Wednesday, April 29, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ভোটার কার্ড? বাইরে রেখে যেতে হবে নিষিদ্ধ বস্তু!‌ কী কী নথি নিয়ে বুথে গেলে ভোট দিতে পারবেন

RK NEWZ ভোটার কার্ড না নিয়ে গেলেও ভোট দিতে পারবেন ভোটারেরা। ভোটার কার্ডের বিকল্প হিসাবে ১২টি নথির ব্যবস্থা রেখেছে কমিশন। তার মধ্যে যে কোনও একটি নিয়ে গেলেই ভোট দেওয়া যাবে। তবে নাম থাকতে হবে ভোটার তালিকায়। রাজ্যের সাত জেলায় ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ রয়েছে বুধবার। শুরু হবে সকাল ৭টা থেকে। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ভোটার কার্ড সঙ্গে না থাকলেও আপনি ভোটদান করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিকল্প কিছু নথির কথার কথা উল্লেখ করেছে কমিশন। সেগুলির মধ্যে যে কোনও একটি সঙ্গে নিয়ে বুথে গেলেই আপনি ভোট দিতে পারবেন। তবে তার জন্য ভোটার তালিকায় আপনার নাম থাকতে হবে। সাধারণত ভোট দিতে যাওয়ার সময়ে দু’টি নথি সঙ্গে রাখা দরকার— ভোটার কার্ড এবং ভোটার স্লিপ। কমিশন নিযুক্ত বুথস্তরের আধিকারিক (বিএলও)-রা ইতিমধ্যে নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে স্লিপ বিলি করেছেন। কমিশন আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, এ বার আর কোনও রাজনৈতিক দল নয়, স্লিপ বিলি করতে হবে বিএলওদেরই। বিএলও-দের দেওয়া সেই ভোটার স্লিপ নিয়েই যেতে হবে বুথে। যদি ভোটার তালিকায় আপনার নাম থাকে, সে ক্ষেত্রে সঙ্গে ভোটার কার্ড না থাকলেও আপনি ভোট দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কমিশন ১২টি বিকল্প নথির কথা বলছে। সেই ১২টি বিকল্প নথির মধ্যে যে কোনও একটি নিয়ে গিয়ে আপনি নিজের ভোট দিতে পারবেন। এই নথিগুলি হল— আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, পেনশনের সচিত্র নথি, ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের ছবি-সহ পাসবই, ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি কর্মীদের সচিত্র পরিচয়পত্র, শ্রম মন্ত্রকের প্রকল্পের অধীনে স্মার্ট কার্ড, স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে শ্রম মন্ত্রকের দেওয়া স্মার্ট কার্ড, সাংসদ-বিধায়কদের দেওয়া সরকারি পরিচয়পত্র এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্য কেন্দ্রের দেওয়া পরিচয়পত্র। গত নির্বাচনগুলির মতো এ বারও বুথের মধ্যে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। ফলে মোবাইল সঙ্গে না নিয়ে যাওয়াই শ্রেয়। তবে ভোটারদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে বুথের বাইরে মোবাইল জমা রাখার বিশেষ ব্যবস্থা করেছে কমিশন। সেখানে মোবাইল জমা রেখে তবেই বুথের ভিতরে প্রবেশ করা যাবে। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েও বুথের ভিতর প্রবেশ নিষিদ্ধ। বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা প্রয়োজন মনে করলে কোনও স্মার্ট ডিভাইস (যেমন স্মার্ট ঘড়ি), হেডফোন নিয়েও বুথে প্রবেশে বাধা দিতে পারেন। ফলে ভোট দিতে যাওয়ার সময়ে হেডফোন বা এমন কোনও ডিজিটাল যন্ত্র সঙ্গে না-নিয়ে যাওয়াই ভাল।

প্রথম দফার নির্বাচনে ভোটবাক্সে সুনামি হওয়ার পর থেকেই ভোটের হার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। এখনও হচ্ছে। অনেকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন, দ্বিতীয় দফার ভোটের হারের দিকে। ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই মনে করেন, প্রথম দফায় ভোট দানের হার বেশি হওয়ার কারণ এসআইআর আতঙ্ক থেকেও হতে পারে। ২০০২ সালের পর ২০২৬ সালে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন হয়েছে। যার জেরে সাধারণ মানুষকে কম ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। তাই এবারের ভোটটা অনেকেই এড়িয়ে যেতে চাইছেন না, পাছে নাম কেটে যায়। এখন প্রশ্ন হল, এই ভোটে যদি কেউ ভোট না দেন, তাহলে কি সত্যিই নাম বাদ চলে যাওয়ার কোনও ব্যাপার আছে? দ্বিতীয় দফার ভোটের কয়েকঘণ্টা আগে দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত স্পষ্ট উত্তর দিয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, “এরকম ভাবার কোনও কারণ নেই যে, ভোট না দিলে নাম বাদ চলে যাবে। কাজেই আতঙ্কের কোনও বিষয়ই নেই। তবে আমি চাইব, সবাই ভোট দিক। এই আবেদন সবার কাছে থাকবে।” ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট বুধবার। প্রথম দফায় রেকর্ড মাত্রায় ভোটদান হয়েছে। অনেকে তাই মনে করছেন, দ্বিতীয় তথা শেষ দফাতেও সেই হারেই বা তার বেশি হারে ভোট পড়বে। ভোট না দিলে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কের মতোই আরও একটা বিষয় নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। নির্বাচন কমিশনের তরফে ভোটার স্লিপ না পেলে কি ভোট দেওয়া যাবে? নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, এবার বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ভোটার স্লিপ দিয়ে আসবে। তবে বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর এসেছে, ভোটের বুথ স্লিপ এখনও অনেকের হাতে এসে পৌঁছয়নি। নিজের বিএলও-র সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছেন না কেউ কেউ। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, স্লিপ হাতে না পেলে ভোট দেওয়া যাবে কিনা। তবে সেই সংশয় দূর করেছে নির্বাচন কমিশনই। স্পষ্টত বলা হয়েছে, ভোট দেওয়ার জন্য এই ভোটার স্লিপ পাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। জেলা প্রশাসনের কর্তারাও জানিয়েছেন, এই স্লিপ না থাকলে ভোট দেওয়া যাবে না, এমন কোনও ব্যাপার নেই। এই স্লিপ হল শুধুমাত্র ভোটারদের সুবিধার জন্য। এতে ভোটারের নাম, ভোটার কার্ডের নম্বর, পার্ট নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর লেখা থাকে। তাই এই স্লিপ নিয়ে গেলে ভোটারকে চিনে নিতে সুবিধা হয়। তবে এটা কোনওভাবেই সচিত্র পরিচয়পত্র নয়। তাই ভোটার স্লিপ নিয়ে গেলেই যে ভোট দেওয়া যাবে, এমনটা নয়। আবার না নিয়ে গেলে ভোট দেওয়া যাবে না, এটাও নয়। তাই এই স্লিপ নিয়ে যান বা না যান, নিজের সচিত্র পরিচয়পত্র বা ভোটার কার্ড নিয়েই বুথে যেতে হবে। তবে যাঁদের কাছে ভোটার কার্ড নেই, তাঁরা পাসপোর্ট থেকে শুরু করে প্যান কার্ড, আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে রাখতে পারেন। এক কথায়, কমিশনের নির্ধারিত ১২টি নথির একটি রাখলেই অনায়াসে ভোট দেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে উঠবে ভোটার স্লিপ। ফোনের মেসেজের মাধ্যমে এবং ECINET অ্যাপে এই স্লিপ পাবেন। প্রথমে ECINET অ্যাপ ডাউনলোড করুন। সেখানে Search Your Name in Voter List- অপশন রয়েছে। ওই অপশনে ঢুকলে দেখা যাবে, EPIC নম্বর বা মোবাইল নম্বর দিয়ে খোঁজার সুযোগ রয়েছে। রেজিস্টার্ড ফোন নম্বর দিলে সেখানে ওটিপি আসবে, ওই ওটিপি দিলেই চলে আসবে তথ্য। সেখানেই EPIC নম্বর, ভোটারের নাম, কেন্দ্র, পার্ট ও সিরিয়াল নম্বর থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles