RK NEWZ দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিল, নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যে সমস্ত ভোটারদের নাম তালিকায় তোলার ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের আগে এক নজিরবিহীন নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া কয়েক লক্ষ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার আদালত জানিয়ে দিল, নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগেও ট্রাইব্যুনাল যদি কোনও ভোটারকে বৈধ হিসেবে ছাড়পত্র দেয়, তবে তিনিও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। সাধারণত প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে কমিশন ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দেয়। এরপর আর কোনও নাম তালিকায় ঢোকানো যায় না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এ দিন সেই প্রথা ভেঙে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম দফায় যে এলাকাগুলিতে ভোট রয়েছে, সেখানকার বাতিল ভোটাররা যদি ২১ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে যান, তবে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে আবেদনের নিষ্পত্তির সময়সীমা রাখা হয়েছে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ট্রাইব্যুনাল যদি কোনও আবেদনকারীর নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে তিনি ভোট দিতে পারবেন না। অর্থাৎ, স্রেফ আবেদন করলেই হবে না, ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত ছাড়পত্র থাকা আবশ্যিক। রাজ্যে মোট ৯১ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের সুবিধার্থে ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির একটি প্যানেল তৈরি করা হয়েছে, যাঁরা বর্তমানে ‘আপিল ট্রাইব্যুনাল’-এ নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে জানিয়েছে, ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের মোবাইল অ্যাপ বা কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। তবে ট্রাইব্যুনালে সশরীরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক নয়। জেলাশাসক বা মহকুমা শাসকের দফতরেও নথি জমা দেওয়া যাবে। রাজ্য বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে সুপ্রিম কোর্টের এই ‘ব্যতিক্রমী’ হস্তক্ষেপে রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ যেমন চড়ল, তেমনই কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটদানের পথ প্রশস্ত হল। নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত ভোটার তালিকা সংশোধনের এই সুযোগ সত্যিই ঐতিহাসিক।





