Thursday, May 21, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

জ্বালানি বাঁচাতে বাসে সভাস্থলে আধিকারিকরা!‌ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো নিয়ে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক শুভেন্দুর

RK NEWZ জেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক ও বিডিওরা একসঙ্গে ২ টি বাসে সকাল পৌনে ১০ টা নাগাদ রওনা দেন। একইভাবে পুলিশের আধিকারিকরাও গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা ওই বৈঠকে যোগ দিতে রওনা দেন। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর কাছে আহ্বান করেছিলেন, যতটা সম্ভব জ্বালানি বাঁচাতে। যাতায়াতে গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দিতে। চলতি মাসের ১৮ তারিখ রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালও সমস্ত জেলার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে যথেচ্ছভাবে যাতায়াত কমানো। এরই মধ্যে আজ, বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলাকে নিয়ে উন্নয়ন বৈঠকে বসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই বৈঠকে যোগ দিতেও পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের কর্তারা একেবারে বাসে চড়ে রওনা হন। পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম বলেন, ”প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে আহ্বান রেখেছেন জ্বালানির খরচ কমাতে হবে। তাছাড়া রাজ্যের সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমানোর নির্দেশ রয়েছে। আমরা সেই নির্দেশ মেনেই বাসে চড়ে দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছি।” জেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক ও বিডিওরা একসঙ্গে ২ টি বাসে সকাল পৌনে ১০ টা নাগাদ রওনা দেন। একইভাবে পুলিশের আধিকারিকরাও গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা ওই বৈঠকে যোগ দিতে রওনা দেন। রাজ্যের নির্দেশের পরেই পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ অভিনব। সম্প্রতি কলকাতায় বিধায়কদেরকে বিধানসভায় বাসে চড়ে আসতে দেখা গিয়েছিল। এবার জেলা স্তরে প্রশাসনের এই কাজ সাধারণ মানুষের জনজীবনেও পড়বে। এই প্রসঙ্গে জেলাশাসক আরও বলেন, ”আমাদের এই কাজের মধ্য দিয়ে রাজ্যের নির্দেশ পালন করা শুধু নয়। দেশের প্রধানমন্ত্রীর যে বার্তা সেটাকেও একেবারে নিচুস্তরে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।” দুপুর দুটো নাগাদ দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলা পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূম জেলা প্রশাসনের সাধারণ প্রশাসন-সহ পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা অংশ নেবেন। বিডিওদের পাশাপাশি ওসি-আইসিরা যেমন থাকবেন, তেমনই থাকবেন বিধায়ক ও সাংসদরাও। এই বৈঠক থেকে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এদিকে প্রশাসনিক খরচ কমানো-সহ মুখ্যসচিব যে ৭ দফা নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিটি জেলা প্রশাসন-সহ সরকারি বিভাগকে তার প্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে তাৎক্ষণিক, মধ্যবর্তী এবং দীর্ঘমেয়াদি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরিরও নির্দেশ দেন। আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে মুখ্যসচিবের দপ্তরে সেই অ্যাকশন প্ল্যান রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১ জুলাই থেকে এই বিষয়ে সমস্ত রিপোর্ট ফি মাসে মুখ্যসচিবের কাছে পাঠাতে হবে এমন নির্দেশও রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের একাধিক রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯-এর লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব এখন থেকেই সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ৭২ জন সদস্য রয়েছেন। যদিও সাংবিধানিকভাবে আরও কয়েকজন মন্ত্রী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই কারণেই সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে নতুন মুখ আনা হতে পারে। সেদিকেও চোখ থাকবে বিশ্লেষকদের। সদ্যই পাঁচ দেশের সফর সেরে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৫ থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা এই সফরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে ও ইটালিতে যান। এই সফরের মূল লক্ষ্যই ছিল কৌশলগত অংশীদারিত্ব, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর ও আলোচনা। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ সফর থেকে ফিরেই দিল্লির সেবা তীর্থে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ইতিমধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। জারি করেছেন একাধিক নির্দেশিকাও। এবার সরকারি কেনাকাটাতেও নতুন নির্দেশিকা জারি করল অর্থদপ্তর। রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসকে এবার থেকে কেন্দ্রীয় সতর্কতা কমিশন (সিভিসি)-এর জারি করা প্রাসঙ্গিক নির্দেশিকা এবং গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। সরকারি কেনাকাটায় আরও স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা আনতেই এহেন পদক্ষেপ বলেই জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে অর্থ দপ্তরের তরফে এহেন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কেনাকাটার নীতি আগে থেকেই বিভিন্ন আর্থিক বিধি ও নির্দেশিকার মাধ্যমে নির্ধারিত রয়েছে। সরকারি পণ্য, পরিষেবা ও নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে সময় সময় একাধিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি জিইএম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও কেনাকাটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। এবার সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সতর্কতা কমিশনের জারি করা নিয়ম এবং নির্দেশিকা অনুসরণের কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এর ফলে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। নতুন এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles