RK NEWZ বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। একটি কর্মসূচিতে তাঁর করা ‘ভাল তৃণমূল’ মন্তব্য গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। দলের রাজ্য সভাপতির এই লাইনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই একমত হতে পারেননি রাজ্যের বর্তমান হেভিওয়েট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই দলবদল এবং ‘ভাল তৃণমূলীদের’ দলে নেওয়া প্রসঙ্গে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই দিলীপবাবু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত এই সমস্ত বিষয় নিয়ে মাথা না ঘামালেই দলের পক্ষে সবথেকে ভাল হবে। আজকের দিনে রাজনীতিতে দলবদল করাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলও গত কয়েক বছরে এই চেনা দলবদলের সংস্কৃতির সঙ্গে ভীষণভাবে পরিচিত। আর রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই দলবদল বা শিবির বদল নিয়ে যে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হবে না, তেমনটা ভাবাও ভুল। অতীতের দিকে তাকালে দেখা যাবে, বহু হেভিওয়েট নেতা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে তৃণমূল থেকে বিজেপি, আবার বিজেপি থেকে তৃণমূলে যাতায়াত করেছেন। আর বর্তমানের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দল থেকে শাসক দলে আসার তাগিদ যে অন্যান্য নেতাদের মধ্যে আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, সেটাই অত্যন্ত স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঠিক এই রকম একটি পরিস্থিতিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য ছিল, “তৃণমূলের কেউ যদি আমাদের দলে আসতে চায়, তবে তা নিয়ে দল অবশ্যই ভাবনাচিন্তা করবে। কিন্তু সেই কাজ এখনই হচ্ছে না। যারা এতদিন সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল, কয়লা কিংবা বালির মারাত্মক দুর্নীতিতে জড়িত ছিল, কিংবা যারা গরিব মানুষের চাকরি চুরির কারবারে লিপ্ত ছিল, তাদের জন্য ভারতীয় জনতা পার্টির দরজা কোনও অবস্থাতেই খোলা থাকবে না। তবে তৃণমূলের মধ্যে এখনও এমন বহু সৎ মানুষ আছেন, যারা অতীতেও ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতায় বা ভয়ের কারণে তাঁরা এতদিন মুখ খুলতে পারেননি। আবার কেউ কেউ প্রতিবাদী হয়ে মুখ খুলে দলেরই চরম বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। এই ধরণের মানুষরা যদি আমাদের দলের দরজায় কড়া নাড়েন, তবে তাঁদের নেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ভাবা রয়েছে।”
দলের রাজ্য সভাপতির এই উদারপন্থী মনোভাবের ঠিক উল্টো দিকে হেঁটে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শমীকের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে তাঁর পাল্টা বক্তব্য, “দলের রাজ্য সভাপতি ঠিক কোন পরিপ্রেক্ষিতে বা কেন এমন কথা বলেছেন, তা তিনিই ভাল বলতে পারবেন। তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, তৃণমূলের কোনও লোককেই এখন দলে না নেওয়াটাই সবথেকে ভাল সিদ্ধান্ত হবে। বিগত দিনে অনেক জায়গায় আমাদের দলের সাধারণ কর্মীদের দেখা যেত না। ভয়ের কারণে অনেকেই মনে মনে বিজেপিকে তীব্র সমর্থন করলেও, সরাসরি রাজপথে নেমে রাজনীতি করার সাহস পাননি। তাঁদের অমানুষিক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। আমাদের এখন প্রথম কাজ হল সেই সমস্ত সাধারণ এবং লড়াকু কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের দেখভাল করা। এখন যদি আমরা আবার বাইরে থেকে বিশেষ করে তৃণমূল থেকে লোক নিতে শুরু করি, তবে দলের ভিতর আবার সেই পুরনো ও একই রকম খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাই এখন ঘোলা জল কিছুটা থিতিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারপর শান্ত মাথায় সিদ্ধান্ত নিলে সবথেকে ভাল হয়।” বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই ‘ভাল তৃণমূল’ তত্ত্বকে হাতিয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একপ্রকার ট্রোলের বন্যা বয়ে চলেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই ভাইরাল বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই সব দলের অন্দরেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির যোগদানের লক গেট খোলার অপেক্ষায় এই মুহূর্তে অগুনতি ছোট-বড় তৃণমূলের স্তরের নেতৃত্ব উন্মুখ হয়ে বসে রয়েছেন। কিন্তু সেই জল্পনায় জল ঢেলে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের যে কড়া মনোভাব আজ প্রকাশ পেল, তাতে এখনই এই ধরণের বড়সড় কোনও দলবদল হচ্ছে না বলেই মনে করছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।





