RK NEWZ একটি মদের দোকানের সামনে একটা ছোটখাটো জমায়েত। অনেকেই ফ্যালফ্যাল করে বন্ধ লিকার শপের দিকে তাকিয়ে। কেউ কাউকে চেনেন না। কিন্তু সকলেই একই উদ্যেশ্যে জনাকীর্ণ রাস্তায় এসে সমাবেত। ক-বাবু এসেছেন। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছেন। লুঙ্গি পরিহিত ব্যক্তিত্ব। কাছেই মানিকতলা বস্তির অধিবাসী। ওই ব্রিজের নীচেই থাকেন তিনি। ক-বাবু, খ-বাবুকে জিজ্ঞাসা করলেন, দাদা, আজ দোকানটা বন্ধ কেন? খ-বাবু শার্টপ্যান্ট পরিহিত। দেখে মনে হয়, কোন অফিসের করণিক পাশাপাশি সুযোগ পেলে পাড়ায় দালালির বিজনেসটাও সারেন। বাড়ি ফেরার পথে একটু ঢু মেরেছিলেন এখানে। তৃতীয় ব্যক্তি হলেন শ্রী-গ। তিনি এদের মধ্যে সবথেকে বেশি জিকে-সম্পন্ন। মানে জেনারেল নলেজ! তিনি বললেন, বুঝতে পারছেন না? ভোট, ভোট। সবই ভোটের জন্য। ছিয়ানব্বই ঘন্টা আগে থেকেই বন্ধ। আগে ভোটের ঘোষিত দিনের সময় লিকারে দোকান আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে বন্ধ হত। ভোট গণনার আগেও বন্ধ থাকত আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে। কিন্তু এবার ছিয়ানব্বই ঘন্টা আগে থেকেই দোকান বন্ধ। প্রথম ফেজে ছিয়ানব্বই ঘন্টা। আবার দ্বিতীয় ফেজে হবে একই রকম। আরেক পণ্ডিত বিসর্গ বাবু। এসে ছিলেন বাজারে মৌরলা মাছ কিনতে ।বললেন, এটা ঘোরতর অন্যায়। কেননা প্রথম ফেজে তো কলকাতায় ভোট নেই। আমি খুব ভাল করে পড়াশোনা করে এলাম। খবরের কাগজ থেকে জানলাম, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং আর সব কত জায়গায়, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম। আমাদের কলকাতায় তো দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ২৯-শে এপ্রিল ভোট। তবে আজকেই কেন বন্ধ করে দিয়েছে? এর প্রতিবাদ জানানো উচিত। কেউ একজন বলে উঠলেন, এসব হল, বেশি ওস্তাদি। আমরা একটা স্মারক লিপি জমা দেব ভ্যানিশ কুমারের কাছে! আমি ড্রাফ্ট তৈরি করছি আপনারা সবাই সই করুন! খ বাবু হাত তুলে বললেন, আমি রাজি! তবে নামটা প্লিজ ঠিক করে লিখবেন! ওর নাম জ্ঞানেন্দ্র কুমার! বাঙালির শালীনতার সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করা যাবে না। গ বাবু বললেন, না না, আমার মনে হয় কনফিউশন হয়েছে। তা নাহলে মদের ব্যবসায় কেউ নিজের থেকে দোকান বন্ধ করে? হয়তো ভয় পেয়েছে। এখন কি তাহলে কলকাতায় সেই ২৯ তারিখ পর্যন্ত এসব দোকানপাট বন্ধ থাকবে? এর কোনও রিলাক্সেশন হবে না?
আসলে গোটা রাজ্যজুড়ে এই মদ্যপানের নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি নিয়ে একটা ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে। বীরভূমের একটা মদের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছিল ২০ তারিখ থেকে ২৩-শে এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত। ২৩-শে এপ্রিল ভোট হয়ে যাওয়ার পর মদের দোকান খোলা হয়েছিল। বলা হয়েছে, এই খোলা থাকার সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ২৪ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল সন্ধে ছ’টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার আগে একটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তার মানে যে যেখানে আছেন এই ২৪ তারিখ থেকে ২৫ তারিখ সন্ধে ছ’টার মধ্যে যা মদ-টদ কেনার তা কিনে নিন। বীরভূমের পর কলকাতায় ২৪ তারিখ মদের দোকান খুলেছে। মানিকতলার মদের দোকানটিও কিন্তু ২৫ এপ্রিল খুলে দিয়েছে। জনমতের চাপ উপেক্ষা করা যায় না। গোলমালের আশঙ্কা থাকলেও মহালক্ষ্মীর কৃপা তো আছে দোকানদারের প্রতি। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেল, ২৪ তারিখ রাত থেকেই মদের দোকানের সামনে লাইন লেগে গেছে। এরকম মাঝরাত থেকে লাইন পড়তে একটা সময় দেখেছি কলকাতা শহরে এলিট সিনেমার সামনে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের টিকিট কাটার জন্য। সেইসময়ে বিদেশি ছবি দেখার ঢল নেমেছিল। সিনে ক্লাবগুলো তখন খুব সক্রিয়। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন দুজনেই বেঁচে আছেন, ছবি বানাচ্ছেন।
সে ছিল এক দিন আমাদের। যৌবনের কলকাতা। এখন মদের দোকানের লাইন এক ঘোরতর বাস্তবতা। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহাশয় বললেন, এ লাইন তো গ্যাসের লাইনের থেকে বেশি। এরকম লাইন গ্যাসের সঙ্কটের জন্যও হচ্ছে না। গরমে ভেবেছিলাম একটু চিলড বিয়ার নিয়ে ক্লাব এ যাব! মাছ ভাজা দিয়ে খাব। তবে এই মদ্যপানের সময় বাড়িয়ে দেওয়ার দায় কার? এবার ভোটে মদ্যপানের উপর নিষেধাজ্ঞা ভোটে একটা ইস্যু হয়ে যেতে পারে? তা নাহলে তড়িঘড়ি করে রাজ্য নির্বাচনী অফিসার মনোজ আগরওয়াল বলে উঠেছেন, না না এতসময় ধরে মদের দোকান বন্ধ করার ব্যাপার আমি নিজেই জানতাম না। ড্রাই-ডে ভোটের আগে হয়। তবে সে তো আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে। রাজ্যের মুখ্যনির্বাচনী কমিশনারই বলছেন, তিনি এসব জানেন না। তাহলে? ব্যাপারটা কী? মনোজ আগরওয়াল বলেছেন, এটা রাজ্য সরকারের নির্দেশ। নির্বাচন কমিশন এইরকম কোন নির্দেশ দেয়নি। রাজ্য সরকারের এক্সাইজ দফতর হল, এটার কর্তৃত্বে। এদিকে রাজ্য সরকারের কেষ্টবিষ্টুরা বলছেন, যে এটি এক্সাইজ দফতর করেছে। তবে কার নির্দেশে করেছে তা আমরা জানি না। রাজ্য সরকার তো এরকম কেউ কোনও নির্দেশ দেননি। মুখ্য সচিব নিজেই জানতেন না। এই মদ্যপানের নিষেধাজ্ঞায় ভোটের সময় মদ্যপানের স্পৃহা আরও বেড়ে গেছে। রাজ্য এক্সাইজ দফতরের কাছ থেকে রাজ্যের নির্বাচন কমিশন জানতে চেয়েছে, তোমরা কার নির্দেশে, কেন, কীভাবে এরকম নিষেধাজ্ঞা জারি করেছ। কেননা নির্বাচন কমিশন তো সোমবার থেকে বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা করেনি। কলকাতা শহরেও বা এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে কেন? তবে জেলা প্রশাসন এই আটচল্লিশ ঘণ্টাকে নিজেরা বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সেটা তাদের এক্তিয়ারে আছে। পোল প্যানেলের এ ব্যাপারে কোনও ভূমিকা ছিল না। তবে এই মদ বন্ধ রাখার যে আইন, এটি ১১৭ বছরের পুরনো আইন। যখন ব্রিটিশরাজ আমাদের রাজ্যে ঘোরতর রাজত্ব করছে। ১৯৮ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল কোনও এক সময় ব্রিটিশ যুগে। কেননা তখনও এই মদ খাওয়ার কালচার কলকাতায় ছিল সাংঘাতিক ভাবে। ব্রিটিশ যুগে বিধান সভায় মদ্যপান বন্ধ করা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল! ৩৭ সালের ভোটে ব্রিটিশ প্রভুরা গরিবদের মদ খাইয়েছিল বিধানসভায়, তাই নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে কলকাতায় কোনও দিন মদ্যপান নিষিদ্ধ হয়নি, যেমনটা হয়েছিল বিহারে, তারও আগে গুজরাতে! সমস্ত মদের দোকান শুধু নয়, এবার বার, ক্লাব, হোটেল, রেস্তোরাঁ যেখানে যত মদ সরবরাহ করা হয়, এমনকি স্টার হোটেল সেইসব জায়গাগুলো পর্যন্ত মদ্যপান সরবরাহ করবে না। ২০ এপ্রিল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা শুরু হয়ে গেছে।
আসলে গোটা পৃথিবীজুড়ে মদের সংস্কৃতি আছে। আর মদের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরনো। খ্রিস্টপূর্ব আট হাজার সাল থেকে ছয় হাজার সাল এইসময় প্রাচীন জর্জিয়া, ইরান, আর্মেনিয়া অঞ্চলে মদ উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেগুলো মূলত আঙুর বা দ্রাক্ষারসের নির্যাস। তবে পৃথিবীর সব সভ্যতাতেই মদের ব্যবহার ছিল। দেবতার পুজোতে মদ ব্যবহার হয়েছে। এমনকি ঐতিহাসিকেরা আর্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাদক তৈরি ও মদ্যপানের ব্যবহরের উল্লেখ করেছেন। বেদের বহু জায়গায় মাদকের উল্লেখ কাছে। যজ্ঞে ইন্দ্র, সরস্বতী অশ্বিনীদ্বয়কে সোমরস নিষ্কাশন পদ্ধতিকে বলা হয় ‘সোমাভিষধ’। বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উত্তেজক ও ফলের রস মিশিয়ে তৈরি হত সেযুগের ‘মদ’। সোমরসের মহিমা আছে ঋগ্বেদ এ! আর এই সমস্ত মদের মধ্যে প্রাচীনতম হল, ‘বিয়ার’। বিয়ার প্রথম উৎপাদিত হয়েছিল ইরানের জাগ্রোস পাহাড় অঞ্চলে।
সেদিন আমাদের সকালের আড্ডায় কলকাতার মদ্যপান আর ভোটরঙ্গ একসঙ্গে দুটোই ছিল আলোচনার বিষয়। এবার বাম্পার ভোট। এত শতকরা পরিমাণ ভোট কী করে হল, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। ৯৩.১৯ পোলিং পার্সেন্টেজ কী সাংঘাতিক ব্যাপার! এদিকে আশাবাদী দুটো ফুলই।পদ্মফুল আর ঘাসফুল। দু’জনেই বলছে, এই পোলিং পার্সেন্টেজ বৃদ্ধিতে এই সর্বকালীন রেকর্ড যে বাংলা গড়ল, এই বিপুল ভোট যাবে আমাদের পক্ষে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের হাজার রকমের নিষেধাজ্ঞা নিয়েও পাড়ায় পাড়ায় চলছে সমালোচনার ঝড়।
মদ্যপানের আলোচনায় আমরা আবার ফিরে আসব। কিন্তু এর মধ্যে বলে দিই বাইক বা টুহুইলার বন্ধ করা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে যেন এ শিব ঠাকুরের আপন দেশে, আইন কানুন সর্বনেশে। তা না হলে বলা হচ্ছে, তুমি স্কুটার নিয়ে যেতে পারবে, কিন্তু পরিবারের আত্মীয়দের পিছনে চাপাতে পারবে না। জোম্যাটো বা কারও হয়ে খাবার দিতে যাচ্ছো? তবে সেটা যেতে পারো, সেই ক্ল্যারিফিকেশন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার জন্য তোমাকে প্রমাণ দিতে হবে যে, তুমি জোম্যাটোর প্রতিনিধি। খাবার দিতে যাচ্ছ। তুমি হাসপাতালে রুগীকে নিয়ে যাচ্ছো, তাহলেও ডাক্তারের সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। তুমি যে মিথ্যা কথা বলে না তার কী প্রমাণ?
সমস্যা হচ্ছে ভোটের দিন প্রবীণ ব্যক্তি ভোটকেন্দ্র অবধি হেঁটে হেঁটে যেতে পারছেন না, তাঁর বয়স হয়তো সত্তর। তাঁর ছেলে ভেবেছিল বাইকে করে বাবাকে ভোট দিতে নিয়ে যাবে, এখন কী হবে? বাবাকে হাঁটিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া তো কঠিন ব্যাপার। আধাসামরিক বাহিনীর সাহায্য চাইতে হতে পারে? ওরা গাড়ি দেবে? সব মিলিয়ে সংশয়। তবে বাঙালির ভোটরঙ্গর কোনও তুলনা হয় না। কেননা সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বশেষ কার্টুন, স্বামী এবং স্ত্রী একসঙ্গে থাকা যাবে না। নির্বাচন কমিশন নাকি জানিয়েছে ,ভোটের দিন পর্যন্ত স্বামী স্ত্রী এখন একসঙ্গে থাকতে পারবে না। বলা যায় না, কে কাকে ভোট এ প্রভাবিত করে দেবে? তবে বাইক নিয়ে কমিশন খুব বকুনি খেয়েছে হাইকোর্টের কাছে। এত দিন আগে থাকতে বাইক চলাচল বন্ধ হবে কেন? কে একজন বলল, বাইকেও নাকি মেরুকরণ আছে! এখন তো দেখছি সর্বত্র বাইক চলছে দাপটের সঙ্গে।
ফিরে আসি মদ্যপানের আলোচনায়। আমাদের চায়ের আড্ডায় সেদিন আমাদের সবথেকে পণ্ডিত ঘনাদা, যিনি হলেন আমাদের সকলের পাঁচুদা, তিনি সিধুজ্যাঠার ভঙ্গিতে বলেছেন, আরে ভাই, কলকাতার মদ্যপান শুধু একালের ব্যাপার নয়, এটা ছিল সেকালেরও ব্যাপার। দ্বারকানাথ থেকে শুরু করে রাজা রামমোহন রায়, এ রসে কেউ বঞ্চিত ছিলেন না। ১৮৬০ সালে হরিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ‘কলির রাজ্য শাসন’ গ্রন্থে একটা কবিতা লিখেছিলেন। কবিতার নাম ছিল:- ‘বনেদি মাতাল’। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘ সুরা কন ক্ষমা কর এ দাসের দোষ ধর/ এজন্মে সাধিব তবে কার্য।’ এখন ভোট কার্য করতে গেলে সুরাহীন ভাবেই সমাধা করতে হবে। এ তো নুতন নিয়ম নয়, এ তো চিরকালের নিয়ম। ১৭০৭ সালে কলকাতায় যেকটা বার বা পানশালা গজিয়ে উঠেছিল সেগুলোতে অভিজাত সম্প্রদায়ের লোক খুব বেশি যেত না। লুকিয়েচুরিয়ে যেত। সেগুলোকে বলা হত ‘পাঞ্চহাউস’। পাঞ্চ অনেকটা ককটেলের মত। অ্যালকোহলের সঙ্গে সুগন্ধি মশলা মিশিয়ে দেওয়া হত। গোলাপজল, জায়ফল, চিনি, লবঙ্গ, লেবুরস এসব মিশিয়ে এ অমৃত নাকি তৈরি হত। সেইসময় সাতটা লাইসেন্স পাঞ্চহাউস ছিল পুরনো কলকাতায়। লালবাজারের পুলিশের দফতরের কাছে মদের দোকানটি কিন্তু খুব প্রাচীন। লালবাজারের ফ্রান্সিস লে গ্যালেস ট্যাভার্ন ছিল এরকম আরেকটা খ্যাতনামা ঠেক। লে গ্যালে এই দোকানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ১৭৭৫ সালে। কাউন্সিল সদস্য রিচার্ড বারওয়েল বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে এখানে আসতেন পানভোজনের অভিপ্রায়ে।
অনেক গল্প জুড়ে রয়েছে এইসব দোকানকে ঘিরে। ১৭৭৭ সালে শ্রীমতী গ্র্যান্ড যখন স্যার ফিলিপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে পরকীয়ায় মত্ত তখন জর্জ গ্র্যান্ড লে গ্যালেতে মদ খেতে ব্যস্ত। পুরো ব্যাপারটা ছিল কেলেঙ্কারির একশেষ। জর্জ গ্র্যান্ড কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মচারী আর তাঁর স্ত্রী ইশাবেরার সঙ্গে জোর প্রেম চলছিল ফিলিপ ফ্রান্সিসের। ফ্রান্সিস সাধারণ কেরানি থেকে সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে নানান কারণে হেস্টিংস আর বারওয়েলের মনোমালিন্য ছিল। ইগোর লড়াই। উইলিয়াম বারওয়েলের ভাই ড্যানিয়েল আর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ইলিজা সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে এসেছেন। ফ্র্যান্সিস হাতেনাতে ধরা পড়ল। পাঁচিল টপকানোর পর। সে ঘটনায় সমাজে ঢিঢি পড়েছিল। শ্রীপান্থের লেখা থেকে পড়েছি বটে। তবে ভুলে গেছিলাম। পাঁচুদা মনে করিয়ে দিলেন। কিন্তু পাঁচুদার এই জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতায় সমবেত শ্রোতৃমণ্ডলী অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছিলেন।
তাদের বক্তব্য হচ্ছে, এখন আলোচনা হোক ‘মিশন বাংলা’ নিয়ে। শাহীচালে বাজিমাত হচ্ছে, দিকে দিকে পদ্ম ফোটার ইঙ্গিত! আর বাংলার সেই তপ্ত রাজনীতির ময়দানে যখন নির্বাচনের হাওয়া নয়, চলছে একদম যুদ্ধের আবহ। তখন মদ্যপানের উপর নিষেধাজ্ঞাকে নির্বাচনী ইস্যু করার চেষ্টা কেন হচ্ছে? এটাকে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন, তৃণমূলী ষড়যন্ত্র। মদ নিয়ে বাঙালির দুর্বলতা আছে। সেই দুর্বলতায় সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের সমর্থক গোষ্ঠী প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তৃণমূল এর লোকাল দাদা বলেছেন, ছি ছি আমাদের মদ্যপানের উপর নিষেধাজ্ঞাকে ইস্যু করে ভোটে জিততে হবে না। ভবানীপুরে ‘দিদি’র পদযাত্রায় যে উদ্দীপনা তার থেকেও কি বুঝতে পারছেন না! কী হতে চলেছে ভোটে। ভবানীপুরের কাঁসারি পাড়া, শীতলা মন্দির থেকে পটুয়া পাড়ার মোড় পর্যন্ত মিছিল দেখেছেন? কীরকম আকার ধারণ করেছিল?
এবারের ভোট হচ্ছে ইনডোর আর আউটডোরের লড়াই। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল নেতাজি ইনডোরের বাইরে। আউটডোর জনসভায়। তখন ইনডোরে সীতারাম কেশরী কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিকে নিয়ে এআইসিসির অধিবেশন করছেন। আর এতবছর পর আবার পশ্চিমবঙ্গে প্রচার আউটডোর বনাম ইনডোর। আর তার মধ্যে কলকাতা শহরে নানান রকমের মানুষের টিকা টিপ্পনী শুনতে পাচ্ছি।
ভোট হোক। সঙ্গে চলুক ভোটরঙ্গ। তবে নিষেধাজ্ঞা মানেই আদমের আপেল! দোকান বন্ধ হলে কী হবে? আমাদের পাড়া র গলিতে দেখলাম নিশু মালি টলতে টলতে চলেছে ভর সন্ধ্যায়। বলে চলেছে একটাই ডায়লগ। ‘বাংলা খাও, আমরা বাঙালি! বাংলার জয়! জয় শ্রী বাংলা’





