Sunday, August 9, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আত্মঘাতী জঙ্গিদের নিশানায় লিয়োনেল মেসি!‌ বিশ্বকাপের সময় আমেরিকায় জঙ্গিহানার পরিকল্পনা ফাঁস

RK NEWZ বিশ্বকাপের সময় জঙ্গিদের নিশানায় ছিলেন লিয়োনেল মেসি। বেছে নেওয়া হয়েছিল আর্জেন্টিনা-জর্ডন ম্যাচ। আত্মঘাতী বোমায় মেসি-সহ গোটা আর্জেন্টিনা দলকেই উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। আত্মঘাতী জঙ্গিদের নিশানায় ছিলেন লিয়োনেল মেসি। ফুটবল বিশ্বকাপের সময় মেসি-সহ গোটা আর্জেন্টিনা দল ছাড়াও নিশানায় ছিলেন বিভিন্ন দলের ফুটবলার, ফিফা কর্তা এবং রেফারিরা। একাধিক হুমকি ইমেল পেয়েছিল পুলিশ। আর্জেন্টিনা দলের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল আমেরিকা-কানাডা-মেক্সিকোয়। আমেরিকার পুলিশের গোপন রিপোর্টের কিছু অংশ ফাঁস। স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমেসিয়ন.ইএস’ রিপোর্টের ফাঁস হওয়া সেই অংশ প্রকাশ করেছে নিজেদের প্রতিবেদনে। পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই ছিল জঙ্গি হামলার আশঙ্কা। একের পর এক হুমকি ইমেলের জন্য নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছিল কয়েক গুণ। হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনা দলের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশের ফাঁস হওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী সবচেয়ে বড় হামলার ছক ছিল আর্জেন্টিনা-জর্ডন ম্যাচে। এক ব্যক্তি হুমকি দিয়ে জানান, তিনি এবং আরও দু’জন বাড়িতে তৈরি বোমা এবং এআর-১৫ নিয়ে স্টেডিয়ামের মধ্যে ঢুকবেন। মেসি-সহ গোটা আর্জেন্টিনা দলকে উড়িয়ে দেওয়া হবে। ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে হুমকি দেন তিনি। ওই ব্যক্তি হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, দু’দলের ফুটবলার এবং কর্তারা তাঁদের নিশানায় রয়েছেন। তবে মূল লক্ষ্য মেসি। পুলিশের উপরও হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ নিয়েও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে সমাজমাধ্যমে হুমকি দেন এক ব্যক্তি। তিনি লিখেছিলেন, ‘‘শরীরে চারটি বোমা বেঁধে আমি আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকতে চলেছি। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দিতে চাই।’’ সেই ম্যাচের দিনই অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক পুলিশকে ফোন করে জানান, আটলান্টা স্টেডিয়ামের ভিতরে তিনটি জঞ্জাল ফেলার জায়গায় বোমা রাখা রয়েছে। কোনও হুমকিকেই হালকা ভাবে নেননি নিরাপত্তাকর্মীরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব আঁচ করে পুলিশের সঙ্গে এফবিআইকেও কাজে নামায় আমেরিকার প্রশাসন। সাহায্য নেওয়া হয় সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোয়াপারেশনের (আইপিসিসি)। প্রায় সব হুমকিই ছিল মূলত মেসি-কেন্দ্রিক। তাঁর সঙ্গে আর্জেন্টিনা দল, বিশ্বকাপের অন্য দল, ফিফা-কর্তা, রেফারি এবং পুলিশকেও নিশানা করার হুমকি দেওয় হয়েছিল। জনপ্রিয়তার জন্যই মেসি ছিলেন প্রধান লক্ষ্য।

হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নিরাপত্তাও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফিফার এক কর্মী জানিয়েছেন, ‘‘রোনাল্ডো কবে কখন কোথায় থাকবেন, সে সব আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন সন্দেহজনক এক ব্যক্তি। তিনি কোনও হুমকি না দিলেও বিষয়টি আমরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানিয়েছিলাম।’’ পর্তুগাল যে সব জায়গায় বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলেছে, তার প্রতিটি জায়গায় কিছু মানুষ রোনাল্ডোর কাছে পৌঁছোতে মরিয়া ছিলেন। হিউস্টন, টরেন্টো বা মায়ামিতে তাঁদের কাউকেই সিআর সেভেনের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। তবে নিরাপত্তা এড়িয়ে সন্দেহজনক এক ব্যক্তি পর্তুগালের টিম হোটেলে ঢুকে পড়ায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কোথায় এই ঘটনা ঘটেছিল। ফাঁস হওয়া রিপোর্ট থেকে জানা যায়নি। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ পরিচালনা করা ফরাসি রেফারি ফ্রান্সিয়স লেক্সিয়ঁকে হোয়াটস অ্যাপে ছ’হাজারের বেশি হুমকি মেসেজ করা হয়। ওই ম্যাচের ভিডিয়ো অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিকেও খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles