RK NEWZ শিবপুরে রাতারাতি ভোলবদল। খুনের আসামী তোলাবাজিতে পারদর্শী, জমি মাফিয়া। এলাকার সাদ্দাম হোসেন, বকুলতলার দাগি আসামী, এলাকার ত্রাস, অনৈতিক কাজ করা অধিকাংশই দলে প্রবেশের জন্য পা বাড়িয়ে। বিষয়টি স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের নজরে আসতেই বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন জেলা বিজেপির পদাধিকারীরা। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল এবং শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণের পরেই রাতারাতি ভোলবদল ঘটল হাওড়ার শিবপুর এলাকার একাংশ তৃণমূল সংগঠন নেতা-কর্মীদের। হাইরোড চত্ত্বরে অনেকবার শুট আউটে জড়িত। দাগি ক্রিমিনাল সবসময় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘোরাধুরি করে। শ্লীলতাহানি কেস রয়েছে অনেক, সুবিধাবাদীজাল আইনজীবি সার্টিফিকেট জোগাড় করেছে। একসময়ে পলাতক ছিল। ওয়ারেন্টও বেরিয়েছিল, অসহায় মানুষদের ধমকে চমকে তোলাবজি করে, অসহায় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা করে, ফ্ল্যাট পাইয়ো দেওয়ার নাম করে টাকা তোলা থেকে শুরু করে প্রচুর কেস রয়েছে। এলাকায় তোলাবাজি ও ধমকানোর কাজকর্ম করে বেড়ায়। এই দলে আরও বেশ কয়েকজন আছে। দাগি তোলাবাজ, প্রোমোটার, অসংখ্য মানুষের থেকে লুটপাট চমকানোর রেকর্ড রয়েছে। যখন যে বিধায়ক আসে তার সঙ্গে দোস্তি করে দুনম্বরী কার্যকলাপ করে বিপুল টাকা তোলা অসংখ্য পুকুর ভরাট, জমি দালালি করা পৌরপ্রধানরাও বিজেপিতে ঢোকার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি প্রভাবিত সংগঠন ভারতীয় জনতা দলের নাম ব্যবহার করে মদ্যপান করে অনৈতিক কাজকর্ম শুরু করেছে। আশ্চর্যজনক ভাবে, কিছু তৃণমূলের প্রাক্তম বিধায়ক সোস্যল মিডিয়ায় পোস্টারে নিজের ছবি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাঁটিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দলে ঢোকার চেষ্টা করছেন। একাধিক বিজেপি নেতাকে ফোন করছেন দলে অনুপ্রবেশের জন্য। নাম ও ছবি ছিল স্থানীয় একাধিক পরিচিত তৃণমূল নেতার। বিষয়টি স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের নজরে আসতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন জেলা বিজেপির পদাধিকারীরা। তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতারা ‘পিঠ বাঁচাতে’ রাতারাতি বিজেপির আশ্রয়ে এসেছেন বলে দাবি তাঁদের। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিজেপিতে জায়গা হবে না। যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত কেউ এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিজেপিতে ঢুকতে চেষ্টা করা শিবপুরের দাগীদের তালিকা তৈরী করেছে বিজেপি সংগঠন। একদা তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থাকা আসামীরা বিজেপিতে ঢোকার চেষ্টায় রত। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের অব্যবহিত পরে তৃণমূলের একের পর এক নেতা শীর্ষ নেতৃত্বকে তোপ দাগছেন। দলবিরোধী কাজ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কয়েক জন শাস্তিও পেয়েছেন। কিন্তু ‘বিদ্রোহের’ খামতি নেই। এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের নয়া মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। তাঁর দাবি, এখন অনেকেই দল বদলে বিজেপিতে নাম লেখানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু সকলকে নেওয়া হবে না। রাজ্য সভাপতি থেকে শুরু করে উচ্চ নেতৃত্ব জানিয়েছে, ‘এখন অনেকেই বিজেপিতে আসার চেষ্টা করবে, সকলকে নেব না’!
শপথগ্রহণের দিনই ভবিষ্যত পরিকল্পনা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, তাঁর লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গের ‘নবনির্মাণ’। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সোমবার নবান্নে পা রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথম বার নবান্নে যাচ্ছেন তিনি। তার আগে সকালে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে একটি সাংগঠনিক বৈঠক করবেন শুভেন্দু। বেলা ১২টায় তাঁর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে নবান্নে। পাশাপাশি প্রথম দিনেই তিনটি প্রশাসনিক বৈঠকও রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া বিকেল ৪টেয় নবান্নেই বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। শপথরে পরে শনিবারই একপ্রস্ত বৈঠক সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। ওই দিন ধর্মতলায় পূর্ত দফতরের তাঁবুতে একপ্রস্ত প্রশাসনিক বৈঠক সারেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি খোঁজখবর নেন ওই বৈঠকে। তার পরে সেই রাতেই পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে চলে যান তিনি। রবিবার সকাল থেকে কাঁথিতেই ছিলেন তিনি। বিকেল ৫টা নাগাদ তিনি কাঁথি থেকে রওনা দেন কলকাতার উদ্দেশে। নবান্নে পর পর তিনটি বৈঠক সারবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে প্রথমে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি। এর পরে দুপুরে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে বিকেলে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও একটি বৈঠক রয়েছে শুভেন্দুর। সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জ়োনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। শুভেন্দু নবান্নে যাওয়ার আগে রবিবার সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে হাওড়া এবং কলকাতা পুলিশ। রবিবার বেলা গড়াতেই কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ এবং হাওড়ার অখিলেশ চতুর্বেদী পৌঁছে যান নবান্নে। সঙ্গে ছিলেন পুলিশের বেশ কয়েক জন উচ্চ আধিকারিকও। প্রথমেই দুই সিপি-র নেতৃত্বে নবান্ন চত্বর খতিয়ে দেখে পুলিশ। কোথায় কী নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তার খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করা হয়। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নিরাপত্তা কী রকম থাকবে, যেখানে তিনি বৈঠক করবেন সেই সভাঘরের নিরাপত্তা কেমন, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে পুলিশ। তার পরে নবান্নের সভাঘরে অজয় এবং অখিলেশ নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি বৈঠকও সারেন। মুখ্যমন্ত্রীর শপথের পরে আরও পাঁচ জন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নেন। উত্তরবঙ্গ থেকে দু’জন এবং দক্ষিণবঙ্গ থেকে তিন জনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যেমন আদিবাসী মুখ রয়েছেন, তেমন মতুয়া, রাজবংশী এলাকার বিধায়কও আছেন। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রমাণিক। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁদের দফতর বণ্টন হয়নি। মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের শপথগ্রহণও এখনও বাকি রয়েছে। শপথগ্রহণের পরে শনিবারই শুভেন্দু জানিয়ে দেন, তাঁর সরকার পশ্চিমবঙ্গের ‘নবনির্মাণ’ করবে। তিনি বলেন, “পশ্চিমবাংলার অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। শিক্ষা হারিয়ে গিয়েছে। আমরা পশ্চিমবাংলাকে নবনির্মাণ করব। অনেক দায়িত্ব। এখন একে অপরের সমালোচনার সময় নেই।” পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনের মুহূর্তকে রাজ্যের এক নতুন জাগরণের সূচনা বলেই মনে করছেন তিনি। এ অবস্থায় মু্খ্যমন্ত্রী হিসাবে নবান্নে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে শুভেন্দু কী বার্তা দেন, তা নিয়ে কৌতূহল দানা বেঁধেছে জনমানসে।





