Wednesday, June 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘ইয়ারবা মাতে’? দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী পানীয়!‌ স্ট্র ডুবিয়ে আয়েস করে পান করেন ফুটবলের রাজপুত্র লিও মেসি

RK NEWZ লিয়োনেল মেসির পছন্দের পানীয়। বিশ্ব জুড়েই এই পানীয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। মেসিকে মাঝেমধ্যেই স্ট্র দিয়ে এই পানীয়ে চুমুক দিতে দেখা যায়। তবে এটি কোনও বাজালচলতি এনার্জি ড্রিঙ্ক নয়। দক্ষিণ আমেরিকার সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এর নাম। ভেষজ পানীয় যা ইয়ারবা মাতে নামে এক ধরনের গাছের শুকনো পাতা থেকে তৈরি হয়। পানীয়টি যে পাত্রে ঢালা হয়, তার নামও ‘মাতে’। সেটি তৈরি হয় লাউয়ের শুকনো খোলা দিয়ে। খোলাটিকে বিশেষ আকারে কেটে তার সঙ্গে কাঠ, ধাতু মিশিয়ে বিশেষ রকম গড়ন দেওয়া হয়। মুড়িয়ে দেওয়া হয় চামড়ায়। সিলিকন ও কাচের নকশা কাটা থাকে পাত্রে। এখনকার দিনে অবশ্য শুধু কাঠ বা সেরামিক দিয়েও এমন পাত্র তৈরি করা হয়। পাত্রটি এমন ভাবে তৈরি হয় যাতে এটি থার্মোফ্লাক্সের মতো কাজ করতে পারে। অর্থাৎ, পাত্রে পানীয়টি ঢাললে সেটি দীর্ঘ ক্ষণ গরম থাকতে পারে। পানীয়টি পান করারও নিয়ম আছে। পাত্রে এক বিশেষ ধরনের ধাতব স্ট্র থাকে যাকে বলা হয় ‘বম্ববিলা’। সেটি কেবল স্ট্র নয়, এর নীচের অংশে লাগানো থাকে ছাঁকনি বা ফিল্টার, যাতে পানীয়টি স্ট্র-এর মধ্যেই ছাঁকা হয়ে তার পর মুখে আসে। পানীয়টিও তৈরি করা হয় বিশেষ উপায়ে। চা যে ভাবে বানায় মাতে বানানোর পদ্ধতি তার থেকে কিছুটা আলাদা। প্রথমে ইয়ারবা মাতের শুকনো পাতাগুলি সামান্য ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে নিতে হয়। তার পর পাতাগুলি ওই পাত্রে ঢেলে স্ট্র বসিয়ে উপর থেকে ধীরে ধীরে গরম জল ঢালা হয়। মাতে তৈরির জন্য ফুটন্ত জল ব্যবহার করা হয় ন। সাধারণত হালকা গরম ব ঈষদুষ্ণ জল ব্যবহার করা হয়।

এর পর স্ট্র দিয়ে চুমুক দিয়ে পানীয়টি ধীরে ধীরে পান করা হয়। স্ট্র-তে ফিল্টার থাকায় পাতার কুচিগুলি তাতে মেশে না। ছেঁকে বিশুদ্ধ পানীয়টিই মুখে আসে। আবার লেবু ও কমলার খোসা, পুদিনাপাতা, চিনি, মধু, কফির গুঁড়ো মিশিয়েও অনেকে মাতে পান করেন। নকশা কাটা কাঠ ও ধাতু দিয়ে তৈরি পাত্র। তাতে রাখা পানীয়ে স্ট্র ডুবিয়ে আয়েস করে পান করছেন ফুটবলের রাজপুত্র। এমন ছবি বহুবারই সামনে এসেছে। লিয়োনেল মেসিকে মাঝেমধ্যেই এমন পাত্র থেকে একটি বিশেষ পানীয়ে চুমুক দিতে দেখা যায়। পানীয়টি কী তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কৌতুহল ছিলই। সম্প্রতি বিশ্ব জুড়ে আলোচনাতেও উঠে এসেছে এই পানীয়ের নাম। মেসি যা পান করেন আয়েস করে, সেটি একেবারেই কোনও বাজারচলতি এনার্জি ড্রিঙ্ক নয়। এর নাম ‘ইয়ারবা মাতে’। দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী পানীয়টি সে দেশের সংস্কৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে। আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও ব্রাজিলে এই পানীয় সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এ ছাড়া সিরিয়া ও লেবাননেও এটি পান করার রেওয়াজ আছে।

দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা মাতে পান করতেন। পানীয়টির উপকারিতা দেখেই এটি খাওয়ার চল শুরু হয়। শরীরের জন্য কতটা উপকারী? চা বা কফির মতো এতে বেশি মাত্রায় ক্যাফেইন নেই। তাই মাতে পান করলে হজমের সমস্যা বা ঘুমের সমস্যা হয় না। পানীয়টি শরীর ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। ভেষজ পানীয়টি পান করলে পেশির জড়তা কটে, শরীর চনমনে হয়, অনেক বেশি সতেজ লাগে। ক্লান্তি দূর হয়। ব্যায়াম বা ভারী শারীরচর্চার পরে পানীয়টি পান করলে পেশির ক্লান্তি কাটে। খুব দ্রুত ওজন কমে। মাতের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য আছে। মাতে পান করে ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়। রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে মাতে। তাই এই পানীয়টি ডায়াবিটিসের রোগীরাও নিশ্চিন্তে পান করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles