Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দশ জনে লড়ে বেঙ্গালুরুর সঙ্গে ড্র, ইস্টবেঙ্গলের খেতাবের লড়াই আরও কঠিন!‌ ‘লাল-হলুদ হৃদয়ে অমর অরুণোদয়’, ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে ‘ভক্ত’ রাহুলকে বিশেষ শ্রদ্ধা

বেঙ্গালুরু এফসি: ৩ (আশিক, সুরেশ, উইলিয়ামস)
ইস্টবেঙ্গল: ৩ (আনোয়ার, ক্রেসপো, সোজবার্গ)

RK NEWZ মহামেডানকে সাত গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। যে কারণে সমর্থকরাও আশায় বুক বেঁধেছেন, যদি বেঙ্গালুরুকে ঘরের মাঠে হারিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে লিগ শীর্ষে থাকা মুম্বইয়ের ঘাড়ে উঠে পড়া যাবে। পয়েন্ট টেবিলে বড়সড় লাফ দেওয়ার হাতছানি ছিল। কিন্তু ঘরের মাঠে সেই সুযোগ হেলায় হারাল ইস্টবেঙ্গল। পয়েন্ট টেবিলে বড়সড় লাফ দেওয়ার হাতছানি ছিল। কিন্তু ঘরের মাঠে সেই সুযোগ হেলায় হারাল ইস্টবেঙ্গল। চোট সমস্যায় জেরবার হয়েও লাল-হলুদ শিবির সমানে সমানে লড়াই করবে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে, আশায় ছিল ভক্তকুল। লড়াইটা সমানে হল, কিন্তু অহেতুক মাথা গরম করে তিন পয়েন্টের আশায় জল ঢেলে দিলেন অস্কার ব্রুজোর ছাত্ররা। শেষ মুহূর্তের অনবদ্য গোলে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল ইস্টবেঙ্গল। মহামেডানকে সাত গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। যে কারণে সমর্থকরাও আশায় বুক বেঁধেছেন, যদি বেঙ্গালুরুকে ঘরের মাঠে হারিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে লিগ শীর্ষে থাকা মুম্বইয়ের ঘাড়ে উঠে পড়া যাবে। কিন্তু সমস্যা যেন লাল-হলুদ শিবিরের নিত্যসঙ্গী। চোটের জন্য আইএসএল শেষ হয়ে গিয়েছে নাওরেম মহেশের। মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা রশিদও চোট পেয়ে নামতে পারলেন না ম্যাচে। যুবভারতীতে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দুই দলের মধ্যে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের উত্তাপ দুই দলের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছিল। আগ্রাসী মেজাজ ধরা পড়ছিল সিবিলে-আনোয়ারদের মধ্যে। মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যেই রেফারি প্রথম কার্ড দেখাতে বাধ্য হলেন। তার ঠিক ৬ মিনিট বাদেই গোল। প্রাক্তন মোহনবাগানি আশিক কুরুনিয়নের গোলে এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। ২১ মিনিটে অনবদ্য বাইসাইকেল কিকে সমতা ফেরালেন আনোয়ার আলি। লাল-হলুদের ছন্দপতন। অহেতুক মেজাজ হারিয়ে লাল কার্ড দেখলেন মিগুয়েল। সেখান থেকে লাল-হলুদের খেলার ঝাঁজটাই উধা হয়ে গেল। কাঁধ ঝুলে যাওয়া শৌভিক চক্রবর্তীদের মাথাব্যথা বাড়িয়ে ৩৯ মিনিটে আবার বেঙ্গালুরুর গোল। তবে গোলের নেপথ্যে সুরেশের শটের চেয়েও বেশি কৃতিত্ব প্রভসুখন গিলের নির্বুদ্ধিতা। ২-১ পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে লাল-হলুদ ব্রিগেড। ম্যাচের বয়স যখন ৫৬ মিনিট, চোখ ধাঁধানো দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরালেন সল ক্রেসপো। তবে শেষের আধঘণ্টা আনোয়ার বেরিয়ে যাওয়া আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়ল ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ। তিন মিনিটের মধ্যেই প্রায় শুয়ে পড়ে গোলমুখী শট মারলেন উইলিয়ামস। গড়াতে গড়াতে বল চলে গেল গোলে। লাল-হলুদ সমর্থকরা ধরেই নিয়েছেন, হার অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নায়ক হয়ে উঠলেন সোজবার্গ। শেষ মিনিটে দুরন্ত গোল করে এনে দিলেন একটা মূল্যবান পয়েন্ট। পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল। তবে এদিনের ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করে খেতাবি লড়াই কঠিন করে ফেলল লাল-হলুদ।

আজীবন সমর্থন করেছেন ইস্টবেঙ্গলকে। জীবনের শেষ পডকাস্টেও আলোচনা করেছেন লাল-হলুদ শিবিরের উন্নতি নিয়ে। সেই রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে ইস্টবেঙ্গল। প্রয়াত অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বৃহস্পতিবার টিফো নিয়ে এলেন লাল-হলুদ ভক্তকুল। অভিনেতাকে শেষশ্রদ্ধা জানালেন তাঁর প্রিয় ক্লাবের ম্যাচেই। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে তালসারিতে গিয়েছিলেন ৪৩ বছরের অভিনেতা। সমুদ্রে জোয়ার আসার সময়ে তলিয়ে যান তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই চিরঘুমে চলে যান অভিনেতা। পুত্র সহজের নামে বেশ কিছুদিন ধরে পডকাস্ট শুরু করেছিলেন রাহুল। সেই ‘সহজ কথা’র শেষ এপিসোডে রাহুলের আলোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু ছিল প্রিয় ক্লাব ইস্টবেঙ্গল। পডকাস্টে অতিথি হিসাবে এসেছিলেন অভিনেতা তথা বাংলার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। রাহুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার কয়েকমিনিট আগেই সহজ কথার ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা হয় ব্রাত্য বসুর সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের কিছু অংশ। সেই ক্লিপেই দেখা যায়, ইস্টবেঙ্গলের উন্নতি নিয়ে আলোচনা করছেন দুই অভিনেতা। রাহুলের প্রয়াণের খবর পেয়ে শোকজ্ঞাপন করেছিল ইস্টবেঙ্গল। সোশাল মিডিয়ায় লেখা হয়, ‘সারাজীবন ধরে লালহলুদের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন অভিনেতা রাহুল। তাঁর প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’ শুধু তাই নয়, রাহুলের শেষযাত্রায় তাঁর নিথর দেহের পাশে রাখা হয় লাল-হলুদ পতাকা। ফুটবলপ্রেমী রাহুলের প্রয়াণের পর বৃহস্পতিবারই প্রথমবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলতে নেমেছে ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচে রাহুলকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ টিফো নিয়ে এলেন লাল-হলুদ ভক্তকুল। অভিনেতাকে শেষশ্রদ্ধা জানিয়ে লাল-হলুদ জনতার বার্তা, ‘গ্যালারির আকাশে এক বিষণ্ণ সূর্যোদয়, লাল-হলুদ হৃদয়ে অমর অরুণোদয়।’ মাঠে গিয়ে বহুবার ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ দেখেছেন রাহুল। ট্রফিখরা কাটিয়ে দল ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশা রাখতেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles