RK NEWZ ৩১ মে পঙ্কজ রায়ের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী। রবিবার বিকেল পাঁচটায় প্রয়াত ক্রিকেটারের জন্মদিন পালনের আয়োজন করেছিল সিএবি। যদিও সিএবি নির্ধারিত সময়ে ইডেন গার্ডেন্সের ক্লাব হাউসের নীচের তলায় হাজির হওয়া সকলে হতবাক হয়ে যান প্রণব রায়কে না দেখে। পরে জানা যায়, প্রণব রায়কে আমন্ত্রণ জানাতেই ভুলে গিয়েছে সিএবি! এমনিতে সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস ও সচিব বাবলু কোলে আইপিএল ফাইনাল দেখতে রবিবার সকালে আমদাবাদ উড়ে গিয়েছেন। সিএবি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন দত্তও (অনু) পৌঁছতে পারেননি। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর যাঁরা হাজির হয়েছিলেন, তাঁরাই বাংলার কিংবদন্তিকে স্মরণ করেন। মাল্যদান করা হয়। পদাধিকারী বলতে হাজির ছিলেন যুগ্মসচিব মদন ঘোষ। যিনি ৭০ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের চেয়ারে বসে রয়েছেন। উদাসীনতার আরও এক বিশ্রী ছবিও দেখা গেল। শনিবার জগমোহন ডালমিয়ার জন্মদিন পালনে তৈরি মঞ্চে যে ফুল ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই বাসি ফুলের সাজেই পালিত হল পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন। অনেক ফুলই ঝিমিয়ে, নেতিয়ে পড়েছে। যা দেখে ময়দানে নিন্দের ঝড়। প্রশ্ন উঠছে, যে সিএবি ৫০ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে আইপিএলে লেজার শো করতে পারে, সেই সংস্থা প্রাক্তন এক তারকার জন্মদিন পালনের জন্য সামান্য কিছু টাকার ফুল কেনার সদিচ্ছা দেখাল না?

তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় চরিত্র। ১৯৫১ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত দেশের হয়ে ৪৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। ৫টি সেঞ্চুরি করেছেন। বিনু মাঁকড়ের সঙ্গে তাঁর ৪১৩ রানের ওপেনিং জুটি ৫২ বছর ধরে বিশ্বরেকর্ড হিসাবে অটুট ছিল। সেই পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন পালনে দৈন্য আর উদাসীনতার ছবি সিএবি-তে। খোদ রাজ্য সংস্থাতেই মলিনভাবে পালিত হল পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন। ডাকাই হল না প্রয়াত পঙ্কজ রায়ের পুত্র প্রণব রায়কে! যাঁর আরও একটি পরিচয় রয়েছে। প্রণব রায় ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার। বাংলা ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক। এবং ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হিসাবে সিএবি-র অ্যাপেক্স কাউন্সিলেও রয়েছেন। বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক প্রণব রায় বলেন, ‘আমাকে সিএবি-র তরফে কেউ কিছু জানায়নি। বিকেল ৫.১৫ নাগাদ আমাকে ফোন করেছিলেন সিএবি-র যুগ্মসচিব মদন ঘোষ। জিজ্ঞেস করেন, কখন পৌঁছচ্ছি। আমি তো কিছু জানতামই না। সেটাই ওঁকে জানাই। গতবছরও এই দিনে অসম্মানিত হয়েছিলাম। বাবার জন্মদিন পালনে গিয়ে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছিল সিএবি-তে। কেন আমন্ত্রণ জানানো হল না প্রণব রায়কে? সিএবি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন দত্ত, যাঁর বয়স সত্তর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও পদে রয়েছে বলে সমালোচনার ঝড় বইছে ময়দানে, বললেন, ‘অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্যদের জন্য যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে, সেখানে মেসেজ করা হয়েছিল। আমার কাছে ফুচার (প্রণব রায়ের ডাকনাম) নম্বর নেই। ও মনে হয় রয়েছে ওই গ্রুপে। আমি ভেবেছিলাম হয়তো সেটা দেখেছে।’ কিন্তু প্রণব রায়কে তো প্রয়াত পঙ্কজ রায়ের ছেলে হিসাবে আলাদা আমন্ত্রণ জানানোর কথা? ঠিক যেভাবে শনিবার, ৩০ মে প্রয়াত ক্রিকেট প্রশাসক জগমোহন ডালমিয়ার জন্মবার্ষিকীতে ডাকা হয়েছিল পুত্র অভিষেক ডালমিয়া, কন্যা বৈশালী ডালমিয়া-সহ পরিবারের সকলকে। সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট বললেন, ‘সে তো একশোবার। আমি জানি না ঠিক কী হয়েছে।’





