Sunday, August 9, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাবাকে হারালেন লিয়োনেল মেসি! দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকার পর প্রয়াত জর্জ মেসি

RK NEWZ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর এক মাসও হয়নি। বাবাকে হারালেন লিয়োনেল মেসি। আর্জেন্টিনার রোসারিয়োয় মেসির বাবার মৃত্যু হয়েছে। বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর এক মাসও হয়নি। তার আগেই বাবাকে হারালেন লিয়োনেল মেসি। শনিবার এই খবর জানা গিয়েছে। আর্জেন্টিনার রোসারিয়োয় মেসির বাবার মৃত্যু হয়েছে। বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। মেসির পরিবার এখনও কিছু বলেনি। তবে মেসির ছোটবেলার ক্লাব নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ় একটি বিবৃতিতে জর্জের প্রয়াণের খবর জানিয়েছে। এ ছাড়া স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’, ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এও মেসির বাবার প্রয়াণের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। নিউওয়েলস বিবৃতিতে লিখেছে, “অত্যন্ত দুঃখ এবং শোকের সঙ্গে ক্লাবের তরফে বিদায় জানানো হচ্ছে জর্জ মেসিকে, যিনি ৬৮ বছর বয়সে রোসারিয়ো শহরে মারা গিয়েছেন। ওল্ড বয়েজের সমর্থক, ব্যবসায়ী এবং লিয়োনেল মেসির বাবা হিসাবেই তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন। স্ত্রী সেলিয়া কুচ্চিতিনিকে পাশে নিয়ে দূরদৃষ্টি, যত্ন এবং আবেগ নিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের পাশে ছিলেন। মেসির জীবনের স্তম্ভ ছিলেন তিনি। তাঁর ধারাবাহিক সহযোগিতা, পিছন থেকে সমর্থন মেসিকে প্রতিটা পদক্ষেপে এগিয়ে দিয়েছে। ওঁর জন্যই আর্জেন্টিনার ফুটবল আজ বিশ্বের শীর্ষে পৌঁছতে পেরেছে। মেসিকে আর্জেন্টিনার রং চেনানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ।”

মেসির জীবনে তাঁর বাবার অবদান অনেক। বিশেষ করে শুরুর দিকের বছরগুলিতে। খুব ছোট বয়সে মেসিকে সই করিয়েছিল বার্সেলোনা। তখনও দেশের বাইরে কোথাও যাননি মেসি। সেই সময় বাবা জর্জই ছেলেকে নিয়ে বার্সেলোনায় পাড়ি দিয়েছিলেন। বাকি পরিবার ছিল রোসারিয়োতেই। সেই সময় সামনে অনেক অনিশ্চয়তা ছিল। তা সবই কাটিয়ে উঠেছিলেন জর্জ। বরাবর মেসির পাশে থেকেছেন। তাঁকে নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছেন। মেসির বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে জর্জের ভূমিকাও বদলাতে থাকে। তিনি মেসির পেশাদার জীবনের খেয়াল রাখতেন। অনেক দিন কাজ করেছেন তাঁর এজেন্ট হিসাবেও। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর হাত ছিল। তবে সংবাদমাধ্যমের সামনে কখনও আসতেন না। চাইতেন দূরত্ব বজায় রাখার। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পর কেঁদে ফেলেছিলেন মেসি। পরে বলেছিলেন, “হ্যাঁ, আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। তবে ফুটবলের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। গত কয়েকটা দিন খুব কঠিন ছিল। কঠিন সময় কাটিয়েছি। জটিল সময় কাটিয়েছি। সেগুলোই মনে পড়ছিল। ফুটবলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।” পরে জানা গিয়েছিল, মেসির বাবা অসুস্থ। পরিবারের তরফে ‘ইএসপিএন’-কে দেওয়া একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন মেসির বাবা জর্জ। ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন। আগের থেকে ভাল আছেন।” জর্জের অসুস্থতা নিয়ে যে ভাবে সংবাদমাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছিল তা নিয়েও একহাত নেওয়া হয়েছিল পরিবারের তরফে। তাঁদের দাবি ছিল, সরকারি ভাবে না জানানো সত্ত্বেও এই জল্পনা একেবারেই কাম্য নয়। এর পরেও জল্পনা থামেনি। বিশ্বকাপের মাঝেই আর্জেন্টিনার এক নামকরা টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ফ্লোরেন্সিয়া পেনা জানিয়েছিলেন, মেসির বাবা প্রয়াত। তিনি ‘লুজ়ু টিভি’তে কাজ করতেন। আলজেরিয়া ম্যাচের পর সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন পেনা বলেছিলেন, “আমি খারাপ খবরটা বলতে চাই না। কিন্তু মেসির বাবা কিছু ক্ষণ আগেই মারা গিয়েছেন। হঠাৎ করেই ঘটনাটি ঘটেছে। ঠিক বিশ্বকাপের মাঝে।” সঙ্গে সঙ্গে সেই খবর ছড়িয়ে পড়েছিল সমাজমাধ্যমে। ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছিল। পরে পেনা জানিয়েছিলেন, এই খবরটি এখনও নিশ্চিত নয়। পরে মেসির পরিবার বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, খবরটি ভুয়ো। তার পরেই কাঁদতে কাঁদতে চাকরি ছেড়েছিলেন পেনা। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, “মেসির পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইছি। এত বড় ভুল কথা বলার জন্য নিজের কাছেই লজ্জিত।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles