RK NEWZ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অপরাধ সীমাহীন। সিপিএম বরাবর অভিযোগ করে এসেছে—মমতার সবটাই ভুয়া। জ্যোতিবাবু বলতেন—‘অসভ্য মহিলা’, ‘ফোর টুয়েন্টি’ ইত্যাদি। শনিবার একজন শিল্পী দাবি করেছেন, প্রয়াত অজিত পাঁজার অনুরোধে তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ লোগোটি তিনি বিনা পারিশ্রমিকে এঁকে দিয়েছিলেন। সেই শিল্পীর অভিযোগ, তৃণমূলের আত্মপ্রকাশের দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটি তাঁর আঁকা বলে দাবি করে বসেন। একদিকে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির চরিত্রের বদল ঘটিয়েছেন বাম-কংগ্রেসের মতো দুটি ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে পরিকল্পিতভাবে নিকেশ করতে চেয়ে। যা শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের জন্য রাজনৈতিক হারাকিরি হয়ে উঠল। আর একদিকে, পার্টি ও প্রশাসনকে করে তোলেন দুর্নীতির কাঠামো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অপরাধ সীমাহীন। একদিকে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির চরিত্রের বদল ঘটিয়েছেন বাম-কংগ্রেসের মতো দুটি ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে পরিকল্পিতভাবে নিকেশ করতে চেয়ে। যা শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের জন্য রাজনৈতিক হারাকিরি হয়ে উঠল। আর একদিকে, পার্টি ও প্রশাসনকে করে তোলেন দুর্নীতির কাঠামো। ‘প্রকৃতির মার’ কথাটির রূপক ব্যবহার রাজনীতিতেই সহচেয়ে ভাল টের পাওয়া যায়। যেমন বাংলার এবারের নির্বাচন এবং ভোট পরবর্তী ঘটনাবলী। প্রকৃতির নিয়মেই ব্যালট বাক্সে প্রত্যাখ্যানের পর নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। অভাবনীয় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৮৪-র লোকসভা নির্বাচনে প্রবল ইন্দিরা হাওয়ায় সিপিএমের ব্যারিস্টার প্রার্থী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে রাজনীতিতে চমকপ্রদ আবির্ভাব ঘটেছিল যাঁর সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৬-এ বিপর্যস্ত হলেন প্রবল মমতা বিরোধী হাওয়ায়। সম্পদ থেকে তিনি হয়ে উঠলেন বোঝা। দলকে ক্ষমতায় ফেরাতে না পারা এবং ভবানীপুরে তাঁর নিজের পরাজয় একটি রাজনৈতিক আত্মহত্যাই বটে। কারণ, পরিবর্তনের ঘূর্ণিঝড়ের নিম্নচাপটি তাঁরই সৃষ্টি। যে কারণে এবারের নির্বাচনে পদ্ধতিগত নানা ইস্যু অমীমাংসিত থাকা সত্ত্বেও তা জনমনে দাগ কাটেনি। মানুষ আসলে তৃণমূলের অনাচার, নৈরাজ্য থেকে মুক্তি চেয়েছিল। এমন নীতিহীন, দুর্নীতি সর্বস্ব পার্টির পরিণতি যা হওয়ার তাই হচ্ছে। তৃণমূল ত্যাগীদের একাংশ, বিশেষ করে রাজ্য ও জেলাস্তরের দুর্নীতিগ্রস্থ, ক্ষমতালোভী নেতা, সাংসদ, বিধায়ক ধীরে ধীরে বিজেপিতে পা বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। পদ্ম শিবিরের চাপ থাকাও অসম্ভব নয়। এলাকায় নানা অপকর্মে জড়িত আর একদল আপাতত ভয়ে এলাকা ছাড়লেও বছর শেষের পুরভোট এবং ২০২৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বিজেপির ঝাণ্ডা ধরার চেষ্টা করবেন। ৪ মে, বেলা ১২’টার পর ততদিনে অনেকটা সময় পেরিয়ে যাবে। বিজেপি ততদিন দরজা বন্ধ রাখবে বলে মনে হয় না। অর্থাৎ চিত্রনাট্যে অপরিবর্তিত থাকবে বলেই আভাস মিলতে শুরু করেছে। মঞ্চ, পরিচালক, অভিনেতা, মেকআপম্যানেরাও শুধু বদলে যাবেন। নতুন শহরে বাড়ি খোঁজার মতো তৃণমূলের অনেকে এখনই শেল্টার খুঁজতে ব্যস্ত। বঙ্গ রাজনীতিতে দলবদল আর শেল্টারের এই সংস্কৃতিও তৃণমূল শাসনের অবদান। তাতে যোগ্য সঙ্গত করেছে বিজেপিও।
সব মিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি ভারতের রাজনীতিতে এর আগে তা সামলেছেন ইন্দিরা গান্ধী। জরুরি অবস্থার দিনগুলি থেকে শুরু করে ১৯৭৭-এর লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে হাতে গোনা কতিপয় নেতা ছাড়া কংগ্রেস ত্যাগের হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি সামলে তিন বছরের মাথায় ফিনিক্স পাখির মতো রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরে এসেছিলেন ইন্দিরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কেও শেষ কথা বলে দেওয়া যায় না। রাজনীতির গতিমূখ নদীতে বাঁধ দিয়ে স্রোতের মুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো সহজ বিষয় নয়। ২০০৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের একমাত্র জয়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০১১-তে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া রাজনীতির সেই গতিমুখ যা সিপিএমের মতো সংগঠনভিত্তিক দল আটকাতে পারেনি। কারণ, মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল। রাজনীতিতে এই গণ-ভাবনা অনেকটা পোশাকের জনপ্রিয় ডিজাইনের মতো। মানুষ ডিজাইনটিই বিবেচনা করে। কাপড়ের কোয়ালিটি নিয়ে ভাবে না। তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনা মানুষ মাস কয়েক পরই বুঝতে পেরেছিল, বড় ভুল হয়ে গেছে। তাই মানুষকে ভুল শোধরানোর সুযোগ না দিতেই বাম ও কংগ্রেসকে সচেতনভাবে নিকেশ করার পরিকল্পনা জারি রাখেন তৃণমূল নেত্রী। প্রকৃতির নিয়মেই বর্তমান সরকারও ভুল-ত্রুটি করবে। বিরোধী দলের কাজ সরকারের দুর্বলতা, মন্দ বিষয়গুলিকে হাতিয়ার করে নিজেদের পায়ের তলায় মাটি শক্ত করা। তৃণমূল এই ব্যাপারে কতটা কী করতে পারবে বছর খানেকের মধ্যেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। দল অটুট রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী কৌশল নেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মার খাওয়ার ঝুঁকি সত্ত্বেও ফের আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ান কি না সে সবও দেখার আছে। এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতেও যে ৪০ শতাংশ মানুষ তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন মমতা-অভিষেকের উপর তাদের আস্থা-ভরসা কতটা টিকে থাকে, অন্তত ২০২৮-এর পঞ্চায়েত ভোটের আগে সে ব্যাপারে স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। যদিনা সেই নির্বাচনে ২০১৮-এর পুনরাবৃত্তি ঘটে তাহলে অবশ্যই বোঝা যাবে দুধ কা দুধ পানি কা পানি। বাংলার মানুষ কিন্তু চেয়ে আছে বামপন্থীদের দিকেও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩৪ বছরের বাম শাসনের ইমারত ভেঙে ক্ষমতায় আসেন। সিপিএম বরাবর অভিযোগ করে এসেছে—মমতার সবটাই ভুয়া। জ্যোতিবাবু বলতেন—‘অসভ্য মহিলা’, ‘ফোর টুয়েন্টি’ ইত্যাদি। শনিবার একজন শিল্পী দাবি করেছেন, প্রয়াত অজিত পাঁজার অনুরোধে তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ লোগোটি তিনি বিনা পারিশ্রমিকে এঁকে দিয়েছিলেন। সেই শিল্পীর অভিযোগ, তৃণমূলের আত্মপ্রকাশের দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটি তাঁর আঁকা বলে দাবি করে বসেন।
তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ অভ্রান্ত। মিথ্যে নয় ব্ল্যাক মেইলিংয়ের অভিযোগও। বাংলার মসনদে বসতে তাঁর কংগ্রেসকে প্রয়োজন ছিল। ক্ষমতা দখলের পর পুরনো দলকে ছুঁড়ে ফেলতে কালক্ষেপ করেননি। বিজেপি এবারও যদি বাংলায় ক্ষমতায় আসতে না পারত তাহলেও জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলকে তারা অন্যভাবে পাশে পেত। অভিজ্ঞতা বলে, বাংলায় টিকে গেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবচেয়ে আগে ইন্ডিয়া জোটে কংগ্রেস বিরোধী উপ-জোট তৈরির চেষ্টা করতেন। কংগ্রেসের প্রশ্নে তাঁর ও বিজেপির রাজনৈতিক লক্ষ্য অভিন্ন। তারপরও রাজনীতির বাস্তবতা মেনে তৃণমূলের দুর্দিনে রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইন্ডিয়া জোটের শরিকেরা তৃণমূলের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। প্রশ্ন হল তৃণমূল অটুট থাকবে কি না।
তৃণমূলের এই দুর্দিন আসলে বামপন্থীদের সামনে যেমন নতুন সুযোগ, একই সঙ্গে তা নয়া চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের আগে তারা তৃণমূল ও বিজেপি, উভয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বললেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অবসান ছিল প্রত্যাশার অগ্রাধিকার। নির্বাচনের পর মূল লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে। সেটা তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইয়ের তুলনায় কঠিন বলেই আমার মনে হয়। তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির আদর্শিক বিরোধী নেই বললেই চলে। তার উপর তৃণমূল মূলত বাংলার দল। অন্যদিকে, বামপন্থীদের সঙ্গে বিজেপি ও আরএসএসের লড়াই আদর্শিক এবং তা একটি কোনও রাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিজেপি ও আরএসএসের কাছে বামপন্থী, বিশেষ করে কমিউনিস্টরা অনেক বড় প্রতিপক্ষ। বিরোধী পরিসরে তৃণমূলের শূন্যস্থান বামপন্থীদের দখল করতে হলে তাই তাদেরও নতুন করে ভাবতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শত অপরাধ, বদ গুণ সত্ত্বেও রাজনীতিতে তাঁর নির্মাণের গোড়াকার দু-দশকের লড়াই-সংগ্রাম থেকে সব দলেরই শেখার আছে। কংগ্রেসের মতো একটি সর্ব ভারতীয় দলে থেকে সিপিএমের সংগঠন ভিত্তিক দল ও তাদের সরকারের বিরুদ্ধে মমতার লড়াইয়ের পিছনে ছিল লক্ষ্যে অবিচল থেকে দিনের পর দিন ময়দানে থাকার জেদ, যা তাঁকে বঞ্চিত মানুষের কাছে ‘আমাদের লোক’ করে তুলেছিল।
রাজনীতির সেই দিনগুলিতে ঘরে-বাইরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই ছিল রাজনীতির পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধেও। প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি, সোমেন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো রাজনীতির পোড়খাওয়া নেতাদের শিখরে পৌঁছতে না পারার পিছনে ছিল মমতার মতো কেউ সেভাবে কর্মী-সমর্থকদের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়াননি। সিপিএমের সংগঠনভিত্তিক কাঠামোর সমান্তরালে মমতার এই জনসংযোগ ভিত্তিক রাজনীতি ছিল একদা বামপন্থীদেরই তৈরি সরণি। দেড় দশক আগে ক্ষমতাচ্যুত সিপিএম এখনও জনবিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে জনসংযোগের সেই সরণিতে ফিরতে পারেনি। এবারের নির্বাচনেও তাই বিধানসভায় শূন্যের ফারা দূর হলেও ভোট ফেরেনি। বরং সামান্য কমেছে। ফলতায় সিপিএমের দ্বিতীয় হওয়ার কারণ বুঝতে কোনও রকেট সায়েন্স জানার প্রয়োজন পড়ে না। তৃণমূলের দুর্দিনে মুসলিম সমাজ ফের সিপিএমকে শেল্টার করল। কিন্তু সিপিএম যদি ধর্মনির্বিশেষে গরিব মানুষের ভোট ফেরাতে চায় তাহলে সেই শ্রেণিকেই দলের মুখ করে তোলা দরকার। দরকার পার্টি ও গণসংগঠনে পুরুষ নির্ভর নেতৃত্বের অবসান।নথিপত্রে যাই লেখা থাক সিপিএম একটি সাধারণ বাম দল। অথচ রাজনীতির বিএ-এমএ-পিএইচডি না করা থাকলে এই দলে নেতা হওয়া এভারেস্ট জয়ের মতো কঠিন। নারী ও প্রান্তিক মানুষ আজও এই দলে ব্রাত্য। বদলাতে চাইলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির গোড়াকার দিনগুলি থেকে সিপিএম শিক্ষা নিতে পারে।
দুটি ঘটনার উল্লেখ। ২০০৬-এ সাচার কমিটির রিপোর্ট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিল বাম শাসিত বাংলায় মুসলিমরা আর্থ-সামাজিকভাবে সবচেয়ে পিছিয়ে। ২০০৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে স্পষ্ট হয়েছিল গ্রামবাংলার গরিব মানুষ সিপিএমের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সেই নির্বাচনের আগে বাম জমানার প্রয়াত মন্ত্রী রেজ্জাক মোল্লা একদিন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে এসে বললেন, ‘আজ মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। মনোনয়ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখলাম, সিপিএমের পঞ্চায়েত প্রার্থীদের সব ঝাঁ চকচকে চেহারা। অনেকেই নতুন জামা-জুতো পরে এসেছে। আর তৃণমূলের প্রার্থীদের দেখলাম, মলিন জামা-কাপড়, পায়ে সাধারণ চটি। আমরা যে রাজনীতির কথা বলি তাতে তো উল্টোটাই হওয়ার কথা ছিল।’ দ্বিতীয় ঘটনা একেবারে হালের। রাজ্যের নানা জায়গায় হকার উচ্ছেদ অভিযান আটকাতে ময়দানে নেমেছে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু। শনিবার বেশি রাতে দমদম স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযানেও তারাই প্রতিবাদ জানিয়েছে। অবাক হচ্ছি ইতিপূর্বে শিয়ালদহ এবং দমদম-সহ অন্যত্র সিটুর যে নেত্রী সাহস করে অভিযানের বিরুদ্ধে লড়ছেন, বাকিদের উৎসাহ দিচ্ছেন, নেতাদের সাংবাদিক সম্মেলনের সময় তিনিও বাকিদের মতো স্রোতা। পার্টি ও গণসংগঠনে এই আমলাতন্ত্র বহাল রেখে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন। সিপিএম বিপ্লব করলে এসব নিয়ম-শৃঙ্খলার হয়তো প্রয়োজন থাকত। এই আমলাতন্ত্র সংসদীয় রাজনীতিতে অচল। তৃণমূলের দুর্দিনে সিপিএমকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সবচেয়ে আগে তাদেরই বদলাতে হবে।





