RK NRWZ কলকাতায় টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ এবং অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সার বিজেন্দ্র সিং-এর উপস্থিতিতে ঘটা করে এই কার্ড উন্মোচন করা হয়। প্রতিকী হিসেবে কয়েকজন যুবকের হাতে এই ‘যুবশক্তি ভরসা’ কার্ড তুলেও দেন দুই ক্রীড়াবিদ। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে জেতাই পাখির চোখ। আর সেই লক্ষ্য পূরণে রাজ্যের নারী এবং যুবসমাজের মন জিততে এবার সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। দলের তরফে প্রকাশিত ‘সংকল্পপত্রে’ যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সেই মতো কাজ এখন থেকেই শুরু করে দিয়েছে বিজেপি, মহিলাদের জন্য মাসে ৩,০০০ টাকার ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ড আনার পর, বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘যুবশক্তি ভরসা’ কার্ড প্রকাশ করল পদ্ম শিবির। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রত্যেক বেকার যুবককে মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কলকাতায় টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ এবং অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সার বিজেন্দ্র সিং-এর উপস্থিতিতে ঘটা করে এই কার্ড উন্মোচন করা হয়। প্রতিকী হিসেবে কয়েকজন যুবকের হাতে এই ‘যুবশক্তি ভরসা’ কার্ড তুলেও দেন দুই ক্রীড়াবিদ। বিজেপির দাবি, তারা ক্ষমতায় এলে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। এছাড়া সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের বয়সসীমায় ৫ বছরের ছাড় দেওয়া হবে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আন্তর্জাতিক বক্সার বিজেন্দ্র সিং তৃণমূল সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “বাঙালিরা যেমন বাসি মাছ পছন্দ করেন না, ঠিক তেমনই তারা বাসি সরকারও পছন্দ করেন না। তাই যুবশক্তি ও নারীশক্তির কাছে আমার আর্জি, এবার পরিবর্তনের জন্য বিজেপিকে ভোট দিন।” বাংলার যুবকদের ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন লন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। তাঁর কথায়, “যে কোনও মেট্রো শহরকে চুম্বকের মতো হতে হবে যাতে মানুষ সেখানে আসে। কিন্তু বাংলায় উল্টোটা হচ্ছে। শিল্প চলে যাচ্ছে, যুবকরা কাজ হারিয়ে ভিনরাজ্যে যাচ্ছে। এই বিষয়টা আমাকে খুব দুঃখ দিয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি।” তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং যুবসাথীকে টেক্কা দেওয়ার জন্য এই কার্ড নিয়ে এসে বিজেপি বুঝিয়ে দিল, রাজ্যের বড় দুটি ভোটব্যাঙ্ক – মহিলা ও যুব সমাজকে নিজেদের দিকে টানতে কোনও খামতি রাখছে না তারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা হিসেবে টাকার অঙ্ক বাড়ানোর এই রাজনীতি ইভিএমে কতটা ঝড় তোলে, সেটাই এখন দেখার।





