RK NEWZ “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৩২১টা খুনের আসামি!” এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন অর্জুন সিং। গতকাল, সোমবারই শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অর্জুন সিং। নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন কোন মন্ত্রিত্ব পাবেন, সেই নিয়ে চর্চা চলছে। সেই আবহেই এবার অভিষেককে নিয়ে কড়া মন্তব্য করলেন অর্জুন। মন্ত্রী হওয়ার পরে আজ, মঙ্গলবার জগদ্দলের মজদুর ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন অর্জুন সিং। তিনি এই মুহূর্তে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তৃণমূল কংগ্রেসের মুষলপর্ব নিয়েও জোর চর্চা চলছে। এদিন সেই বিষয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূল রাজনৈতিক দল হিসেবে আর বেশিদিন টিকবে না। তাঁর কথায়, “পাস্ট ইজ পাস্ট।” তাঁর দাবি, যে দল পুরোপুরি সরকারি দলে পরিণত হয়, তারা প্রকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকতে পারে না। সেই সূত্রেই তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। অর্জুনের কটাক্ষ, “বিজেপি যদি সত্যিই দরজা খুলে দেয়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া তৃণমূলে আর কেউ থাকবে না।” অভিষেককে বিজেপি নেবে না, সেই কথাও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অর্জুন। সেই বিষয়ে অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, তৃণমূল আমলে বহু অত্যাচার হয়েছে, বহু খুন হয়েছে! “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৩২১টা খুনের আসামি!” সেই মারাত্মক অভিযোগও এদিন করেছেন তিনি। যদিও আইনের শাসনে অভিষেকও ছাড় পাবে না। সেই কথাও বলতে ভোলেননি শুভেন্দুর ক্যাবিনেটের মুখ। তিনি কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন? সেই বিষয়ে তেমন কোনও ইঙ্গিত এদিন অর্জুন দেননি। তাঁর বক্তব্য, “রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে সব দায়িত্বই সমান।” একই সঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে, কালীঘাটে না গিয়ে রথীন ঘোষের বাড়িতেই ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠক! তৃণমূলের অন্দরে চলা টানাপোড়েনের আবহে এবার চর্চার কেন্দ্রে মধ্যমগ্রামের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষ। দলীয় সূত্রের দাবি, রবিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে তাঁকে দেখা যায়নি। একই দিনে তাঁর মধ্যমগ্রামের বাড়িতে কয়েকজন বিধায়কের বৈঠক হয়েছিল বলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশে আলোচনা শুরু হয়েছে। অসমর্থিত সূত্রের দাবি, রবিবার রথীন ঘোষের মধ্যমগ্রামের বাড়িতে মোট ৯ জন তৃণমূল বিধায়কের একটি বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে সদ্য বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে মোট কতজন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন বা বৈঠকের প্রকৃতি কী ছিল, তার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, মঙ্গলবার কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতেও রথীন ঘোষকে দেখা যায়নি বলেই দলীয় একাংশের দাবি। ফলে কালীঘাটের বৈঠকে তাঁকে না দেখা যাওয়া এবং একই দিনে মধ্যমগ্রামের কথিত বৈঠকের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসতে শুরু করেছে। যদিও বৈঠকের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন রথীন ঘোষ। তিনি শুধু জানিয়েছেন, শরীরের খোঁজ খবর নিতে এসেছিলেন। এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার বিধানসভায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুধু পেশাদারী কারণেই নয়, সকলের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। কেন আমি মিথ্যে কথা বলতে যাব? রথীন ঘোষের বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে দু’একজন বিধায়কও ছিলেন।” দু’জনের এই মন্তব্যের পর মধ্যমগ্রামের বৈঠক নিয়ে চলা জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। ঋতব্রত দাবি করেন, চিঠি নিয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। গল্পের গরু তো গাছে তুলতে পারবেন না! এদিন সকালে তাপস রায়ের একটি পোস্ট নতুন তৃণমূলের জল্পনা উসকে দিয়েছিল। তা নিয়ে ঋতব্রত বলেন, “উনি কী পোস্ট করেছেন উনি বলতে পারবেন। তবে আমি নাকি দক্ষিণ কলকাতার হোটেলে বৈঠকে একাধিক বিধায়কের সঙ্গে বসেছি বলে শোনা যাচ্ছে। আমি বলব, আমার টাওয়ার লোকেশন দেখুক। আমি কোথায় ছিলাম।” যদিও রথীন ঘোষ, শিউলি সাহার সঙ্গে দেখা করার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।
বুধেই বিধানসভায় ‘মিশন ঋতব্রত’, আত্মপ্রকাশ করছে ‘নতুন তৃণমূল’! আত্মপ্রকাশ করবে ‘নতুন তৃণমূল’! বিধানসভায় শক্তি দেখিয়ে চিঠি দেবেন তৃণমূলের সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়! ৫৩-৫৪ জন বিধায়ক সঙ্গে থাকলেই রাজ্যে ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশ করতে পারে। রাজ্যের বিরোধী দল হিসেবে তকমাও পেতে পারেন! জোড়া ফুল প্রতীকও চলে আসতে পারে তাঁদের কাছে? সেই জল্পনা চলছে বঙ্গ রাজনীতিতে। আগামী কালই কি বঙ্গে তৃণমূলের মুষলপর্বে নতুন চিত্রনাট্য দেখা যাবে? সেই জল্পনা আরও বাড়ছে বঙ্গ রাজনীতিতে। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হতে চলেছে নতুন তৃণমূল! জোড়া ফুল প্রতীক হাতছাড়া হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই জল্পনাও তুঙ্গে রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙন তীব্র হয়েছে। এবার বড় সংখ্যায় বিধায়ক, সাংসদ দল ছাড়ছেন! সেই জল্পনা ক্রমে বাড়ছে। ৫০ জন বিক্ষুদ্ধ তৃণমূলের বিধায়কের সই সম্বলিত চিঠি জমা দিতে চলেছেন তিনি। তবে এদিন তেমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। বিধানসভা থেকে বেরনোর সময় ঋতব্রত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। বিকেলে বিধানসভা থেকে বেরিয়ে চিঠি নিয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করলেন ঋতব্রত। জানালেন, ব্যক্তিগত কাজে তিনি বিধানসভায় ছিলেন। তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করার কথাও শোনা গিয়েছিল গতকাল, সোমবার। যদিও সেই বৈঠকের কথাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বুধবারই ‘নতুন তৃণমূল’ সংক্রান্ত চিঠি বিধানসভায় জমা দিতে চলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, ৫৩-৫৪ জন তৃণমূল বিধায়কদের পাশেও পেয়ে গিয়েছেন তিনি! চিঠি জমা দেওয়ার সময় ‘বিদ্রোহী’রা সকলেই বিধানসভায় উপস্থিত থাকবেন। আগামী কাল, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক। সেখানে হাওড়ার সব তৃণমূল বিধায়ক যোগ দেবেন। জোর গলায় এদিন সেই দাবি করেছেন ঋতব্রত। সেই বৈঠকের পরেই ঋতব্রত বিধানসভায় উপস্থিত হবেন। তৃণমূলের বিধায়করাও সেখানে থাকবেন। বুধেই ‘নতুন তৃণমূল’ হিসেবে চিঠি জমা দেওয়া হচ্ছে! নতুন তৃণমূলের জল্পনা জিইয়ে রেখে এদিন ঋতব্রত বলেন, “আমি আজ-এ বিশ্বাসী, কাল কী হবে জানি না, বলতে পারব না।” ঋতব্রত পঞ্চাশের কিছু বেশি বিধায়কের সমর্থনে নতুন তৃণমূলের মালিকানা দাবি করতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, শুধু ৫০ বিধায়কের সমর্থনই কি পরিষদীয় দলে ভাঙনের জন্য যথেষ্ট? ওই বিধায়কদের সমর্থনে বলিয়ান হয়ে ঋতব্রত কি নিজেকে তৃণমূলের আসল ‘মালিক’ বলে দাবি করতে পারেন? দলের প্রতীক এবং যাবতীয় সম্পত্তির অধিকারী হিসাবে নিজেকে পেশ করতে পারেন? সেই চর্চাও শুরু হয়েছে।





