RK NEWZ কমনওয়েলথ গেমসে এ বারও সোনা জিততে পারলেন না নীরজ চোপড়া। একটি থ্রোয়েই বাজিমাত করে সোনা জিতে নিলেন শ্রীলঙ্কার রুমেশ থরঙ্গা পাথিরাগে। শেষের দিকে ৮৫ মিটারেরও বেশি ছুড়ে ব্রোঞ্জ জিতলেন ভারতের যশবীর সিংহ। কমনওয়েলথ গেমসে এ বারও সোনা জিততে পারলেন না নীরজ চোপড়া। একটা সময় শীর্ষে থেকেও সোনা হাতছাড়া হল তাঁর। রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে তাঁকে। একটি থ্রোয়েই বাজিমাত করে সোনা জিতে নিলেন শ্রীলঙ্কার রুমেশ থরঙ্গা পাথিরাগে। ৮৯.৭৫ মিটার ছুড়ে সোনা জিতেছেন তিনি। নীরজের সেরা থ্রো ৮৫.৮৩ মিটার। শেষের দিকে ৮৫ মিটারেরও বেশি ছুড়ে ব্রোঞ্জ জিতলেন ভারতের যশবীর সিংহ। নীরজ সোনা হাতছাড়া করলেও জ্যাভলিনে ভারতের ভবিষ্যৎ যে উজ্জ্বল তা বুঝিয়ে দিল কমনওয়েলথ গেমস। প্রথম রাউন্ডের শেষে যে আট জন চূড়ান্ত রাউন্ডের যোগ্যতা অর্জন করলেন, তার মধ্যে তিন জনই ভারতীয়। আর কোনও দেশের থেকে এক জনের বেশি ছিলেন না। জ্যাভলিনে নীরজ ছাড়াও যশবীর এবং রোহিত যাদব অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিন জনেই ৮০ মিটারের বেশি ছুড়ে চূড়ান্ত রাউন্ডের যোগ্যতা অর্জন করেন। যশবীর শেষ থ্রোয়ে ৮৫.৪১ মিটার ছুড়ে ব্রোঞ্জ জিতে সকলকে চমকে দিয়েছেন।
গ্লাসগোর স্কটসটাউন স্টেডিয়ামে এ দিন আবহাওয়া খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ছিল। প্রবল হাওয়া দিচ্ছিল খোলা স্টেডিয়ামের চারদিক থেকে। জ্যাভলিন ছুড়তে হচ্ছিল হাওয়ার বিপরীত দিকে। ফলে প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছিলেন না ক্রীড়াবিদেরা। তার উপর ঠান্ডাও ছিল প্রচণ্ড। জ্যাভলিন ছোড়ার পরেই খেলোয়াড়েরা মোটা জ্যাকেট পরে নিচ্ছিলেন। নীরজকেও ঠান্ডায় কাঁপতে দেখা গিয়েছে। ২০১৮-য় কমনওয়েলথে সোনা জয়ের পর প্রথম বার এই প্রতিযোগিতার নেমেছিলেন নীরজ। চার বছর আগে চোটের কারণে খেলতে পারেননি। এ দিন নীরজের প্রথম থ্রো ছিল ৮০.৯৭ মিটার। প্রথম বারেই ৮০ মিটার টপকাতে সমর্থ হন। নিজের থ্রোতে বেশ খুশি দেখিয়েছিল। পাথিরাগের প্রথম থ্রো ফাউল হয়। তিনি লাইন পেরিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তাঁর জ্যাভলিন প্রায় ৮৫ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে। অর্থাৎ বৈধ থ্রো হলে তিনি প্রথমেই নীরজের থেকে এগিয়ে যেতে পারতেন।দ্বিতীয় থ্রোতে সকলের উপরে উঠে যান নীরজ। তিনি ৮৫.৮৩ মিটার দূরে জ্যাভলিন ছোড়েন। হাত থেকে জ্যাভলিন বেরনো মাত্রই চেঁচাতে থাকেন নীরজ। বোঝাই গিয়েছিল বিশেষ কিছু হতে চলেছে। সেটাই হয়।
তখনও বোঝা যায়নি এর পর কী হতে চলেছে। রুমেশ এসে সকলকে চমকে দেন। তাঁর জ্যাভলিন গিয়ে পরে ৮৯.৭৫ মিটার দূরে। অর্থাৎ নীরজের থেকে প্রায় চার মিটার এগিয়ে যান তিনি। গোটা ইভেন্টে আর নীরজ টপকাতে পারেননি শ্রীলঙ্কার প্রতিযোগীকে। নীরজের তৃতীয় থ্রো হয় ৮১.২৯ মিটার। চতুর্থ থ্রোয়ে নীরজ ছোড়েন ৮০.৭৩ মিটার। পঞ্চম থ্রো একেবারেই ঠিকঠাক হয়নি। নীরজ সেই থ্রো নথিভুক্ত করাবেন না বলে ইচ্ছা করে ফাউল করে দেন। ষষ্ঠ থ্রোতেও একই জিনিস দেখা যায়। নীরজ থ্রোয়ে খুশি হতে না পেরে ফাউল করে দেন। তখনই পাথিরাগের সোনা নিশ্চিত হয়ে যায়। পাথিরাগে ছ’টি থ্রোই করেছেন। কিন্তু একটি বাদে বাকি সব ক’টি থ্রো-ই হয় ফাউল হয়েছে, না হলে তিনি ইচ্ছা করে ফাউল করেছেন। অর্থাৎ একটি থ্রোতেই তাঁর সোনা নিশ্চিত হয়েছে। রোহিত প্রথম থ্রোয় ৭৭.৫০ মিটার দূরে জ্যাভলিন ছোড়েন। দ্বিতীয় থ্রোতে তিনি ৮১.৫৬ মিটার ছুড়ে চূড়ান্ত রাউন্ড কার্যত নিশ্চিত করে ফেলেন। তবে এর পর থেকেই তাঁর থ্রো খারাপ হতে শুরু করে। শেষের দিকে গিয়ে আর ফর্ম ধরে রাখতে পারেননি। যশবীর তৃতীয় থ্রোতে ৮১.৩৩ মিটার ছুড়ে প্রথম আট নিশ্চিত করেন। কিন্তু শেষ থ্রোতে তিনি যে ৮৫ মিটার পেরিয়ে যাবেন তা কেউ ভাবতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার ডাউ স্মিট অনেক ক্ষণ ধরে তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছিলেন। একদম শেষ থ্রোতে এসে নিশ্চিত ব্রোঞ্জ হাতছাড়া হয়। দিনের অবাক করা ঘটনা হল অলিম্পিক্স জ্যাভলিনে সোনাজয়ী আর্শাদ নাদিমের প্রথম রাউন্ডেই বিদায়। শুরু থেকেই বেশ নড়বড়ে দেখাচ্ছিল তাঁকে। নীরজের থ্রোয়ের ধারেকাছে যেতে পারছিলেন না। বাকিদের সঙ্গেও তাল মেলাতে পারছিলেন না। প্রথম থ্রো ফাউল করেন। দ্বিতীয় থ্রোয়ে ৭৭.৪১ মিটার ছোড়েন। প্রথম আটে থাকতে গেলে তৃতীয় থ্রোতে ৭৮ মিটারের বেশি ছুড়তে হত। নাদিম ছোড়েন ৭৫.৩৯ মিটার।




