RK NEWZ শুক্রবার রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে ধুন্ধুমার! বিজেপি কর্মী ও অভিষেক অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষ! আহত একাধিক। ছেঁড়া হল ব্যানার, কাটআউট। চলে চোর, চোর স্লোগান। পালটা স্লোগান, হাতাহাতিতে ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে এলাকা। পুলিশের সামনেই বচসায় জড়ায় দু’পক্ষ। অভিষেরকের দাবি, বিজেপির দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে। তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর অনুগামীরা আহত। সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। ৭ নভেম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে তাঁর বাড়ির সামনে জমায়েত করেন তাঁর অনুগামীরা। সেই সময় বিজেপির কিছু কর্মী সমর্থকরা কালীঠাকুর আনতে যাচ্ছিলেন বলে দাবি। তখনই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। চোর স্লোগান দেওয়া হয়, ছেঁড়া হয় অভিষেকের ব্যানার, কাটআউট। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের অনুগামীরা বাধা দিলে হাতাহাতি বাধে। পুলিশ এসে দু’পক্ষকেই সরিয়ে দেয়। এরপরই বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন অভিষেক। তাঁকে দেখতে পেয়ে ফের শুরু হয় স্লোগান। চলে পালটা স্লোগানও। ধীরে ধীরে ফের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাড়ে পুলিশের সংখ্যা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বাড়ির নিচে বসে পড়েন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে বাড়ির ভিতরে যেতে বলে পুলিশ। অভিষেক যাননি। পুলিশের সঙ্গেও বচসায় জড়ান তিনি। অভিষেকের দাবি, পুলিশের সামনেই মারধর করা হয়েছে। পরে সকাল ৬টা নাগাদ বাড়িতে ঢোকেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) অভিষেকের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে শুক্রবার মধ্যরাতের পর তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। অভিযোগ, রাত ২টো নাগাদ আচমকাই সেখানে হাজির হন বিজেপি কর্মীরা এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, জন্মদিনের শুভেচ্ছায় টাঙানো অভিষেকের ছবি, কাটআউট ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূল সমর্থকরা এতে বাধা দিতে গেলে দুই শিবিরের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। এর পরে সংঘর্ষ বেধে যায়। রাতেই অভিষেক বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আহত অনুগামীদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেন, ‘‘হামলা করে আমাকে প্রাণে মারার চক্রান্ত চলছে।’’ এমনকী, হামলাকারীরা পুলিশের গালেও চড় মারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অন্য দিকে, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সম্পর্কে বলেন, ‘‘মানুষ যখন হেরে যায়, সেই সময় এই ধরনের কথা বলে।’’অভিষেক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমার বাড়ির উপর নজর রাখা হচ্ছে। তা জানিয়েছিলাম। তারপরই এই হামলা। আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাত দু’টোর সময় বিজেপির গুন্ডারা হামলা চালিয়েছে। আমার এক সহকর্মীর হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে।” তিনি আরও বলেন, “আমার উপর বারবার হামলা করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষ কী অবস্থায় আছেন তা বোঝা যাচ্ছে।” খবর পাওয়ার পর সকালে ঘটনাস্থলে যান মমতাপন্থী সাংসদ দোলা সেন। তিনি বলেন, “এভাবে চলতে পারে না। আইন রয়েছে। সর্বপরী মানুষ বিচার করবে।” পালটা দিলীপ ঘোষ বলেন, “এত বড় নেতা ফুটপাতে কেন জন্মদিন পালন করছেন। জানি না কী হয়েছে। মানুষের সহানুভূতি কোড়ানোর পুরনো পন্থা এটা।” বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা বলেন, “যাঁরা ঠক, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাঁদের মানুষ ছাড়বে কেন। যাঁরা ওদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁরা ছাড়বে কেন। চোর ও সাধারণ মানুষকে এক করলে হবে না।”





