রাজ্যে পালাবদলের পর আগামী মাস থেকেই কার্যকর হতে চলেছে অন্নপূর্ণা যোজনা। রাজ্যের মহিলাদের হাতে মাসিক তিন হাজার টাকা সরকারি সহায়তা তুলে দেওয়া হবে। রাজ্যে পালাবদলের পর আগামী মাস থেকেই কার্যকর হতে চলেছে অন্নপূর্ণা যোজনা। মহিলাদের হাতে মাসিক তিন হাজার টাকা সরকারি সহায়তা তুলে দেওয়া হবে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তারাই পাবেন এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা। কিন্তু একটা ছোট্ট সমস্যাতেই আটকে যেতে পারে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। উপভোক্তাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা যে অ্যাকাউন্টে ঢুকত, সেই অ্যাকাউন্টটি ডিবিটি করা না থাকলে অন্নপূর্ণা যোজনার সহায়তা মিলবে না। আপনার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অ্যাকাউন্টটি ডিবিটি করা রয়েছে কিনা, খুব সহজেই তা চেক করা যাবে। আপনার ফোন বা কম্পিউটার থেকে myaadhaar.uidai.gov.in ওয়েবসাইট খুলতে হবে। নিজের আধার নম্বর দিয়ে এবং ক্যাপচা দিলেই মিলবে ওটিপি। সেই ওটিপি দিয়ে লগইন করতে হবে। ওয়েবসাইটে গিয়ে bank seeding status অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। যদি আপনার অ্যাকাউন্টটি ডিবিটি করা থাকে, তাহলে অ্যাকটিভ দেখাবে। ডিবিটি না থাকলে ইনঅ্যাকটিভ হয়ে থাকবে। যদি আপনার অ্যাকাউন্টটি ডিবিটি করা না থাকে? তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে যেতে হবে আধার কার্ডের সেলফ অ্যাটেসটেড ফটোকপি নিয়ে। পাসবুকের ফটোকপিও প্রয়োজন। এই নথিপত্রের সঙ্গে ব্যাঙ্কের দেওয়া ডিবিটি ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে। তারপরে ব্যাঙ্কের উদ্যোগেই আপনার অ্যাকাউন্টে ডিবিটি লিঙ্ক হয়ে যাবে। এছাড়াও আধার কেন্দ্রগুলিতে ডিবিটি লিঙ্ক করাতে পারেন।

এতদিন যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাননি, তাঁরাও অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য় আবেদন করতে পারেন। রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন, নতুন আবেদনকারীরদের জন্য নয়া পোর্টাল খোলা হচ্ছে। এখনও সেই পোর্টাল তৈরি নেই। অনেক জায়গায় বলা হচ্ছে পোর্টাল খুলে গিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো খবর। পোর্টাল খোলা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের তরফে জানানো হবে। নতুন আবেদনকারীরা সেই পোর্টালের মাধ্যমে অন্নপূর্ণা যোজনায় অ্যাপ্লাই করবে। দুই তিন মাসের মধ্যে বাজেট হওয়ার পরে নতুন আবেদনকারীরা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন।
যতদিন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত চলবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। বুধবার থেকেই শুরু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের প্রক্রিয়া। কালই নবান্ন থেকে ফর্ম প্রকাশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। কাল থেকেই অনলাইন ও অফলাইনে মিলবে ফর্মের কপি। যত দ্রুত ফর্ম ফিলআপ করেবন, তত দ্রুত মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা। এই ফর্ম ফিলাপ করতে নির্দিষ্ট কেন্দ্রের বিধায়কদের পাশে পাবেন উপভোক্তারা। বিডিওদের নেতৃত্বে ফর্ম ফিলআপে সহযোগিতা করতে বাড়ি বাড়ি লোক পাঠাবে সরকার। কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে থেকে বেরিয়েই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে বেশ কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে অন্নপূর্ণা ভণ্ডারের প্রক্রিয়া বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে অন্নপূর্ণা যোজনায় পরিবর্তিত হবে। আগামিকাল মন্ত্রী অগ্নিমিত্রাকে সঙ্গে নিয়ে নবান্ন থেকে ফর্ম পাবলিশ করব। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের উপস্থিতিতেই এই ফর্ম প্রকাশ করা হবে। কালই বিস্তারিত জানাব।” পাশাপাশি তিনি জানান, “কাল থেকেই শুরু অন্নপূর্ণা যোজনার প্রক্রিয়া। যত তাড়াতাড়ি উপভোক্তারা নাম নথিভুক্ত করবেন, তত তাড়াতাড়ি মিলবে সুবিধা। যেমন যেমন ফর্ম ফিলআপ হবে, তেমনভাবেই ৩০০০ টাকা করে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। যতদিন না অন্নপূর্ণার টাকা পাচ্ছেন, ততদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চলবে।” বুধবার নবান্ন থেকে তো ফর্ম প্রকাশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু মহিলারা কীভাবে সেই ফর্মপূরণ করবেন? সে সম্পর্কেও সম্যক ধারনা দেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। তিনি জানান, “ফর্মের কপি মিলবে অনলাইন ও অফলাইন দুটি মাধ্যমেই।” পাশাপাশি তিনি এও জানান, “পাবলিকের উপর পুরো বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া হবে না। বিধায়করা নিজ উদ্যোগে ফর্ম ফিলআপ করাবেন। সরকারও বিডিওদের নেতৃত্বে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলআপের সহযোগিতা করার জন্য লোক পাঠাবে।” এরই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “মাথায় রাখবেন ভারতীয়রাই সুযোগ পাবেন। ভারতের টাকা বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য নয়।”





