Monday, May 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

১০০ দিনের কাজ শুরুর নির্দেশ! ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়েও সিদ্ধান্ত!‌

RK NEWZ নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের ৩৪টি দফতরের সচিবদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এ বার থেকে প্রতি মাসে নিয়মিত ভাবে সব দফতরের সচিবদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করবেন তিনি। রাজ্যের প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত করতে উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সোমবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের ৩৪টি দফতরের সচিবদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশন দেন, ১০০ দিনের কাজ চালু করে দিতে হবে। নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় আপাতত এই প্রকল্প শুরু করা হবে না। তবে এই দুই জেলা বাদে রাজ্যের বাকি সমস্ত জেলায় দ্রুত গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ জেলায়। অভিযোগ ছিল, ভুয়ো জব কার্ড তৈরি, কাজ না করেই টাকা তোলা এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মতো অনিয়ম হয়েছে ওই দুই জেলায়। সেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রকৃত তথ্য সামনে আনতেই আপাতত সেখানে প্রকল্প চালু না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এই দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতেই একসময় কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। বর্তমান সরকার দুর্নীতির তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দুই জেলায় সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে। অন্য দিকে, এ বার থেকে প্রতি মাসে নিয়মিত ভাবে সব দফতরের সচিবদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনায় থাকা ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে আগের সরকার এই প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও, বাস্তবে তার অগ্রগতি খুব একটা হয়নি বলেই প্রশাসনিক মহলের অভিমত। সেই পরিস্থিতিতে নতুন সরকার প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোতে চাইছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সহযোগিতায় রূপায়িত করা হবে। প্রকল্পের ব্যয় ৫০-৫০ শতাংশ হারে বহন করবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। সেই অনুযায়ী আর্থিক বরাদ্দ এবং পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম মেদিনীপুর ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার বন্যা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব হবে। বৈঠকে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর জোর দিয়ে তিনি স্বাস্থ্য দফতরের সচিবকে নির্দেশ দেন, আগামী ৮ জুনের মধ্যেই এই সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত করতে হবে। রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প কার্যকর করার ক্ষেত্রে যাতে আর কোনও বিলম্ব না হয়, সে বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। এ ছাড়াও আগামী ১১ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা নীতি আয়োগের বৈঠক নিয়েও প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে সেই বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলে বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, আর্থিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করতে সব দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রতিটি দফতরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য ও প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে সোমবারের এই বৈঠক থেকেই প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ও সমন্বিত ভূমিকার ইঙ্গিত দিল নতুন সরকার।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং পূর্ববর্তী সরকারের আমলে হওয়া দুর্নীতির অভিযোগগুলির তদন্তে শুরু থেকেই কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। সোমবার নবান্ন সভাঘরে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকে সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি স্কুলগুলিতে নিম্নমানের ইউনিফর্ম সরবরাহকে কেন্দ্র করে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতেই অর্থ এবং বস্ত্র দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে জবাব তলব করেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রে খবর, সোমবার সমস্ত দফতরের সচিব পর্যায়ের আধিকারিকদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরবরাহ করা পোশাকের নিম্নমান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্ধারিত মানের কাপড় ব্যবহার না করেই ইউনিফর্ম তৈরি করা হয়েছে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই পোশাক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে দীর্ঘ দিন ধরেই অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি স্কুলের ইউনিফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট গুণমান, কাপড়ের মান এবং অন্যান্য প্রোটোকল স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা থাকে। কিন্তু অভিযোগ, সেই নির্দেশিকা কার্যত উপেক্ষা করেই বেশ কিছু পোশাক প্রস্তুতকারী সংস্থা নিম্নমানের কাপড় ব্যবহার করে ইউনিফর্ম সরবরাহ করেছে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, সরকারি নিয়ম না মেনেও কী ভাবে সেই পোশাক সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হল এবং কেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা আগেভাগে বিষয়টি খতিয়ে দেখলেন না। বস্ত্র দফতরের সচিব এবং অন্য আধিকারিকদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, সরবরাহকারী সংস্থাগুলি আদৌ নির্ধারিত গুণমান বজায় রেখেছিল কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, নিজের বক্তব্যের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী কিছু নথি ও প্রমাণও বৈঠকে তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকারি প্রকল্পে কোনও ধরনের দুর্নীতি বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং তাঁর সরকার ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতিতেই চলবে। এর পর মুখ্যমন্ত্রীর কড়া প্রশ্নের মুখে পড়েন অর্থ দফতরের আধিকারিকেরাও। নিম্নমানের ইউনিফর্মের জন্য কী ভাবে সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকার বিল মঞ্জুর করা হল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। অর্থ দফতরের সচিবের কাছে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি জানতে চান, কোন রিপোর্ট বা কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে ওই সংস্থাগুলিকে অর্থ প্রদান করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যদি সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী ইউনিফর্ম তৈরি না হয়ে থাকে, তবে কোনও ভাবেই সরকারি অর্থ সেই সংস্থাগুলিকে দেওয়া উচিত ছিল না। নবান্ন সূত্রের খবর, অর্থ দফতরের কিছু আধিকারিক তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করলেও মুখ্যমন্ত্রী তাতে সন্তুষ্ট হননি। তিনি জানতে চান, অর্থ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে কেন সেই সময় কোনও আপত্তি বা পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত করা হয়নি। বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী অর্থ এবং বস্ত্র দফতরকে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে বিস্তারিত লিখিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কার গাফিলতিতে নিম্নমানের পোশাক সরবরাহ করা হয়েছে, কোন সংস্থাকে কী ভাবে বরাত দেওয়া হয়েছিল এবং কার অনুমতিতে সরকারি অর্থ মেটানো হয়েছে— সেই সমস্ত বিষয় রিপোর্টে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই দফতরের রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি রুখতে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles