“নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আপনিও তৃণমূল করেছেন বহু বছর। আগে কংগ্রেসও করেছেন। তবে আপনিও হেরেছেন। আপনার জন্য আমি প্রচারে গিয়েছিলাম। ওটা যদিও আমার দায়িত্ব ছিল। আপনি তৃণমূল সরকারের একাধিক দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন, ৬ জেলার দায়িত্বে ছিলেন। হলদিয়া ও দিঘা উন্নয়ন পর্ষদ আপনাদের হাতেই ছিল।” এরপরই বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা আপনার সঙ্গে গেল তাঁরা সাধু হলে গেল। যারা গেল না, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই, আরও কতকিছু। মনে রাখবেন, সব ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া রয়েছে।” বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর গড়ে তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বামসাম্রাজ্যের পতন হয়েছে তাঁর হাতেই। তারপর দীর্ঘ ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগে পর্যন্ত তিনি ভাবতেও পারেননি বাংলার মানুষ তাঁর দিক থেকে মুখ ফেরাতে পারেন। কিন্তু ভাবনা আর বাস্তবের যে বিস্তর ফারাক। ছাব্বিশে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ফলপ্রকাশের ৪৮ ঘণ্টা পর সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি হারেননি। কারচুপি করা হয়েছে। তাই এই ফল তিনি মানেন না। সেই কারণেই রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দেবেন না তিনি। স্বাভাবিকভাবেই শুভেন্দু অধিকারীকেও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেননি তিনি। তবে আজ, শনিবার অবশেষে হার স্বীকার করে নিলেন তিনি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানালেন মমতা। পাশাপাশি মনে করিয়ে দিলেন পুরনো দিনের কথাও। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এই ফলাফল তিনি মানেন না। তিনি হারেননি। এই যুক্তিতে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে রাজভবনেও যাননি তিনি। তারপর পেরিয়েছে ২ মাস। এই সামান্য সময়েই ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। দলের এই ভাঙনের মরশুমে অবশেষে হার স্বীকার করে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ফেসবুক লাইভে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানালেন তিনি। পাশাপাশি মানুষের কাজ করলে পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন।



