Tuesday, July 21, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হুঁশিয়ারি প্রাক্তনী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের!‌ ‘মুখ খুললে আপনি ১০ বছর তৃণমূলে থেকে কী করেছেন, মুখোশ খুলে দেব’

RK NEWZ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম না-করে তাঁকে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, কেবল তৃণমূলের কোল খালি করা হচ্ছে। এই সূত্রেই তিনি বলেন, “মুখ খুললে আপনি ১০ বছর তৃণমূলে থেকে কী করেছেন, মুখোশ খুলে দেব।” সোমবার রাতে ২১ জুলাইয়ের সভা পণ্ড করতে বিজেপির গুন্ডারা বিদ্যুতের তার কেটে দিয়েছে বলে অভিযোগ করলেন মমতা। এই সূত্রেই বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওরা তারকাটা পার্টি। এর পর আমি জেলায় জেলায় বেরোব, আটকানোর ক্ষমতা কত আছে দেখতে চাই। বিজেপিতে যান। যত যাবেন খুশি হব। যে স্থান শূন্য হবে, তা পূরণের জন্য আমার ছাত্র, যুব আছে।চোরগুলো বিজেপিতে চলে গেছে। আর ফেরত নেব না। কালকের অপারেশন কারা করেছে, আমি প্রত্যেকটার নাম জানি। এত প্রলোভন, টাকা, লাঞ্ছনা, বঞ্চনা থাকা সত্ত্বেও শহীদ পরিবার এসেছেন। আমি কৃতজ্ঞ।” জেলায় জেলায় যাওয়ার বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ডিএ, হকার উচ্ছেদ-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপিকে আক্রমণ মমতার। পাশাপাশি বিরোধী শিবির ও বিজেপির উদ্দেশে একযোগে বলেন, “তুমি প্রতীক কাড়লে, আমি ছাড়ব না। আমাদের প্রতীক কাড়তে পারে না। গায়ের জোরে করছে। আমি সুপ্রিম কোর্ট অবধি যাব। আর নাহলে আমি তোমাদেরও সবটা কেড়ে নেব।” বিরোধী শিবিরকে মমতার বার্তা, “বিজেপিতে যান। যত যাবেন খুশি হব। যে স্থান শূন্য হবে, তা পূরণের জন্য আমার ছাত্র, যুব আছে।” এরপরই যোগ করেন, “চোরগুলো বিজেপিতে চলে গেছে। আর ফেরত নেব না। কালকের অপারেশন কারা করেছে, আমি প্রত্যেকটার নাম জানি।” জেলায় জেলায় যাওয়ার বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী।মমতা বলেন, “সব চোরগুলো চলে গিয়েছে। বেঁচে গিয়েছি।” তার পরেই তিনি দাবি করেন, ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখানো হচ্ছে। এই সূত্রে তাঁর সংযোজন, “ভয় দেখিয়ে কিছু মানুষকে কিছু ক্ষণের জন্য চুপ রাখা যায়।” ঋতব্রত শিবিরকে ‘বিজেপির বি টিম’ বলে কটাক্ষ করে মমতার ভবিষ্যদ্বাণী, ওই টিমও দ্রুত ভেঙে যাবে।

ঋতব্রত তৃণমূলকে বেনজির আক্রমণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বললেন, “এদের মেরুদণ্ড নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলব, এদের কাউকে ফেরত নেবেন না।” কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “এদের বালিশ চাটা বলে ডাকবেন। ছোট করে বিসি বললেই হবে।” কালীঘাট তৃণমূলের মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন কীর্তি আজাদ, বাবুল সুপ্রিয়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, রাজীব কুমার, সাগরিকা ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, অশোক দেব, গৌতম দেব। প্রলোভন সত্ত্বেও শহিদ পরিবারের সদস্যেরা কালীঘাট তৃণমূলের সভায় যাওয়ায় তাঁদের ধন্যবাদ জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঢিল ছোড়া দূরত্বে মেয়ো রোড ও তারামণ্ডলে হওয়া দুই সভামঞ্চ থেকে তীব্র আক্রমণ শানাল দুই শিবিরই। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ ভাষণ শেষে “আসল তৃণমূল জিন্দাবাদ” বলে স্লোগান দিলেন খোদ মমতা। তাহলে কি নেত্রীকে এখন এই স্লোগান তুলে ‘আসল, নকল’ বোঝাতে হচ্ছে? সেই প্রশ্নও উঠেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এদিন ছেড়ে যাওয়া নেতাদের উপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন! নেত্রীকেই সবার উপরে বসিয়ে কার্যত অভিষেক ‘ঢাল’ করেছেন মমতাকেই! এদিকে মেয়ো রোডের শহিদ সমাবেশ মঞ্চ থেকেও কালীঘাট শিবিরকে তীব্র নিশানা করেছেন ঋতপন্থীরা! মেয়ো রোড থেকে এদিন বিজেপি ও ঋতপন্থীদের তীব্র বিঁধেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর বক্তব্যের বেশি সময়ই তব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে নিশানা করেছেন তিনি! এমনই মত রাজনৈতিক মহলের। শুধু তাই নয়, তারাই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে স্লোগান তোলেন মমতা। নেতারা চলে গেলেও কর্মীরা আছেন। নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলা হবে। ফের জেলা সফরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন নেত্রী। প্রয়োজনে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও দিল্লিতে গিয়ে সামিল হতে পারেন, সেই কথা জোর গলায় জানিয়েছেন তিনি। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখার বার্তাও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯৯৩ সালে এই দিনে যে সিপিএম সরকারের গুলিতে ১৩ জন শহিদ হন, সেই সিপিএম এখন ইন্ডিয়ার শরিক। জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধিতার বৃহত্তর মঞ্চ হিসেবে ইন্ডিয়া জোট তৈরি হয়েছিল তাঁরই উদ্যোগে। ২০১৯, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে সেই জোট কতটা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছিল, সে বিষয়ে সংশয় থেকেই গিয়েছে। কিন্তু যিনি সব বিরোধী দলকে এক ছাতার নিচে আনার এত বড় উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তৃণমূল সুপ্রিমো সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে সওয়াল করে গিয়েছেন, বারবার একসঙ্গে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন। এবার একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকেও ফের সেকথাই বললেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমার কোনও ছুঁৎমার্গ নেই। ইন্ডিয়া জোট নিয়ে একসঙ্গে চলব। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে চাইলে একসঙ্গে আসুন।” কিন্তু একুশের শহিদ স্মরণ মঞ্চ থেকে মমতার এই বার্তা যথেষ্ট সমালোচনার।কারণ, এই জোটে রয়েছে সিপিএমও। ১৯৯৩ সালে ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানে ঝরেছিল ১৩ জনের রক্ত। তখন শাসনক্ষমতায় ছিল সিপিএম। সেসময়ের স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তর নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের মিছিলে গুলি চলেছিল। সেই থেকে সিপিএমই মমতা প্রধান রাজনৈতিক শত্রু। ২০১১ সালে সেই সিপিএমকে দুরমুশ করে রাজ্যের শাসক পদে বসে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কি সেই লাল পার্টি এখন শত্রু থেকে ‘বন্ধু’ হয়ে উঠল? মঙ্গলবার, ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে তৃণমূলনেত্রীর বার্তায় সেই প্রশ্ন উঠে গেল। বাম সরকারের প্রাণঘাতী দমনপীড়ন নীতির প্রতিবাদে ফি বছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন করে থাকে তৃণমূল কংগ্রেস। এবারও নীতি একই। সেদিনের ১৩ শহিদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। এই মঞ্চে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের জন্য বরাবরের রাজনৈতিক শত্রু সিপিএমের হাত ধরতেও পিছপা হলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! স্পষ্ট বললেন, ‘‘আমার কোনও ছুঁৎমার্গ নেই।” এখানেই প্রশ্ন। যে সিপিএমের বিরুদ্ধে শহিদ পরিবারদের নিয়ে এই স্মরণসভা, সেখান থেকে তাঁর সিপিএমে ‘ছুঁৎমার্গ’ না থাকার বার্তা কি শহিদদের প্রতিই অসম্মান নয়? তাঁদের ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে না?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles