RK NEWZ দ্বিতীয় দফার ভোটের সকালে ভবানীপুরের বিভিন্ন বুথে ঘুরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা আগে খুব একটা দেখা যায়নি। কখনও ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন অলি গলি, কখনও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলিন স্ট্রিট, কখনও শাখাওয়াত মেমোরিয়াল, কখনও সাউথ ক্যালকাটা গার্লস কলেজে ঢুঁ মারছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘোরার ফাঁকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগের রাত থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী ‘অত্যাচার’ চালাচ্ছে। এদিন মোবাইল ফোনে ছবি দেখিয়ে মমতা দাবি করেন, শাসকদলের কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
কী অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী?
ভবানীপুরের বুথে বুথে ঘোরার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, ‘‘এখনও আমি চেয়ারে আছি। দলের চেয়ারেও আছি। তৃণমূলের চেয়ারম্যান হিসেবে বলছি, আমরা চাই ভোটটা শান্তিপূর্ণ হোক। মানুষের অধিকার প্রয়োগ করতে দেওয়া হোক। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কেন্দ্রীয় বাহিনী যা করছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।’’
মমতা অভিযোগ করেন, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের বাড়িতে রাত ২টোর সময় স্থানীয় পুলিশকে না জানিয়ে সিআরপিএফ জওয়ানরা হানা দেয়। তাঁর কথায়, ‘‘তখন কাউন্সিলর বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী ও ছোট বাচ্চা বাড়িতে ছিল। ওরা মোবাইল ফোন পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে। এ কেমন আচরণ?’’
নিশানায় ভাঙড় ও নির্বাচন কমিশন
এদিন মোবাইল ফোনে ছবি দেখিয়ে ভাঙড় থানার ওসির বিরুদ্ধে এক তৃণমূল কর্মীকে মারধরের অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ‘‘এ ভাবে অত্যাচার চলছে। এর পরেও কি মানুষ ওদের ভোট দেবে? বিজেপি গায়ের জোর খাটিয়ে নির্বাচন রিগ করার চেষ্টা করছে।’’
শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, নির্বাচন কমিশনের অবজার্ভারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার অভিযোগ, বাইরের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা কিছু অবজ়ার্ভার স্থানীয় থানায় গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশকে চাপ দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, ‘‘আমি সারা রাত জেগে ছিলাম। পুলিশ অফিসারদের ওপরও চাপ দেওয়া হচ্ছে।’’
তবে সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও তৃণমূল কর্মীরা যে লড়াই চালিয়ে যাবেন, সে বার্তাও দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কর্মীরা মরতেও প্রস্তুত। কিন্তু তাঁরা নিজেদের জায়গা এক চুলও ছাড়বেন না।’’ এদিন বারংবার তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছেন।




