Wednesday, June 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সিআর সেভেনের সিউ সেলিব্রেশন!‌ রোনাল্ডোর জোড়া গোল!‌ নকআউটে ওঠার টিকিটও কার্যত নিশ্চিত করে ফেলল পর্তুগাল

পর্তুগাল: ৫ (রোনাল্ডো ২, মেন্দেস, নেমাতোভ-আত্মঘাতী, রাফায়েল)
উজবেকিস্তান: ০

RK NEWZ ‘আই অ্যাম ব্যাক’, জোড়া গোলে রোনাল্ডো দেখালেন ৪১ অবসরের নয়, পুনর্জন্মের বয়স। হ্যাটট্রিক অল্পের জন্য হাতছাড়া। তবে ৪১ বছরের বুড়োটার লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছে তামাম ফুটবলদুনিয়া। আর তিনি তখন কী করছেন? চেনা উগ্র মেজাজে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে, গলার শিরা ফুলিয়ে, তর্জনী বুকে ঠেকিয়ে পর্তুগিজ ফুটবল দস্যু বললেন প্রতিবেদনের শুরুর লাইন। মাতৃভাষা পর্তুগিজে কথা বলতে পছন্দ করেন সিআর সেভেন। তবে, এই কথাগুলো বললেন স্পষ্ট ইংরেজিতেই। কারও মতে, যাতে তাঁর এই সতর্কবাণীর বাণে বিদ্ধ হতে পারেন দুনিয়া জুড়ে থাকা তাঁর শুভানুধ্যায়ী, থুরি, তাঁর সমালোচকরা। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নামা উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জিতবে পর্তুগাল, সেটা নিয়ে ফুটবলমহলের হয়তো খুব একটা সংশয় ছিল না। বরং মঙ্গলবার ফুটবলপ্রেমীরা খেলা দেখতে বসেছিলেন একটাই প্রশ্ন নিয়ে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কি ফুরিয়ে গিয়েছেন? নাকি সমালোচকদের জবাব দিয়ে এখনও জ্বলে উঠতে পারেন? এদিন সকলকে জবাব দিয়ে দিল সিআর সেভেনের সিউ সেলিব্রেশন। নকআউটে ওঠার টিকিটও কার্যত নিশ্চিত করে ফেলল পর্তুগাল। উজবেকদের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে রোনাল্ডোকে দেখে অনেকেই ভুরু কুঁচকে ছিলেন। চার মিনিটের মাথায় নুনো মেন্দেসের ক্রসে পা ছোঁয়াতে পারেননি রোনাল্ডো। সেই দেখে সমালোচকরা আবার যখন বাক্য়বাণ ছোড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে রোনাল্ডোর জ্বলে ওঠা।

গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে গোল করা, সেটা তো সিআর সেভেনের অভ্যাস। পাশাপাশি বিশ্বকাপে ইতিহাস লিখে ফেললেন এদিন। এই গ্রহের একমাত্র মানব হিসাবে টানা ৬ বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়লেন। আপাতত যে রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা নেই কারোর। ১৭ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে মেন্দেসের গোল, সেটার নেপথ্যেও রোনাল্ডোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। গোটা বিশ্ব ভাবছে সিআর সেভেন কিক নেবেন, উজবেক রক্ষণও প্রস্তুত-কিন্তু বাঁশি বাজতেই সরে গেলেন রোনাল্ডো, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেন্দেসের শট জড়িয়ে গেল তেকাঠিতে। ২৯ মিনিটে উজবেকিস্তানের গানিভের শটে গোল হলেও পরে তা বাতিল হল। তার ঠিক ৯ মিনিটের মাথায় অনবদ্য ফিনিশিংয়ে ফের গোল সিআর সেভেনের। পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের নজির এখন তাঁর দখলে। ৩-০ এগিয়ে থেকে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করেছিল পর্তুগাল। সবচেয়ে বেশি করে চোখে পড়ছিল রোনাল্ডোর গোলের খিদে। বেশ কয়েকটা সুযোগ পেয়েছিলেন। ৫৯ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে আরও বাড়ে পর্তুগালের জয়ের ব্যবধান। ৮৭ মিনিটে এল রাফায়েল লিয়াওর পা থেকেও গোল এল। গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ অনেকটা সময় খোঁড়াতে দেখা গেল সিআর সেভেনকে। তা সত্ত্বেও মাঠ ছাড়লেন না। ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত গোল লক্ষ্য করে শট নিলেন। কিন্তু একের পর এক সুযোগ, গোলমুখী শটের পরেও হ্যাটট্রিক অধরা থেকে গেল।

বিশ্বকাপ আসে। বিশ্বকাপ যায়। প্রতিবার অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা উপাসককে। গতবার কাতারে তাঁর চিরপ্রতীদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি যেদিন স্পর্শ করলেন সোনার পরীকে, তার পর থেকে যেন আরও তীব্রতা পেয়েছে সমালোচনা। তিনি চুপ থেকেছেন। তিনি বিদ্ধ হয়েছেন। তিনি রক্তাক্ত হয়েছেন। তিনি প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি নিজেকে আরও আরও বেশি করে ঘষেছেন, মেজেছেন, ত্যাগ করেছেন, তৈরি করেছেন। তিনি নিজেও জানেন, বিজ্ঞান বলে যে বস্তুটি আছে, তা বলছে ২০৩০ বিশ্বকাপ খেলা তাঁর পক্ষে ইমপসিবল। তবে যেহেতু তিনি অতিমানব, তাই হয়তো এখান থেকেও তিনি বলতেই পারেন আই অ্যাম পসিবল। তবু কোনও ফাঁক রাখতে চান না ক্রিশ্চিয়ানো। হয়তো এখনও মুখে কিছু বলেননি। তবে খুব সম্ভবত রোজ মনে মনে নিজেকে বলছেন, “সিআর, গুরু হয় এবার নয় নেভার।” তাই তো এই বয়সেও টানা দু’টো ম্যাচ ৯০ মিনিট খেলে ফেললেন। উজার করে দিলেন নিজের সেরার সেরা। উজবেকদের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করার জন্য যে ছটফটানি দেখালেন, তা তাঁর অর্ধেক বয়সী অনেকের মধ্যেও দেখা যায় না। কে বলবে লোকটা আর মাত্র কয়েক কদম দূরে নিজের হাজারতম গোলের থেকে। তবু এই যে গোলের খিদে, এটাই যেন তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা করে দেয়। ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে পয়েন্ট ভাগ করে বিশ্ব অভিযান শুরু করার পর আরও একবার দাঁতে নখে শান দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন তাঁর সমালোচকরা। আরও একবার যেন তিনি হারিয়ে গিয়েছিলেন গহন অন্ধকারে। কিন্তু তিনি থামেননি। ওই যে। হয় এবার, নয় নেভার…! সতীর্থদের কাছে ডেকে নিয়েছিলেন। কথা বলেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ‘বসিং’ করার যে অভিযোগ, তা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন আটলান্টিক মহাসাগরে।

তার প্রতিফলন যেন মিলল উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে। ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, জোয়াও ফেলিক্স, পেদ্রো নেটোরা বল বাড়ালেন সিআরকে। তিনিও ‘নাটক’ করে ফ্রিকিক মারার সুযোগ করে দিলেন নুনো মেন্ডেজকে। সারাক্ষণ যেন কিছু না বলেও বলে গেলেন, “কারা যেন আমায় স্বার্থপর বলে? কারা যেন বলে আমি টিম ম্যান নই? এই দেখুন আমার টিম। এই দেখুন টিম গেম।” ম্যাচের পর হঠাৎ কেন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ইংরেজিতে অমন গর্জন করলেন তিনি? সাংবাদিকদের জবাবে বললেন, “যাঁরা আমার দিকে আঙুল তুলছিলেন, তাঁদের বোঝানোর জন্য যে, আমি কে, আমি কী, সেটা যেন ওঁরা না ভোলেন।” সঙ্গে জুড়লেন, “গত এক সপ্তাহ আমাদের কাছে খুব কঠিন ছিল। আমরা অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছিলাম। সবাই মিলে কথা বলেছিলাম। ঠিক করেছিলাম প্রত্যাবর্তনের লড়াই লড়ব। আর জানেন তো, ঈশ্বর তাঁদের সঙ্গেই থাকেন, যাঁরা হাল ছেড়ে না দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে। সৎ থাকে। সবাইকে বলেছিলাম, আমরা পারব। পারতেই হবে। আমার টিমের প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল। সেটা যে ভুল নয়, প্রমাণ হল।” এতদিন নিজেকে দলের ঊর্ধ্বে রাখা সিআর কতখানি নিজেকে বদল করেছেন, তার আরও একটি উদাহরণ মিলল ম্যাচ শেষের পর। নিজের সামাজিকমাধ্যমে দু’টি ছবি শেয়ার করলেন তিনি। যার প্রথমটিতে অবশ্যই তাঁর বিখ্যাত ‘সিউ’ সেলিব্রেশন। অন্যটিতে সতীর্থদের বুকে টেনে নিচ্ছেন তিনি। পর্তুগিজ ভাষায় ক্যাপশনে লিখলেন, ‘এস্তামোস আকুই।’ বাংলায় তর্জমা করলে যার মানে দাঁড়ায়, এই যে আমরা। সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করার একটা ধাপ পার করলেন সিআর। বাকি এখনও ছ’টা ম্যাচ। রোনাল্ডো কি পারবেন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দু’হাতে সোনার পরী মাথার উপরে তুলে হাসি মুখে মাঠ ছাড়তে? সেই উত্তর দেবে সময়। তবে আপাতত যেন তিনি তাঁর সমালোচকদের এক কড়া বার্তা দিয়ে গেলেন। অভি হাম জিন্দা হ্যায়।

বিশ্বকাপে আগমন হল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। প্রথম ম্যাচে খারাপ পারফর্ম করে সমালোচিত হওয়ার পর উজ়বেকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তিনি। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসাবে টানা ছ’টি বিশ্বকাপে গোল করলেন পর্তুগালের ফুটবলার। এ বার লিয়োনেল মেসিও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। তবে ২০১০-এ তিনি গোল করতে পারেননি। সোমবার রাতেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন মেসি। তার পর দিন বিশ্বরেকর্ড করলেন রোনাল্ডোও। ২০০৬-এ বিশ্বকাপে অভিষেক হয় রোনাল্ডোর। ১৭ নম্বর জার্সি পরে অ্যাঙ্গোলার বিরুদ্ধে প্রথম মাঠে নামেন তিনি। ৬০ মিনিট পর তুলে নেওয়া হয়। পরের ম্যাচে ইরানের বিরুদ্ধে গোল করেন, যা বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম গোল। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাঁকে নামানো হয়নি। প্রি-কোয়ার্টারে নেদারল্যান্ডস ম্যাচে তাঁকে কিছু ক্ষণ পর তুলে নেওয়া হয়। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ ০-০ ড্র থাকার পর শুটআউটে রোনাল্ডোর গোলে সেমিফাইনালে ওঠে পর্তুগাল। তবে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়। লিয়োনেল মেসিও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। তবে ২০১০-এ তিনি গোল করতে পারেননি। সোমবার রাতেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন মেসি। তার পর দিন বিশ্বরেকর্ড করলেন রোনাল্ডোও। ২০০৬-এ বিশ্বকাপে অভিষেক হয় রোনাল্ডোর। ১৭ নম্বর জার্সি পরে অ্যাঙ্গোলার বিরুদ্ধে প্রথম মাঠে নামেন তিনি। ৬০ মিনিট পর তুলে নেওয়া হয়। পরের ম্যাচে ইরানের বিরুদ্ধে গোল করেন, যা বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম গোল। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাঁকে নামানো হয়নি। প্রি-কোয়ার্টারে নেদারল্যান্ডস ম্যাচে তাঁকে কিছু ক্ষণ পর তুলে নেওয়া হয়। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ ০-০ ড্র থাকার পর শুটআউটে রোনাল্ডোর গোলে সেমিফাইনালে ওঠে পর্তুগাল। তবে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়। ২০১০-এ রোনাল্ডো অনেক পরিণত হয়ে নেমেছিলেন। বালঁ দ্যর এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ফেলেছিলেন। লুই ফিগোর থেকে সাত নম্বর জার্সিও পেয়েছিলেন। উত্তর কোরিয়া ম্যাচে রোনাল্ডো একটি গোল করেন। পরের রাউন্ডেই ছিটকে যায় পর্তুগাল। ২০১৪-য় রোনাল্ডোর হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করে পর্তুগাল। তবে বিশ্বকাপের আগেই চোট পান রোনাল্ডো। তাই সেরা ছন্দে পাওয়া যায়নি তাঁকে। ফলে প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ০-৪ হারে পর্তুগাল। ঘানার বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচে গোল করেন রোনাল্ডো। তবে দেশ গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। ২০১৮ রোনাল্ডোর কাছে স্মরণীয়। স্পেনের বিরুদ্ধে গ্রুপের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। মরক্কোর বিরুদ্ধে একটি গোল করেন। ২০২২-এ মাত্র একটি গোল করেন রোনাল্ডো। সেটি আসে ঘানার বিরুদ্ধে গ্রুপের ম্যাচে।

বিশ্বকাপে আগমন হল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। প্রথম ম্যাচে খারাপ পারফর্ম করে সমালোচিত হওয়ার পর উজ়বেকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তিনি। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসাবে টানা ছ’টি বিশ্বকাপে গোল করলেন পর্তুগালের ফুটবলার। এ বার লিয়োনেল মেসিও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। তবে ২০১০-এ তিনি গোল করতে পারেননি। সোমবার রাতেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন মেসি। তার পর দিন বিশ্বরেকর্ড করলেন রোনাল্ডোও। ২০০৬-এ বিশ্বকাপে অভিষেক হয় রোনাল্ডোর। ১৭ নম্বর জার্সি পরে অ্যাঙ্গোলার বিরুদ্ধে প্রথম মাঠে নামেন তিনি। ৬০ মিনিট পর তুলে নেওয়া হয়। পরের ম্যাচে ইরানের বিরুদ্ধে গোল করেন, যা বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম গোল। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাঁকে নামানো হয়নি। প্রি-কোয়ার্টারে নেদারল্যান্ডস ম্যাচে তাঁকে কিছু ক্ষণ পর তুলে নেওয়া হয়। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ ০-০ ড্র থাকার পর শুটআউটে রোনাল্ডোর গোলে সেমিফাইনালে ওঠে পর্তুগাল। তবে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়। লিয়োনেল মেসিও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। তবে ২০১০-এ তিনি গোল করতে পারেননি। সোমবার রাতেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন মেসি। তার পর দিন বিশ্বরেকর্ড করলেন রোনাল্ডোও। ২০০৬-এ বিশ্বকাপে অভিষেক হয় রোনাল্ডোর। ১৭ নম্বর জার্সি পরে অ্যাঙ্গোলার বিরুদ্ধে প্রথম মাঠে নামেন তিনি। ৬০ মিনিট পর তুলে নেওয়া হয়। পরের ম্যাচে ইরানের বিরুদ্ধে গোল করেন, যা বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম গোল। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাঁকে নামানো হয়নি। প্রি-কোয়ার্টারে নেদারল্যান্ডস ম্যাচে তাঁকে কিছু ক্ষণ পর তুলে নেওয়া হয়। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ ০-০ ড্র থাকার পর শুটআউটে রোনাল্ডোর গোলে সেমিফাইনালে ওঠে পর্তুগাল। তবে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়। ২০১০-এ রোনাল্ডো অনেক পরিণত হয়ে নেমেছিলেন। বালঁ দ্যর এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ফেলেছিলেন। লুই ফিগোর থেকে সাত নম্বর জার্সিও পেয়েছিলেন। উত্তর কোরিয়া ম্যাচে রোনাল্ডো একটি গোল করেন। পরের রাউন্ডেই ছিটকে যায় পর্তুগাল। ২০১৪-য় রোনাল্ডোর হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করে পর্তুগাল। তবে বিশ্বকাপের আগেই চোট পান রোনাল্ডো। তাই সেরা ছন্দে পাওয়া যায়নি তাঁকে। ফলে প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ০-৪ হারে পর্তুগাল। ঘানার বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচে গোল করেন রোনাল্ডো। তবে দেশ গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। ২০১৮ রোনাল্ডোর কাছে স্মরণীয়। স্পেনের বিরুদ্ধে গ্রুপের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। মরক্কোর বিরুদ্ধে একটি গোল করেন। ২০২২-এ মাত্র একটি গোল করেন রোনাল্ডো। সেটি আসে ঘানার বিরুদ্ধে গ্রুপের ম্যাচে। প্রথম ম্যাচে তাঁর খেলা দেখে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল যে প্রথম একাদশে রাখা হবে কি না। দ্বিতীয় ম্যাচে সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। উজ়বেকিস্তানের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করলেন পর্তুগালের হয়ে। তার পরেই তাঁর বার্তা, ‘আমি ফিরে এসেছি’। সাংবাদিক বৈঠকে লিয়োনেল মেসিকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই এড়ালেন রোনাল্ডো। কঙ্গো ম্যাচে খারাপ খেলার পর তাঁকে কতটা কঠিন সময় কাটাতে হয়েছে তা উঠে এসেছে রোনাল্ডোর কথায়। তিনি বলেছেন, “খুব কঠিন, অন্ধকার একটা সপ্তাহ ছিল। মনে হচ্ছিল আমি যেন ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমি নিজেকে শক্ত রেখেছিলাম। কারণ আমি সব কিছুর থেকে কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাস করি। আমি জানতাম সতীর্থেরা আমাকে অনেক সাহায্য করবে। কঠিন সময় ছিল স্বীকার করতেই হবে। কিন্তু আমরা ফিরে এসেছি। আমি খুব খুশি।” ছ’টি বিশ্বকাপে গোল করে বিশ্বরেকর্ড করেছেন রোনাল্ডো। তাঁর কেরিয়ারে আরও একটি মাইলফলক। তবে সে সব নিয়ে ভাবছেনই না রোনাল্ডো। বলেছেন, “রেকর্ড ভাঙতে সব সময়েই ভাল লাগে। কিন্তু আমার গোলে দল নিজের লক্ষ্য ছুঁতে পেরেছে। দলের কঠোর পরিশ্রম এবং নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াই আসল লক্ষ্য ছিল।” কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মেসির আর্জেন্টিনার সঙ্গে। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই রোনাল্ডো বলেন, “জানি না এর কী উত্তর দেব। এই ধরনের প্রশ্নের কোনও অর্থ নেই। তবে সেরা মানের খেলা হতে চলেছে।” আরও একটি প্রশ্ন আসতে রোনাল্ডো বলেন, “পরের প্রশ্ন করুন।” এর পর মেসির হ্যাটট্রিক এবং কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। রোনাল্ডো উত্তর দেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles