেয়, সেই পরীক্ষা অন্যরকম। সেখানে প্রশ্ন ও উত্তর-সবই নিজেকে খুঁজতে হয়।” মোদির বক্তব্য, “প্রশ্ন করা ভালো, তবে উত্তরও নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়। জীবনের লড়াইয়ে কোনও প্রশ্নপত্র থাকে না। নিজেকেই প্রশ্ন করতে হয়, নিজেকেই সমাধান খুঁজতে হয়। এখানে সবকিছুই আউট অফ সিলেবাস। যে শিখবে-সেই জিতবে। প্রশ্ন করার অধিকার সবার আছে। তবে রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বও সবার। আগের প্রজন্মের লড়াইয়ে দেশ স্বাধীনতা পেয়েছে। আজকের আত্মনির্ভর ভারতের নতুন প্রজন্মের সামনে সুযোগ সুবিধা অনেক। দেশের যুবসমাজ এগোলেই দেশ এগোবে।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজের প্রতি আস্থা দেখিয়ে বলেন, “তোমাদের উপর আমার ভরসা আছে। এই দেশের উন্নতিতে তোমাদের প্রয়োজন।” নিট বিক্ষোভের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী জেন-জি’র মন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। শনিবার দিল্লি আইআইটির বৈঠকে তাঁর সশরীরে হাজির হওয়া, নতুন প্রজন্মকে তাঁদেরই মতো করে দেশের প্রতি দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া সবটাই এই প্রজন্মের সঙ্গে একাত্মতা বাড়ানোর চেষ্টা হিসাবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

এদিন এআই তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন, সুপার কম্পিউটার ‘পরম প্রজ্ঞা’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লি আইআইটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন প্রধান অতিথি। তিন হাজারেরও বেশি স্নাতক-স্তরের ছাত্রছাত্রী, প্রায় ৫৮৭ জন পিএইচডি ‘স্কলার’ এদিন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ডিগ্রির শংসাপত্র গ্রহণ করেন। ‘প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল’, ‘ডিরেক্টর্স গোল্ড মেডেল’, ‘শঙ্করদয়াল শর্মা গোল্ড মেডেল’ এবং ‘পারফেক্ট টেন গোল্ড মেডেল’-এর মতো ঐতিহ্যশালী এবং আইআইটি দিল্লির তরফে তাদের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ হিসাবে পরিগণিত পুরস্কার, কৃতীদের হাতে তুলে দেন মোদি। ওই অনুষ্ঠানেই অত্যাধুনিক সুপারকম্পিউটিং সিস্টেম ‘পরম প্রজ্ঞা’র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই সুপার কম্পিউটারটি বর্তমানে আইআইটি দিল্লির সোনপত ক্যাম্পাসে রয়েছে। বৈজ্ঞানিক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং স্তরের নানা, জটিল সমস্যার সমাধানে ‘পরম প্রজ্ঞা’ সাহায্য করবে গবেষক, ফ্যাকাল্টি মেম্বার এবং ছাত্রছাত্রীদের। আশা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই সুপারকম্পিউটার আইআইটি দিল্লির গবেষণা পরিকাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles