স্বাস্থ্যভবন জানিয়েছে, ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির উপর ১ আগস্ট থেকেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তাদের বিরুদ্ধে শিবির আয়োজনে একাধিক অনিয়ম, টাকার বিনিময়ে রক্ত-প্লাজমা বাইরে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অনুমতি ছাড়া রক্তদান শিবির আয়োজন এবং রক্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিবিধ অনিয়মের অভিযোগ আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল। স্বাস্থ্যভবনের কর্তারা সন্দেহজনক ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে হানাও দিয়েছিলেন। এ বার কড়া পদক্ষেপ করা হল। রাজ্যের ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল স্বাস্থ্যভবন। ওই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি থেকে আপাতত আর কোনও রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা যাবে না। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। রাজ্যের তরফে শুক্রবারই একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। প্রকাশ করা হয়েছে ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের নামও। স্বাস্থ্যভবন জানিয়েছে, ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির উপর ১ অগস্ট থেকেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তাদের বিরুদ্ধে শিবির আয়োজনে একাধিক অনিয়ম, টাকার বিনিময়ে রক্ত-প্লাজ়মা বাইরে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তার তদন্ত করছে রাজ্য রক্ত সঞ্চালন পর্ষদ। তবে নিষেধাজ্ঞা কেবল বাইরে শিবির আয়োজনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। প্রতিষ্ঠানের অন্দরে রক্তের নমুনা সংগ্রহ বা লেনদেন চলবে। তা-ও করতে হবে দক্ষ, প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে, যাবতীয় নিয়ম মেনে। এ ছাড়া, রাজ্যের মধ্যে কোথাও রক্তের কোনও বড় লেনদেন হলে তা পর্ষদকে তৎক্ষণাৎ জানাতে বলেছে স্বাস্থ্যভবন।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কলকাতার একাধিক ব্লাড সেন্টার এবং জেলার কিছু সেন্টারের নাম রয়েছে—
সোনারপুরের কালিকাপুর এলাকার ইস্পাত কোঅপারেটিভ হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার
এন্টালির লিন্টন স্ট্রিটের লাইফ কেয়ার ব্লাড সেন্টার
জোধপুর পার্কের অশোক ল্যাবরেটরি ব্লাড সেন্টার
আলিপুরের কোঠারি মেডিক্যাল সেন্টারের ব্লাড সেন্টার
প্রন্নথ পণ্ডিত স্ট্রিটের হেল্থ পয়েন্ট হাসপাতালের ব্লাড সেন্টার
বেলেঘাটার ওম ব্লাড সেন্টার
হাওড়া পুরসভা ভবনের এইচএমসি রাটারি ব্লাড সেন্টার
নদিয়ার কৃষ্ণনগরের কৃষ্ণনগর ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের ব্লাড সেন্টার
উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের উপসম ওম ব্লাড সেন্টার
পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের টেরেসা ওম ব্লাড সেন্টার
পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডাল মোড়ের রানিগঞ্জ ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস।
শিবিরে অনিয়ম এবং রক্ত-দুর্নীতির তদন্তের সূত্রে কিছু দিন আগে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে তল্লাশি অভিযানে বেরিয়েছিলেন আধিকারিকেরা। কলকাতা এবং জেলার একাধিক জায়গায় হানা দেন তাঁরা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার প্রেক্ষিতেই এ বার ১১টি ব্লাড সেন্টারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। সূত্রের খবর, রক্তদান শিবির আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হত না। রক্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ছিল ভূরি ভূরি। এ ছাড়া, মোটা টাকার বিনিময়ে লোহিত রক্তকণিকা, প্লাজ়মা ভিন্রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হত বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত শেষ না-হওয়া পর্যন্ত তাই নতুন করে কোনও শিবির আয়োজন করা যাবে না।



