RK NEWZ কলকাতার বাসিন্দা জ়াফরের বিয়ে হয়েছিল পাকিস্তানের রাবিয়ার সঙ্গে। ২০১২ সাল পর্যন্ত এন্টালিতেই থাকতেন দম্পতি। তার পরে এক দুর্ঘটনায় ঘুরে যায় জাফরের জীবন। পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত জ়াফর রিয়াজ ওরফে রিজ়ভির জুতোর ব্যবসা ছিল কলকাতায়। এন্টালির বাসিন্দা জ়াফর ছিলেন জুতোর কারবারি। ব্যবসা ছিল এন্টালিতেই। পারিবারিক ব্যবসা। জুতো তৈরির দু’টি ছোটখাটো কারখানাও ছিল। সেই জ়াফরই ব্যবসাপত্র ছেড়ে হয়ে ওঠেন পাক গুপ্তচর! পাকিস্তানের লাহৌরের মডেল টাউনের বাসিন্দা রাবিয়ার সঙ্গে ২০০৫ সালে বিয়ে হয় জ়াফরের। পারিবারিক পরিচয় সূত্রেই বিয়ে হয় দু’জনের। তার পরে ২০১২ সাল পর্যন্ত এন্টালিতে থাকতেন দম্পতি। এর পরে একটি দুর্ঘটনা ঘুরিয়ে দেয় জ়াফরের জীবনের মোড়। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার পর শারীরিক কারণে ব্যবসা চালাতে সমস্যার মুখে পড়েন জাফর। আর্থিক সমস্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। ওই সময়ে লাহৌরের শ্বশুরবাড়ি থেকে জাফরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় পাকিস্তানে চলে যাওয়ার জন্য। সেই মতো ওই বছরেই প্রথমে স্ত্রী রাবিয়াকে লাহৌরে পাঠিয়ে দেন জাফর। পরে কলকাতার সম্পত্তি বিক্রি করে পর্যটক ভিসা নিয়ে নিজেও পৌঁছে যান লাহৌরে। সেই প্রথম বার লাহৌরে যান। লাহৌরেই বিদেশি নথিভুক্তিকরণ দফতরে আওয়াইশ নামে এক পাকিস্তানি আধিকারিকের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল জাফরের। ওই পাক আধিকারিকের সূত্র ধরেই পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যোগাযোগ। সেই থেকে পাক গুপ্তচর সংস্থার নির্দেশ মতোই চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ভারতে আসতে থাকেন। এ দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ছবি, তথ্য পাক হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো শুরু করেন জাফর। ২০২২ সালে পাঞ্জাব পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপের হাতে চরবৃত্তির অভিযোগেই গ্রেফতার হন জাফর এবং তার সঙ্গী বিহারের মধুবনীর মহম্মদ সামসাদ। অমৃতসর স্টেশনের পাশে লেবু জল বিক্রির দোকান ছিল সামসাদের। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্জাবের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য জ়াফর পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ। পাঞ্জাবে ঘাঁটি করেই এই কাজকর্ম চালাতেন। পরে ওই মামলায় জামিনও পেয়েছিলেন। কিন্তু গত বছর পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরে পাকিস্তানি চরচক্রের খোঁজ করতে গিয়ে আবার উঠে আসে জাফরের নাম। পহেলগাঁও হামলার তদন্ত নেমে সিআরপিএফ কর্মী মোতিরাম জাটের নাম উঠে আসে। জঙ্গিহানার পাঁচ দিন আগেও পহেলগাঁওয়ে কর্মরত ছিল মোতিরাম। সেই মোতিরামের সঙ্গে পাক গুপ্তচরচক্রের যোগ পাওয়া গিয়েছিল। ধৃত মোতিরামকে জেরা করতে গিয়েই ফের উঠে আসে জাফরের নাম। সূত্রের খবর, তার পর থেকেই জাফরের খোঁজ চালাচ্ছিলেন গোয়েন্দারা। প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানোর পর কলকাতার উপকণ্ঠেই হদিস মেলে জ়াফরের। গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই তাঁকে দিল্লি নিয়ে গিয়েছেন। চরবৃত্তির অভিযোগও ওই ধৃত কলকাতাতেও কোনও নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।





