RK NEWZ এশিয়ান গেমসের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের এড়িয়ে চললেন ভারতের মহিলা ক্রিকেটারেরা। প্রথা মেনে ব্রোঞ্জজয়ী ফতিমা সানাদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় হরমনপ্রীত কৌরদের ঢাল হলেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারেরা। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রীর হাত থেকে কি পদক নেবেন হরমনপ্রীত কৌরেরা? নকভি পদক দিতে আসেননি। তবে এশিয়ান গেমস থেকে দেশকে প্রথম সোনা এনে দিয়েও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সম্পূর্ণ এড়াতে পারলেন না ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। প্রথা মেনে ব্রোঞ্জজয়ী ফতিমা সানাদের সঙ্গে ছবি তুললেও দূরত্ব বজায় রাখলেন হরমনপ্রীতেরা। মেয়েদের ক্রিকেটে রুপো শ্রীলঙ্কার। পোডিয়ামে আগে ওঠেন পাকিস্তানের ক্রিকেটারেরা। তাঁদের ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়। তার পর শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের দেওয়া হয় রুপো। শেষে ভারতীয় ক্রিকেটারেরা পোডিয়ামে ওঠেন। পুরস্কার দেওয়ার জন্য নিশিন শহরের মেয়র, পুলিশ সুপার-সহ কয়েক জন আধিকারিক হাজির ছিলেন। তাঁরাই পদক পরিয়ে দেন। তার পর শুরু হয় ছবি তোলা। শুরুতে ভারতীয় দলের ছবি তোলা হয়। প্রথমে হরমনপ্রীতেরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তাঁরা কী করবেন বুঝতে পারছেন না। কয়েক জন পোডিয়াম থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁদের থামান ক্যামেরাম্যানেরা। ভারতের পর শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান দলেরও ছবি তোলা হয়। শেষে তিন দলের ক্রিকেটারদের এক জায়গায় দাঁড়াতে বলেন ক্যামেরাম্যানেরা। তখনই হয় বিপত্তি। ভারতীয় ক্রিকেটারদের দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তাঁরা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়াতে বা বসতে রাজি নন। বসে থাকা ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বাঁ দিকে ছিলেন রাধা যাদব। রাধা নিজের বাঁ পাশে শ্রীলঙ্কার দু’জন ক্রিকেটারকে বসান। তাঁদের পর পাকিস্তানের ক্রিকেটারেরা বসেন। অর্থাৎ, নীচের সারিতে ভারত এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মাঝে শ্রীলঙ্কার দু’জন ক্রিকেটার ছিলেন দেওয়াল হিসাবে। বলা যায়, রুপোজয়ী শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারেরাই হরমনপ্রীতদের অস্বস্তি ঢাকতে ঢাল হলেন। উপরের সারিতে সেই ছবি দেখা যায়নি। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বাঁ দিকে ছিলেন হরমনপ্রীত। তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা। অস্বস্তি এড়াতে হরমনপ্রীত নিজের ডান দিকের সতীর্থের কাছে সরে গিয়ে ফাতিমার সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করেন। ছবি তোলার সময় অবশ্য পদকজয়ী তিন দলের ক্রিকেটারদের মুখেই হাসি ছিল। ছবি তোলার পর শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলান ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। তবে পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাননি তাঁরা। উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলান না ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। কথাও বলেন না। ২২ গজের এই প্রতিবাদ ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ থেকে শুরু করেন সূর্যকুমার যাদবেরা।
মহিলাদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে হারিয়ে সোনা জিতেছে ভারত। টানা দু’বার সোনা জিতলেন হরমনপ্রীতেরা। প্রথমে ব্যাট করে হরমনপ্রীতেরা করেন ৩ উইকেটে ২১৬ রান। ভারতের হয়ে ভাল ব্যাট করেন শেফালি বর্মা (২৯ বলে ৪৮), স্মৃতি মন্ধানা (৪৫ বলে ৭৯) এবং রিচা ঘোষ (২২ বলে অপরাজিত ৪৯)। জবাবে শ্রীলঙ্কার ইনিংস ১৫.৪ ওভারে ৬৯ রানে শেষ হয়ে যায়। অধিনায়ক চামারি আটাপাট্টু (২১ বলে ২৯) ছাড়া কেউ রান পাননি। ভারতের সফলতম বোলার দীপ্তি শর্মা ৬ রানে ৩ উইকেট নেন। ৩ রানে ২ উইকেট শেফালির। ৯ রানে ২ উইকেট শ্রেয়াঙ্কা পটেলের। ১৩ রানে ২ উইকেট শ্রী চরণীর। রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল শ্রীলঙ্কাকে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কেবল এবং কেবল সোনা জয়ই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বলেই জানান বাংলার তারকা ক্রিকেটার কিপার-ব্যাটার রিচা ঘোষ। এই সাফল্যের জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আসল কারণ বলে সাফ জানিয়ে দেন রিচা ঘোষ। পাশাপাশি ব্য়ক্তিগতভাবেও যে খুব খুশি, সেটাও বলেন রিচা। ‘আমি খুবই খুশি কারণ সকলেই আমরা সোনা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলছিলাম। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল কেবল সোনা জয়। তাই আমরা সকলেই এই ফলাফলে খুব খুশি এবং ব্যক্তিগতভাবেও আমি খুব আনন্দিত। এই টুর্নামেন্টে আমরা এমন ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলেছি যাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই খেলে আসছি। আমরা এখানে তো বটেই, এশিয়া কাপেও ভাল পারফর্ম করেছি। দলগতভাবে আমরা খুব ভাল খেলেছি, খেলাটা উপভোগ করেছি এবং একসঙ্গে জয়টাও উদযাপন করেছি।’



