RK NEWZ ”পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাঁদের উপর ভরসা করেই বিধানসভায় পাঠিয়েছেন। তাই প্রত্যেক বিধায়কের দায়িত্ব নিজের বিধানসভা এলাকার উন্নয়ন এবং রাজ্যের সার্বিক অগ্রগতির জন্য কাজ করা।’’ মনের ভিতর আগুন থাকলেও মাথা ঠান্ডা করে কাজ করুন। শনিবার বিধানসভায় বিধায়কদের প্রশিক্ষণ শিবিরে ন্যায়ের পাঠ পড়ালেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। তাঁর কথায়, সরকারের থাকলে বিরোধীদের কথা গুরুত্ব দিয়ে মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে। তাতে গণতন্ত্র মজবুত হয়। বাংলা আবার ভারতের শ্রেষ্ঠ আসন নেবে বলে আশা প্রকাশ করে রাজ্যপাল আর এন রবি জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। আগামীদিনে ফের সেই ভূমিকা পালন করতে হবে। বিধায়কদের সংসদীয় রীতিনীতি ও আইনি বিষয়গুলি নিখুঁতভাবে শেখাতে কলকাতা সফরে এসেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। দু’দিন ধরে চলছে ‘বিশেষ ক্লাস’। আজ, শনিবার রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের প্রশিক্ষণ শিবির শেষে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। এদিন বিধানসভায় তিনি বলেন, ‘‘জনপ্রতিনিধিদের কাজ শুধু আইন প্রণয়ন নয়, সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাও তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব। মনের মধ্যে আগুন রাখুন, কিন্তু কাজ করুন ঠান্ডা মাথায়। যেকোনও হাউসের নেতা হওয়া সহজ নয়। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তি দিয়ে কথা বলার দক্ষতাই একজন জনপ্রতিনিধিকে প্রকৃত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।’’ বক্তব্যে এদিন ওম বিড়লা যোগ করেন, ”পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাঁদের উপর ভরসা করেই বিধানসভায় পাঠিয়েছেন। তাই প্রত্যেক বিধায়কের দায়িত্ব নিজের বিধানসভা এলাকার উন্নয়ন এবং রাজ্যের সার্বিক অগ্রগতির জন্য কাজ করা।’’ সরকারের ভূমিকাও এদিন উল্লেখ করেন লোকসভার স্পিকার। তাঁর মতে, সরকারকে বিরোধী পক্ষের সমালোচনাকেও গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। কোনও সমস্যা সত্যিই থাকলে তার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই গণতন্ত্রের মূল চেতনা। আইন প্রণয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন ওম বিড়লা। বলেন, ‘‘আইন সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি হয়। তাই নতুন আইন করার সময় মানুষের স্বার্থ ও প্রয়োজনকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, একজন সাধারণ মানুষ কোনও সমস্যা বা গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে আপনার কাছে এলে সেটিকেই তাঁর শেষ ভরসা হিসেবে দেখতে হবে। সমস্যার সমাধান করতে পারলেই একজন জনপ্রতিনিধির কাজ সার্থক হবে। এদিন, প্রশিক্ষণ শিবিরে অন্তিম অনুষ্ঠানে ছিলেন হরিয়ানার রাজ্যপাল অসীম ঘোষ, বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু ও শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়।
‘বাংলায় সব সম্পদ আছে’, শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। বাংলায় সমস্ত সম্পদ রয়েছে। শিল্পপতিদের বিনিয়োগের জন্য ফের আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বলেন, ‘‘বাংলায় সমস্ত সম্পদ আছে। প্রস্তাব নিয়ে আসুন। এলাকা চিহ্নিত করে আসুন। কী কী সাহায্য চাই বলুন। এখানে বিনিয়োগ হোক।” সন্ধ্যায় আলিপুর নাগরিক সমিতি আয়োজিত ‘অভিনন্দন সমারোহ’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ছিলেন বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিএম ও তৃণমূল সরকারকে একযোগে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। বলেন, ‘‘৩৪ বছরে কমিউনিস্ট ও ১৫ বছর তৃণমূলের রাজে নিচুতলায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, নীতি সব গড়বড় ছিল। ৩৪ বছরে শুধু পার্টি অফিস হয়েছে। শিল্প বন্ধ হয়েছে, আর ইনক্লাব-জিন্দাবাদ হয়েছে। তৃণমূলের আমলে ১৫ বছর তুষ্টিকরণ আর দুর্নীতি।’’ প্রাক্তনের সঙ্গে তাঁর পার্থক্য বুঝিয়ে নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এদিন কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘আগের মুখ্যমন্ত্রী বলতেন আমি সব জানি। এখনকার মুখ্যমন্ত্রী বলেন আমি অনেক কিছুই জানি না। শোনার দরকার, বোঝার দরকার। এটাই আগের ও বর্তমান রাজ্য সরকারের পার্থক্য।’’ প্রায় দু’মাস হতে চলা বর্তমান সরকারের আমলে কী কী কাজ হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশের সুরক্ষায় সীমান্তে বিএসএফকে জমি দেওয়া থেকে শুরু করে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো, সেনসাসের কাজ শুরু করা, গুন্ডাদমন বিল নিয়ে আসার কথা বলেন। ইউসিসিও হবে বলে এদিন সাফ জানিয়ে দেন শুভেন্দু। আবার বিজিবিএস নিয়ে আগের রাজ্য সরকারের মিথ্যাচার ও অনিয়মের বিষয়টিও এদিন তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যতবার বিজিবিএস হয়েছে ছ’শো কোটির বেশি টাকা ওড়ানো হয়েছে। শুধু ১৬ লাখ কোটির খাতায় কলমে এগ্রিমেন্ট। ইনভেস্টমেন্ট ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটির বেশি নয়। সেটাও সিপিএমের আমলে জমিতে তৈরি হওয়া প্রকল্প। শুধু তাই নয়, ফিকিকে কীভাবে বিপুল অর্থ দেওয়া হয়েছে তাও এদিন ওই অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ফিকিকে তিন-চার বছরে বিজিবিএস করার জন্য ৩১১ কোটি দেওয়া হয়েছে। আর সেই নথিপত্র যে তাঁর হাতে রয়েছে, তাও জানান শুভেন্দু অধিকারী। পোস্তায় ব্যবসায়ীর উপর ডিম ছোড়া ও মারধরের ঘটনায় পুলিশ পদক্ষেপ নিয়েছে। এরপরই পোস্তার ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বড়বাজারে একটা খারাপ কাজ হয়েছিল। যা বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না। রাজনৈতিক বিষয় নয়। পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। কলকাতা পুলিশের প্রশংসা করে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট তুলে নিয়েছে।




