RK NEWZ নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি ২৪x৭ হেল্পলাইন পরিষেবা চালু করার কথা জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও তার প্রতিকারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গের লোক ভবন। নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি ২৪x৭ হেল্পলাইন পরিষেবা চালু করার কথা জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও তার প্রতিকারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। রাজ্যপাল আরএন রবির নির্দেশে এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত ভোটে হিংসা রুখতে এমনই একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৎকালীন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর নির্দেশে রাজভবনে চালু হয়েছিল শান্তিকক্ষ (পিস রুম)। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের সময়েও এই শান্তিকক্ষ চালু ছিল। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ। অতীতে একাধিক নির্বাচনে হিংসা, ভয় দেখানো এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠেছে, ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে কিংবা প্রতিবাদ জানালে শারীরিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশবাহিনীও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর। তবে নাগরিকদের সরাসরি অভিযোগ জানানোর এবং দ্রুত সহায়তা পাওয়ার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়। সেই চাহিদা থেকেই লোক ভবনের এই ২৪x৭ হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। হেল্পলাইনের মাধ্যমে যে কোনও ভোটার বা নাগরিক তাদের অভিযোগ, আশঙ্কা বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিটি অভিযোগ সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের দিকেও নজর দেওয়া হবে। উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হল, কোনও ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই প্রত্যেক নাগরিক যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা। হেল্পলাইনটি নাগরিকদের আস্থা বাড়াতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সহায়ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। লোকভবনের তরফে জানানো হয়েছে, নাগরিকেরা নির্দিষ্ট একাধিক ফোন নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট ই-মেল আইডিতেও অভিযোগ বা তথ্য পাঠানো যাবে। সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শেষে নাগরিকদের উদ্দেশে আবেদন জানানো হয়েছে, গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে সক্রিয় ভাবে যোগ দিন এবং নির্ভয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। হেল্পলাইন নম্বরগুলি হল: ০৩৩-২২০০ ১০২২, ০৩৩-২২০০ ১০২৩, ০৩৩-২২০০ ১০২৫, ০৩৩-২২০০ ১০২৬, ০৩৩-২২০০ ১০২৭, ০৩৩-২২০০ ১০২৮, ০৩৩-২২০০ ১০২৯, ০৩৩-২২০০ ১০৩২, ০৩৩-২২০০ ১০৩৬
ভোট পরিস্থিতি দেখাতে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসছে নির্বাচন কমিশন। আগামী বুধবার প্রথম দফার ভোটের আগের দিন ওই দল রাজ্যে আসবে। বৃহস্পতিবার ভোট পরিচালনা খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। কমিশন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া তামিলনাড়ুতেও ওই দল যাবে। এর মধ্যে ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফা বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানাল কমিশন। মঙ্গলবার কমিশনের নোটিস অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়— ৫০৭ কোম্পানি। প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে কমিশন। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়— ৩১৬ কোম্পানি। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলাতেই থাকবে ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। বাকি ৭৬ কোম্পানি মোতায়েন হবে জঙ্গিপুরে।
দ্বিতীয় দফায় ১৪২ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। সে দিন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ১১২ কোম্পানি বাহিনী। বনগাঁ পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ৬২ কোম্পানি বাহিনী। বসিরহাটে ১২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে ভোটের দিন। বিধাননগরে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারাকপুরে থাকবে ১৬০ কোম্পানি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা
সুন্দরবনে ১১৩ কোম্পানি, বারুইপুরে ১৬১, ডায়মন্ড হারবারে ১৩৫ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে।
হাওড়া
হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ১৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে কমিশন। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকবে ১১০ কোম্পানি।
নদিয়া
নদিয়ার কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ওই জেলার রানাঘাট পুলিশ জেলায় থাকবে ১২৭ কোম্পানি।
হুগলি
হুগলি জেলার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ভোটের সময় দায়িত্বে থাকছে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ভোট-দায়িত্ব সামলাবে ২৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
পূর্ব বর্ধমান
পূর্ব বর্ধমানে মোট বুথ সংখ্যা ৪৪৬৫। মোট ২৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
পশ্চিম বর্ধমান
পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে মোট বুথের সংখ্যা ১৯৫টি। বাহিনী থাকবে ১৩ কোম্পানি।
কলকাতা
কলকাতায় বুথের সংখ্যা ৫,১৭২। ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে রাজ্য রাজধানীতে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকেন। আগেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। প্রত্যেক বাহিনীকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছিল, কোনও কোম্পানিতেই যেন কর্মী সংখ্যা ৭২-এর কম না-হয়।





