RK NEWZ ক্ষমা পরম ধর্ম! আজকের হিংসার পৃথিবীতে রবিঠাকুরের এমন ধৈর্যশীল বাণীর প্রয়োগ কতটা, জানা নেই। তবে দেশের প্রধানমন্ত্রী, দেশবাসীর সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে নরেন্দ্র মোদি সেই মহান বাণীতেই আস্থা রাখেন। শুক্রবার রাতে ছাত্র ও যুব সমাজের প্রতি ভিডিও বার্তায় সেই ‘ক্ষমাসুন্দর’ মনোভাবের পরিচয় দিলেন তিনি। যন্তর মন্তরে ‘বিক্ষুব্ধ’দের প্রতি তাঁর বার্তা, ‘‘ওরা আমাকে তো বটেই, আমার পরলোকগত মাকেও অনেক অপমান করেছে। কিন্তু আমি ওদের ক্ষমা করে দিলাম। অপমান বা কটাক্ষ কোনও সমাধান নয়। আসুন, সকলে একসঙ্গে কাজ করি, ভারতের জন্য।” আড়াই মিনিটের ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বারবার ভুল সংশোধনের কথা শুনিয়েছেন। আন্দোলনের নামে ছাত্র ও যুব সমাজের এই অরাজকতা যে স্রেফ ভুল বোঝার প্রতিফলন, তা মনে করিয়েছেন। মোদির কথায়, ‘‘কারও কারও ভুল গাইডেন্সের কারণে পড়ুয়ারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু সেই ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ জীবন দিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই জীবন আমাদের বারবার শোধরানোর সুযোগ দিয়েছে। আর যৌবনকাল এমন একটা সময়, যখন আর ছোটবেলার ভুলগুলো করা যায় না।” তিনি আরও বলেন, ‘‘সমাজে রাগ, ক্ষোভ যথেষ্ট, অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এর মাঝেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক রাস্তা দেখাতে হবে। সেটা আমাদেরই দায়িত্ব। শাস্তি দেওয়া, দূরে ঠেলে দেওয়ার মধ্যে কোনও সংশোধনের সম্ভাবনা নেই। দিকভ্রষ্ট ছেলেমেয়েদের কাছে টেনে বোঝাতে হবে।” নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে গত প্রায় একমাস ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে তরুণদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। পড়ুয়াদের এই প্রতিবাদের মাঝে বেশ কয়েকজন ‘সমাজবিরোধী’ ঢুকে আন্দোলনকে হিংসাত্মক করে তুলেছে বলে বড়সড় অভিযোগ করে দিল্লি পুলিশ। তাদের চিহ্নিত করে ধরপাকড়ও চলছে। এই আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এক তরুণীর কটূ মন্তব্য নিয়ে সর্বস্তরে নিন্দার ঝড়। তার সূত্র ধরেই প্রধানমন্ত্রীর শুক্রবারের বার্তা। মোদির কথায়, ‘‘ওরা আমার পরলোকগত মায়ের প্রসঙ্গ টেনেও অপমান করেছে। কিন্তু আমি ক্ষমা করে দিতে চাই। সমাজের কাছেও আমার বিনীত অনুরোধ, আমার কথা শুনে ওদের ক্ষমা করে দিন। আসুন, একসঙ্গে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করি।” উল্লেখ্য, এনিয়ে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী এভাবে রাতে ভিডিও বার্তা দিলেন। পড়ুয়া আন্দোলনের আবহে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ফেসবুকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেটার ‘গ্লোবাল টিম’-কে তলব করল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিয়োবার্তা ফেসবুক থেকে সাময়িক ভাবে কেন মুছে গিয়েছিল, তার জবাব চাইতেই এই পদক্ষেপ। সংবাদ সংস্থা ওই বিষয়ে সংস্থার আধিকারিকদের প্রশ্ন করবেন কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকেরা। পিটিআই সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ভারতে আসতে পারে মেটার ‘গ্লোবাল টিম’। সরকারি আধিকারিকদের আগে সংসদীয় প্যানেলের সামনে উপস্থিত হবেন কর্তারা। ছাত্রবিক্ষোভের মধ্যেই প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মাঝরাতে সমাজমাধ্যমে সেই বার্তার ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়। মোদীর সেই ভিডিয়োবার্তা কিছু সময়ের জন্য ফেসবুক থেকে মুছে গিয়েছিল। এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চায় মেটা। একটি বিবৃতি দিয়ে মেটার এক মুখপাত্র জানান, ভুল করে ওই ভিডিয়োটি মুছে গিয়েছিল। তার পর সেটিকে ফেরানো হয় বলে জানান তিনি। মেটার এই ব্যাখ্যায় অবশ্য সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্র। সরকারের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ে প্রকাশিত, এই ঘটনার জন্য মেটা যে যুক্তি দিয়েছে, তাকে যুক্তিযুক্ত মনে করছে না সরকার। তাই বিষয়টি নিয়ে ওই সংস্থার সঙ্গে সবিস্তার কথা বলতে চায় কেন্দ্র। মেটার জননীতি সংক্রান্ত শীর্ষ পর্যায়ের আধিকারিককে আগেই তলব করে ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। মেটা অবশ্য বার বার দাবি করে, ফেসবুকের প্রযুক্তিগত কিংবা সিস্টেমগত ভুলেই প্রধানমন্ত্রীর ওই ভিডিয়োটি কিছু সময়ের মুছে গিয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ওই ভিডিয়োবার্তার ক্যাপশনটি অবিকল থাকলেও ভিডিয়োর অংশে লেখা ছিল, “আইনি অনুরোধের কারণে এই পোস্টটি ভারতে পাওয়া যাচ্ছে না।” ভিডিয়োবার্তাটিতে মোদী ঘোষণা করেছিলেন, প্রশ্নফাঁস রুখতে খসড়া বিল তৈরি করা হয়েছে। এই বিষয়ে শুক্রবার মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে। তার পর সংসদে সেই বিল পাস করানো হবে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভ-আন্দোলনেও সমাজমাধ্যমের বড় ভূমিকা ছিল। ছাত্রদের বিক্ষোভ উঠে যাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ‘আপত্তিকর’ ছবি, ভিডিয়ো শনাক্ত করে কেন্দ্র। সেগুলি ফেসবুক-সহ অন্য সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে দিতে বলা হয়। এই আবহে মোদীর ভিডিয়োবার্তা সরিয়ে দেওয়ায় কেন্দ্রের কাঠগড়ায় মেটা।



