Sunday, August 9, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘আগেও কাজ পেতাম না, এখনও কাজ পাচ্ছি না’!‌ সেদিন স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নানা কথা উঠে এসেছিল!‌ প্রতিক্রিয়া রুদ্রনীলের

RK NEWZ ৪ জুন গ্রেফতার হন প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। এর পর থেকেই বন্ধুরা তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন না, মন খারাপ করে জানালেন অভিযোগকারিণী। যদিও তিনি জানান সম্প্রতি তিনি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিয়েছেন। টালিগঞ্জের প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন এক রূপটান শিল্পী। সেই অভিযোগ তুলে নিলেন সেই মহিলা শিল্পী। সেইসঙ্গে নিজের পুরনো অবস্থান থেকে একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ ছিল না। তিনি এর আগে কয়েকজন ব্যক্তির প্ররোচনায় পড়ে ওই অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তবে ‘অতীত’ ভুলে এখন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে চাইলেও তা তিনি পাচ্ছেন না বলে জানান। তাঁর অভিযোগ, তিনি আগেও যেমন কাজ পাচ্ছিলেন না, এখনও পাচ্ছেন না। ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধে ওই রূপটান শিল্পীর মূল অভিযোগ ছিল, স্বরূপের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাচ্ছেন না। তিনি নিউ আলিপুর থানায় অভিযোগও দায়ের করেছিলেন স্বরূপের বিরুদ্ধে। রাজ্যে পালাবদলের পরে, বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় বৈঠক করেছিলেন কলাকুশলীদের সঙ্গে। সে দিনও অভিযোগকারিণী তাঁর দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন বিধায়কের সামনে। সেখানেই তাঁকে নানা ভাবে সুবিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়। নানা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের জেরে গত ৪ জুন রাতে গ্রেফতার হন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ। সেই সময় ওই অভিযোগকারিণীও এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন, “চোখের জলের দাম পেলাম। আমি খুব খুশি।’’

শুক্রবার রাতে নিজের সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন ওই অভিযোগকারিণী শিল্পী। তাঁর গলায় অন্য সুর। বললেন, ‘‘আমাকে অনেক বড় অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। স্বরূপ বিশ্বাস দাদা আমার সঙ্গে নোংরামি করেছেন, এ কথা তো আমি কোথাও বলিনি। আমি বলেছি বাপি মালাকার আর শান্তনু দে’র কথা। তিনি (স্বরূপ) আমাদের সঙ্গে কোনওরকম অশালীন আচরণ করেননি।’’ তাঁর দাবি, তাঁর অভিযোগের বয়ানের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছিল স্বরূপ বিশ্বাসকে। কেন? এ প্রশ্ন রাখতেই অভিযোগকারিণীর পাল্টা বক্তব্য, ‘‘যে অভিযোগ জানিয়েছিলাম, তার ভিত্তিতে বয়ানে যা লেখা হয়েছিল সেই হাতের লেখা আমার নয়, আমি তা পড়েও দেখিনি। আর লেখার পর আমায় দিয়ে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছিল সেইদিন। আমার স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কোনও শত্রুতা নেই। ব্যাপারটা এ রকম জায়গায় যাবে আমি ভাবিইনি।’’ তাঁরই অভিযোগ তাঁরই বয়ান, অথচ সেটি তিনি পড়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেননি? অভিযোগকারিণীর জবাব, ‘‘না, সেই বয়ানের লেখা আমার পড়া হয়নি। যিনি লিখে দিয়েছিলেন, তাঁকে আমি ভাল ভাবে চিনতামও না।’’

“না আমি ওনাকে চিনি, না উনি আমাকে চেনেন। আমি তো এরকম জবানবন্দি দিইনি। তাও কেন উনি গ্রেপ্তার হলেন জানি না।…” জুন মাসে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতির বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছিলেন এক মহিলা রূপটান শিল্পী। শুধু তাই নয়, ফেডারেশনের শর্ত না মানায় দু’বছর কাজ পাননি বলেও দাবি করেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার রাতে আচমকাই ‘ডিগবাজি’ ওই রূপটান শিল্পীর! ফেসবুক লাইভে এসে তিনি জানান, “স্বরূপ বিশ্বাস আমার শ্লীলতাহানি করেননি।” শুধু তাই নয়, স্বরূপের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করার কথাও জানান। ভিডিও বার্তায় ওই মহিলা জানান, “কিছু মানুষ মিথ্যে অভিযোগ দিতে বলেছিল আমাকে। আর আমি ওদের কথা শুনে এসব বলেছিলাম। আমি কিন্তু কখনও বলিনি স্বরূপ বিশ্বাস আমার শ্লীলতাহানি করেছেন। এমনকী, যে কমপ্লেন লেখা হয়েছে সেটা আমার না। সইটা হয়তো আমার। তবে আমাকে চাপ দিয়ে করানো হয়েছে। যে যেটা করেনি আমি সেটা কেন বলব। না আমি ওনাকে চিনি, না উনি আমাকে চেনেন। আমি তো এরকম জবানবন্দি দিইনি। তাও কেন উনি গ্রেপ্তার হলেন জানি না। যারা বলেছিল ‘ভয় আউট ভরসা ইন’, তাঁদের কথা শুনে আমি নিউ আলিপুর থানায় জবানবন্দি দিলাম। জানি না আমি জবানবন্দি দেওয়ার পর কী করে স্বরূপবাবু গ্রেপ্তার হলেন। আমার মূল অভিযোগ স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে নয়, বরং শান্তনু দে আর বাপি মালাকারকে নিয়ে। আমি জানি আমি কী অভিযোগ তুলেছিলাম। আমি বলেছিলাম ওরা আমাকে বাড়িতে থ্রেট দিতে এসেছিল, গুলি করতে এসেছিল। সবাই বলছে আমার জবানবন্দির জন্য উনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।৪২টা দিন আমার জন্য নাকি জেল খেটেছেন উনি। কিন্তু আমি তো এরকম কোনও কথাই বলিনি। দাদা ওরকম মানুষই না। আমি শুনেছি, উনি মানুষটা ভালো, মেয়েদের সম্মান দেন। আমার লিখিত জবানবন্দিতে বাপি মালাকার, শান্তনু দের নাম ছিল। দাদার কথা কেন বলতে যাব! মিথ্যে একটা জালে দাদা ফেঁসেছেন, আমিও ফেসেছি। দাদাও দুই মেয়ের বাবা, আমি দুই মেয়ের মা! আমার খুব খারাপ লাগছিল। তাই নিউ আলিপুর থানায় গিয়ে আমি মামলা প্রত্যাহার করেছি।” রূপটান শিল্পী এও জানান যে, তিনি আর কোনও ঝামেলা অশান্তি চান না, শুধু কাজ করতে চান। শুক্রবার রাত থেকে মহিলার এহেন ভিডিওবার্তা সোশাল পাড়ায় রীতিমতো ঝড় তুলে দিয়েছে।

স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার দু’দিন পরে এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগকারিণী ওই রূপটান শিল্পী বলেছিলেন, ‘‘স্বরূপ বিশ্বাসকে দেখলে মন থেকে ঘেন্না লাগত। একটা মানুষ টাকাপয়সার ভোগী, নারীলিপ্সু। মেয়েদের নিয়ে অবৈধ কারবার ছিল।’’ তবে এ দিন তিনি জানান, ‘‘সবটাই আমি শুনেছি। স্বরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বাপি মালাকার, তিনি আমাকে কাজ দিতেন না। আর শান্তনু দে আমায় জানিয়েছিলেন এই সব কথা। তাই আমি সেগুলো বিশ্বাস করেছিলাম। আর প্ররোচনায় পা দিয়ে অভিযোগটা করেছিলাম।’’ পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেন, ‘‘স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আমার কোনওদিন দেখা হয়নি। তিনি আমাকে কখনও ফোনও করেননি, শ্লীলতাহানিও করেননি। স্বরূপের নাম করে শান্তনু দে আমায় ভয় দেখিয়েছিলেন।’’ তাঁর সংযোজন, কিছু মানুষের প্ররোচনাই ছিল তাঁর অভিযোগের মূল ভিত। প্রভাবশালীর ভুল বুদ্ধিতে তিনি বিশ্বাস রেখেছিলেন।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর টেকনিশিয়ানদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন বিধায়ক তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। সেই দিন নিজের অবস্থার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন অভিযোগকারিণী। স্বরূপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। সেইসময় তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ বদল হবে। তা হলে এখন কি তিনি কাজে ফিরতে পেরেছেন? এ প্রশ্নের জবাবে ওই রূপটান শিল্পীর দাবি, ‘‘আগেও আমি কাজ পেতাম না ইন্ডাস্ট্রিতে। কয়েকমাস পেরিয়ে গেলেও চিত্রটা এখনও বদলায়নি। এখনও আমি কাজ পাচ্ছি না। বাপি মালাকারের জন্য আমি আজ কর্মহীন। দেব আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ‘দেশু৭’-এর জন্য সেই তিন দিন কাজ করেছিলাম। ওইটুকুই আমার রোজগার হয়েছে।’’ উল্লেখ্য, অভিনেতা তথা সাংসদ দেব তাঁর নিজের সাধ্যমতো কিছু কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এই শিল্পীকে।

অভিযোগকারিণীর এখনও কাজ না পাওয়ার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে হাওড়ার শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের বক্তব্য, ‘‘আমরা সেদিন সবার কথা শুনেছিলাম। সেদিন স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নানা কথা উঠে এসেছিল। তিনি (অভিযোগকারিণী) হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলেছিলেন আমাদের কাছে। বাঁচার আর্তি জানিয়েছিলেন। সেই সময় ইন্ডাস্ট্রিতে নানা অরাজকতা চলেছে। কাজ না নেওয়া, কাটমানি নেওয়া থেকে আরও বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে সকলের সামনে। আজ তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন। সব দিক বিবেচনা করে দফায় দফায় বৈঠকে বসেছি আমরা। মুখ্যমন্ত্রীও এই বিষয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। নতুন সরকার আসার পর থেকে সৈরাচার মুক্ত করে সুস্থতার পরিবেশ নিয়ে আসার পদ্ধতি নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, ঠিক সেই সময় সবটা গুলিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা চলছে। আগে এক প্রক্রিয়ায় কাজ হত, ফেডারেশন ছিল, এখন সেই প্রক্রিয়ার বদলে অতি দ্রুতই অন্য রাস্তা বেছে নেওয়া হবে এবং আশা করছি ইন্ডাস্ট্রিতে সুস্থ পরিবেশ তৈরি হবে।’’

অভিযোগকারিণী আরও বলেন, ‘‘ভুল বুঝতে পারার পর থেকেই চিন্তায় হচ্ছিল। মানসিক ভাবে খুব অস্বস্তি হচ্ছিল। বুঝতে পারছিলাম না কী করা উচিত। উকিলের সঙ্গে গিয়ে মামলা তুলে নিলাম। আমাকে যদি দাদা (স্বরূপ) ক্ষমা করতে পারেন করবেন, আর যদি মনে করেন শাস্তি দেবেন আমি সেই শাস্তি মাথা পেতে নেব।’’ কার প্ররোচনায় সেদিন স্বরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন তিনি? জবাবে রূপটান শিল্পীর বক্তব্য, ‘‘আমি আর ঝামেলা, অশান্তি চাই না। আমি রাজনীতি বুঝি, তবে রাজনীতি করতে পারি না। তাই সঠিক সময় হলে নামটা সামনে আনব। আমি কাজ করতে চাই। আর (স্বরূপ বিশ্বাস) যদি আমাকে ক্ষমা করে দেন তা হলে সকলের সামনে উকিলের উপস্থিতিতে সেই প্রভাবশালীদের নাম বলব।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles