Saturday, May 2, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

হাতে অত্যাধুনিক বন্দুক, পরনে উর্দি! ক্ষুব্ধ তৃণমূল!‌ কালীঘাট থানার ওসির ‘আপত্তিকর’ হোয়াট্‌সঅ্যাপ স্টেটাস? কমিশনের হস্তক্ষেপ?‌

RK NEWZ কালীঘাট থানার ওসির হোয়াট্‌সঅ্যাপ স্টেটাসের ছবি ‘আপত্তিকর’ বলে দাবি তুলে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করল তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার ওই ছবি পোস্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে এই বিষয়টি চিঠি লিখে অবগত করা হয়েছে। ওই ছবিটি কালীঘাট থানার বর্তমান ওসি গৌতম দাসের। তিনি নিজেই ফেসবুক এবং হোয়াট্‌সঅ্যাপ স্টেটাসে সেই ছবি পোস্ট করেছেন বলে দাবি তৃণমূল নেতার। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি অত্যাধুনিক বন্দুক হাতে থানায় নিজের চেয়ারে বসে রয়েছেন গৌতম। তার পরনে পুলিশের উর্দি। দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে কালীঘাট থানার ওসি বদলে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগে গত ২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসি এক দফা বদল করা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে কালীঘাট থানার ওসি করে আনা হয়েছিল। সেই নিয়োগের এক মাসের মধ্যেই উৎপলকে সরিয়ে দেয় কমিশন। তাঁর জায়গায় কালীঘাট থানার নতুন ওসি করা হয় গৌতমকে। তিনি কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে ছিলেন।

জয়প্রকাশ তাঁর আপত্তির সপক্ষে কয়েকটি যুক্তি খাঁড়া করেছেন। তাঁর মতে, ‘পশ্চিমবঙ্গে কর্তব্যরত কোনও পুলিশ কর্মকর্তা ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় নিজের ছবি তুলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতে পারেন না। সেটি কলকাতা পুলিশের সমাজমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকাতে উল্লেখ রয়েছে। অন্য অনেক রাজ্যেই এ ধরনের বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে। পাশাপাশি, সমাজমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত ভারত সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, হুমকিমূলক কোনও ধরনের ক্যাপশন-সহ অস্ত্রের ছবি প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।’ জয়প্রকাশের প্রশ্ন তুলেছেন, কালীঘাট থানার ওসির হাতে যে ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, তা তাঁর জন্য বরাদ্দ আদৌ রয়েছে তো? তিনি কি ওই ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারে প্রশিক্ষিত? তৃণমূল নেতার মতে, গৌতমের সমাজমাধ্যমের পোস্ট এবং তার সঙ্গে দেওয়া ‘ক্যাপশন’ শুধু বিপজ্জনক নয়, তা অত্যন্ত বিতর্কিতও! জয়প্রকাশ মনে করেন, ‘এ ধরনের পোস্ট সাধারণ জনগণের জন্য সরাসরি হুমকি।’ তৃণমূল নেতার কথায়, “এমন আপত্তিকর এবং আইন ভঙ্গকারী কাজ ক্ষমার যোগ্য নয়। তদন্ত করে যথাযথ শাস্তি দেওয়া উচিত।” এ ব্যাপারে জ্ঞানেশ, মনোজ এবং অজয়ের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন জয়প্রকাশ। তিনি এই পোস্টের প্রথমেই উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ হিসাবে তাঁর উদ্বেগের কথা তুলে ধরছেন। জয়প্রকাশের দাবি, গৌতম তাঁর পোস্টে নিজের ছবি দিয়ে সেখানে ক‍্যাপশনে লিখেছেন, ‘নতুন দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত।’ জয়প্রকাশ তাঁর এক্স পোস্টে একটি ফেসবুক আইডিও দিয়েছেন। যদিও সেই আইডির পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে। তৃণমূল নেতার মতে, ‘এ ধরনের ছবি শুধু অস্বস্তিকর নয়, আইনের চোখেও অত্যন্ত আপত্তিকর। ওই ছবি থেকে স্পষ্ট তিনি অত্যাধুনিক বন্দুক নিয়ে কাউকে নিশানা করছেন।’

শেষ পর্যন্ত পুনির্বাচনের ঘোষণা করেই দিল নির্বাচন কমিশন। ফের ভোট হতে চলেছে ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাট পশ্চিমের ১৫ বুথে। শনিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে যাবে ভোট। অন্যদিকে ফলতার রিপোল নিয়ে চর্চা চললেও এখনও পর্যন্ত তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন। ডায়মন্ড হারবারের ১১৭, ১৭৯, ১৯৪, ২৪৩ বুথে রিপোল হবে বলে জানা যাচ্ছে। রিপোল স্ক্রুটিনিতে ইতিমধ্যেই কমিশনের হাতে উঠে এসেছিল বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইভিএমে টেপ লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তো রয়েইছে, সঙ্গে বেশ কিছু বুথের ক্যামেরাও বন্ধ করে হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু ক্যামেরা যে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেই তথ্যই আসেনি কমিশনের কাছে। শোনা যাচ্ছিল নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণেই সেই তথ্য এসে পৌঁছায়নি। এবার তার যৌক্তিকতাও খুঁজে দেখেছে কমিশন। কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের অজার্ভার ও রিটার্নিং অফিসার চারটি রিপোলের প্রস্তাব দিয়েছেন। এবার রিপোর্ট দেখে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল কমিশন। অন্যদিকে মগড়াহাট পশ্চিমে ৪৬,১২৬,১২৭,১২৮,১৪২,২১৪,২১৫,২১৬,২৩০,২৩১,২৩২ নং বুথে পুনর্নিবাচন হতে চলেছে। এদিকে ফলতা নিয়েও চাপানউতোর চলছে। ফলতায় গোলযোগ পূর্ণ বুথের সংখ্যা প্রায় ৩০টি বলে জানা যাচ্ছে। কারণ, শুরুতেই কমিশন বলেছিল ক্যামেরা যদি কোনওভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, কালো কাপড় দিয়ে দেওয়া হলেই রিপোল হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles