Thursday, June 18, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বকাপে আটকে গেল পর্তুগাল!‌ ক্রোয়েশিয়ার হার ইংল্যান্তের কাছে!‌ রোনাল্ডোদের উপস্থিতিতেও ম্যাচের দখল পেল না!‌ জোড়া গোল হ্যারি কেনের

পর্তুগাল: ১ (জোয়াও নেভেস) ইংল্যান্ড ৪ (কেন ২, বেলিংহ্যাম, রাশফোর্ড)
ডিআর কঙ্গো: ১ (ইয়োআন উইজা) ক্রোয়েশিয়া ২ (বাতুরিনা, মুসা)

RK NEWZ বয়স্কতম ফুটবলার হিসাবে নজির গড়ে এদিন বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেন রোনাল্ডো। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে গোলের চেষ্টায় প্রাণপাত করতে দেখা গেল তাঁকে। অধিনায়ক সিআর সেভেনের নেতৃত্বে প্রথম থেকেই ঝোড়ো গতিতে এগোতে শুরু করল পর্তুগালের গোটা স্কোয়াড। মাত্র ৬ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের অনবদ্য হেডারে এগিয়ে গেল রোনাল্ডোর দল। মাঠজুড়ে লাল জার্সিধারীদের দাপটে তখন যেন অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে ডিআর কঙ্গো। গোলের ব্যবধান যখন আরও বাড়ানোর দিকে মন দিচ্ছেন ব্রুনো ফার্নান্ডেজরা, সেসময়ে খানিকটা নিঃশব্দেই ঘুরে দাঁড়াল আফ্রিকার দেশটি। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে কঙ্গো। প্রথম ম্যাচেই পর্তুগালের মতো হেভিওয়েট প্রতিপক্ষ। কিন্তু স্যামুয়েল মুথুস্বামীরা খেলতে নেমেছিলেন কার্যত বিনা প্রস্তুতিতে। দেশে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ২১ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে বন্দি ছিলেন ফুটবলাররা। প্রস্তুতির যাবতীয় বন্দোবস্ত বানচাল হয়ে যায়। তবুও একবুক সাহসকে সম্বল করে কঙ্গো নেমে পড়েছিল অন্যতম ফেভারিট দলের বিরুদ্ধে। প্রথম ১৫ মিনিট পর্তুগিজ ঝড় সামলে নিয়ে রক্ষণ আঁটসাট করার দিকে মন দেন স্টিভ কাপাউদিরা। সেখান থেকেই পর্তুগালের হতাশার শুরু। একের পর এক অনবদ্য আক্রমণ করেছেন ভিতিনহা-নেতোরা। কিন্তু কঙ্গোর রক্ষণে আটকে গিয়েছেন বারবার। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগেই কঙ্গোর ম্যাজিক মোমেন্ট। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে লাফিয়ে উঠে মাথা ছোঁয়ালেন ইয়োআন উইজা। বিশ্বকাপে প্রথম গোল কঙ্গোর। লেখা হল ইতিহাস। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও ঠিক একইরকম তেড়েফুঁড়ে আক্রমণের পথে হাঁটে পর্তুগাল। কনসিসেওকে নামিয়ে বাজিমাত করতে চেয়েছিলেন রোনাল্ডোদের হেডস্যর রবার্তো মার্তিনেজ। কিন্তু বাইসাইকেল কিকে তাঁর অনবদ্য গোল বাতিল হল অফসাইডের কারণে। ৬৫ মিনিটের পর গোল পেতে রোনাল্ডো আরও মরিয়া হয়ে চেষ্টা করলেন। কিন্তু গোল লক্ষ্য করে শটটুকুও এল না তাঁর পা থেকে। রক্ষণ মজবুত করে বেশ কয়েকবার আক্রমণ শানিয়েছিল কঙ্গোও। গোল অধরা থেকেছে তাদেরও। তবে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই নতুন ইতিহাস লিখে ফেলল কঙ্গোও। বিশ্বকাপে এটাই যে তাদের প্রথম পয়েন্ট! মানচিত্রে স্পেন আর পর্তুগালের অবস্থান একেবারে পাশাপাশি। প্রতিবেশী দুই দেশ যে বিশ্বকাপের শুরুতে একেবারে একইরকমভাবে ধাক্কা খাবে, সেটা বোধহয় কল্পনাই করতে পারেনি কেউ। কয়েকদিন আগে পুঁচকে কেপ ভার্দের কাছে আটকে গিয়েছিল ইউরোপসেরা স্পেন। এবার ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ধারেভারে এগিয়ে থেকেও জয় অধরা পর্তুগালের। ম্যাচের প্রায় পুরো সময়টা বলের দখল ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের পায়ে। কিন্তু ম্যাচের দখল পেল না পর্তুগাল।

আট বছর আগে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের। বুধবার রাতে ডালাসে ক্রোয়েশিয়াকে চার গোল মেরে ইংল্যান্ড বুঝিয়ে দিল, এ বার তাদের হালকা ভাবে নিলে ভুগতে হবে। আট বছর আগে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের। বুধবার রাতে ডালাসে সেই ক্রোয়েশিয়াকেই চার গোল মেরে ইংল্যান্ড বুঝিয়ে দিল, এ বার তাদের হালকা ভাবে নিলে ভুগতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড যে ফুটবল খেলেছে তা রোজ দেখা গেলে বিপক্ষ দলগুলির কপালে দুঃখ আছে। তরুণ দল নিয়েও ক্রোয়েশিয়ার কপালে হারই জুটল। রক্ষণ ডোবাল তাদের। চলতি বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বাদে মোটামুটি সব বড় তারকা ফুটবলারই গোল করেছেন। চোখ ছিল হ্যারি কেনের দিকেও। হতাশ করলেন না ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মরসুমটা ভাল গিয়েছে তাঁর। দেশের জার্সিতেও এই ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখলেন। দু’টি গোল এল তাঁর থেকে। একটি করে গোল জুড বেলিংহ্যাম এবং মার্কাস রাশফোর্ডের। ডালাসে প্রথমার্ধেই হয় চার গোল। দু’বার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের আগ্রাসী ফুটবলের সামনে দাঁড়াতে পারেনি তারা। আট মিনিটের মাথায় লুকা মদ্রিচ বক্সে ফাউল করেন নোনি মাদুয়েকেকে। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। কেনের প্রয়াস ক্রোয়েশিয়া গোলকিপার ডোমিনিক লিভাকোভিচ বাঁচিয়েও দেন। তবে সেই প্রয়াস বাতিল হয়ে যায়। কারণ কেন শট মারার আগেই লিভাকোভিচ গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। দ্বিতীয় প্রয়াসে কেন গোল করতে ভুল করেননি।

ইংল্যান্ডের দাপট ক্রমশ বাড়তে থাকে। বলের নিয়ন্ত্রণ থেকে গোল লক্ষ্য করে শট, সবেতেই তারা এগিয়ে ছিল। কিন্তু ক্রোয়েশিয়াও ছেড়ে কথা বলছিল না। থেকে থেকে আক্রমণে উঠছিল তারা। সেই আক্রমণ থেকেই দুরন্ত শটে গোল করেন মার্তিন বাতুরিনা। প্রথমে পেতার সুসিচ ধোঁকা দিয়ে মাটি ধরিয়েছিলেন জন স্টোনসকে। তাঁর নিখুঁত পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে মারা জোরালো শটে গোল করেন বাতুরিনা। পাঁচ মিনিট পরে দ্বিতীয় গোল করেন কেন। ডেক্লান রাইসের কর্নার থেকে হেডে বল জালে জড়ান। এ ক্ষেত্রেও ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণ দায়ী। কেন এমনিতেই এরিয়াল বলে শক্তিশালী। হেডও করেন দুর্দান্ত। তা হলে তাঁকে কর্নারের সময় ফাঁকা রেখে দেওয়া হল কেন ? ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে ১০টি গোল করে ফেললেন কেন। যুগ্ম ভাবে শীর্ষে গ্যারি লিনেকারের সঙ্গে। এ বার সমতা ফেরাতে সময় নেয়নি ক্রোয়েশিয়া। চার মিনিট পরে ইভান পেরিসিচের পাস থেকে গোল করেন পেতার মুসা। দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি পাল্টে যায় ইংল্যান্ডের খেলা। যে ইংল্যান্ড প্রথমার্ধে কিছুটা সতর্ক হয়ে খেলছিল, দ্বিতীয়ার্ধে তারাই আক্রমণের ঝড় বইয়ে দেয় ক্রোয়েশিয়ার অর্ধে। বিরতির দু’মিনিট পরে গোল করেন বেলিংহ্যাম। ডান প্রান্তে বল পেয়ে একাই টেনে নিয়ে গিয়ে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করেন তিনি। ইংল্যান্ডের ওই আগ্রাসনের সামনে দিশা খুঁজে পায়নি ক্রোয়েশিয়া। তারা ক্রমশ কুঁকড়ে যেতে থাকে। আরও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। কাজে লাগাতে পারলে ব্যবধান বাড়ত। মদ্রিচ একেবারেই নিষ্প্রভ। তাঁকে বাধ্য হয়ে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি তুলে নিতে হল। বুধবারের প্রথম ম্যাচে বিশ্ব দেখেছে কী ভাবে ৪১ বছরের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নিষ্প্রভ থেকেছেন। পরের ম্যাচে ৪০-এর মদ্রিচেরও একই অবস্থা হল। বয়স ছুঁয়েছে তাঁর খেলাকেও। আগের মতো দৌড়তে বা প্রতিপক্ষকে আটকাতে পারছেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles