RK NEWZ রোটারি ক্লাব অব হাওড়া ও হরিজন সেবা সঙ্ঘের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত বলেন হরিয়ানার বাঙালি রাজ্যপাল অসীম ঘোষ। অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোগী ডক্টর প্রফেসর শঙ্কর স্যান্যাল। হরিয়ানার বাঙালি রাজ্যপাল অসীম কুমার ঘোষ রোটারি ক্লাব অব হাওড়া এবং হরিজন সেবা সঙ্ঘের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত হয়ে তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ও শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। হাওড়ায় জন্ম নেওয়া প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ তাঁর বক্তব্যে জনকল্যাণ, শিক্ষা প্রসারে গুরুত্ব এবং পশ্চিমবঙ্গের পুরোনো গৌরব ফিরে পাওয়ার আশার কথা ব্যক্ত করেছিলেন।
বিষ্ণুকান্ত শাস্ত্রী, তথাগত রায়ের পর এ বার অসীম ঘোষ। এক সময়ের বিজেপি রাজ্য সভাপতি এ বার ভিন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। হরিয়ানার রাজ্যপাল হাওড়ার বাসিন্দা অসীম ঘোষ। ‘বড় দায়িত্ব। সাংবিধানিক পদ। সংবিধান মেনে কাজ করতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনি, অন্যান্য মন্ত্রী, আমলাদের সহায়তা করে হরিয়ানার উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে সঠিক উপদেশ দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। হরিয়ানার ১৯তম রাজ্যপাল অসীম ঘোষ। ৩৮ বছর অধ্যাপনার পর প্রায় ১৫ বছরের রাজনৈতিক জীবন। সাংবিধানিক দায়িত্ব সামলে হরিয়ানার শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতি বিশেষত মেয়েদের শিক্ষার প্রসার, আদিবাসী, অন্যান্য জনজাতিদের উন্নতির বিষয়ে খেয়াল রাখছেন।
হাওড়ায় জন্ম অসীম ঘোষের। রাজ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্তের অনেক আগে সভাপতি ছিলেন অসীম। ভরা বাম আমলে কাছ থেকে দেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। তপন শিকদারের পরবর্তী যুগে তাঁর আমলে বিজেপির সংসদীয় রাজনীতিতে উত্থান খুব একটা হয়নি। শেষ দশ বছর সক্রিয় রাজনীতিতে সেই ভাবে না থাকলেও প্রতক্ষ্য করছেন রাজ্য রাজনীতি। অসীমের মন্তব্য, ‘আমি সেই দিনের অপেক্ষায় রয়েছি, যে দিন পশ্চিমবঙ্গ তার পুরোনো গৌরব ফিরে পাবে। আজকে রাজ্যে অনেক সমস্যা। এখন যে কালো দিন, তার একদিন অবসান হবে। মেয়েরা নিশ্চিন্তে, নিরাপদে স্কুল-কলেজে যেতে পারবে, বাবা-মাকে চিন্তা করতে হবে না। আগে বাংলায় শিল্পের যে সুদিন ছিল, তা ফিরিয়ে আনার জন্য শাসক-বিরোধী সকলে চেষ্টা করবে। এটা সকলের দায়িত্ব।’
১৯৪৪ সালে হাওড়ায় জন্মগ্রহণ করেন অসীম ঘোষ। হাওড়া বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউশন থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এর পরে কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং পরবর্তীকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৬ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৮ বছর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৯১ সালে বিজেপিতে যোগদান করেন। বহুদিন রাজ্য বুদ্ধিজীবী সেলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ সালে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক হন। ১৯৯৮ সালে রাজ্য সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। ১৯৯৯ থেকে ২০০২ পর্যন্ত রাজ্য বিজেপির সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন অসীম ঘোষ। ২০০৩-২০০৫ সাল পর্যন্ত ইনি ত্রিপুরার পর্যবেক্ষকের দায়িত্বভার পালন করেছিলেন। ২০০৪-২০০৬ পর্যন্ত বিজেপির রাষ্ট্রীয় কর্ম সমিতির সদস্য ছিলেন অসীম ঘোষ। সাম্প্রতিককালে ত্রিপুরাও পেয়েছিল বাঙালি রাজ্যপাল। ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল ছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি (২০০২-২০০৬) তথাগত রায়।




